ছায়ানট ও ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত-নৃত্যকলার ‘সম্মিলিত অভিযাত্রা’

সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট এবং দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত ও নৃত্যকলা বিভাগের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে শুরু হচ্ছে এক নতুন সাংস্কৃতিক উদ্যোগ ‘সম্মিলিত অভিযাত্রা’। সংগীতের মাধ্যমে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতিনির্ভর সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এই প্ল্যাটফর্‌ম চলতি বছরের শীতে আয়োজন করতে যাচ্ছে একটি দিনব্যাপী বৃহৎ সংগীত সম্মেলন। সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনের রমেশচন্দ্র দত্ত স্মৃতি মিলনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় জানানো হয়, স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে দেশজুড়ে সংগীতচর্চা বিস্তারে কাজ করবে এই সম্মিলিত উদ্যোগ। পাশাপাশি শিশু স্তর থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগীত শিক্ষা চালু করা এবং জাতীয় পাঠ্যক্রমে সংগীতকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। প্রাথমিক স্তরে সংগীত শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভূমিকায় সন্তোষও প্রকাশ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ছায়ানটের সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী। পরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সংগীতের মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর পাশাপাশি সংগীত শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের বিষয়েও কাজ করা হবে

ছায়ানট ও ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত-নৃত্যকলার ‘সম্মিলিত অভিযাত্রা’
সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট এবং দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত ও নৃত্যকলা বিভাগের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে শুরু হচ্ছে এক নতুন সাংস্কৃতিক উদ্যোগ ‘সম্মিলিত অভিযাত্রা’। সংগীতের মাধ্যমে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতিনির্ভর সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এই প্ল্যাটফর্‌ম চলতি বছরের শীতে আয়োজন করতে যাচ্ছে একটি দিনব্যাপী বৃহৎ সংগীত সম্মেলন। সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনের রমেশচন্দ্র দত্ত স্মৃতি মিলনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় জানানো হয়, স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে দেশজুড়ে সংগীতচর্চা বিস্তারে কাজ করবে এই সম্মিলিত উদ্যোগ। পাশাপাশি শিশু স্তর থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগীত শিক্ষা চালু করা এবং জাতীয় পাঠ্যক্রমে সংগীতকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। প্রাথমিক স্তরে সংগীত শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভূমিকায় সন্তোষও প্রকাশ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ছায়ানটের সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী। পরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সংগীতের মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর পাশাপাশি সংগীত শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের বিষয়েও কাজ করা হবে।  তিনি আরও বলেন, শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করে এই উদ্যোগের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. প্রিয়াংকা গোপ। বক্তব্য দেন ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা ও সহসভাপতি পার্থ তানভীর নভেদ। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সংগীত শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং সমাজ গঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা অতিক্রম করে সংগীত মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও মানবিকতা জাগ্রত করে। অন্যায়-অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও সংগীত একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে আসছে। বক্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে একটি মহলের সংগীতবিরোধী মনোভাব সমাজে শঙ্কা তৈরি করছে। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী-গোষ্ঠী, ছায়ানট এবং বাউল ধারার ওপর হামলার ঘটনাকে এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সভায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা সংগীতচর্চার বর্তমান সংকট, সম্ভাবনা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং নির্বিঘ্ন সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, এই সম্মিলিত উদ্যোগ এককালীন আয়োজন না হয়ে দীর্ঘমেয়াদি সাংস্কৃতিক আন্দোলনে রূপ নেবে। ড. প্রিয়াংকা গোপ বলেন, নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে স্বেচ্ছাসেবী সংগীতচর্চার একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে জাতীয় সংগীতের সঠিক পরিবেশন, দেশাত্মবোধক ও জাগরণী গান, সম্প্রীতির গান এবং ঋতুভিত্তিক বাংলার সংগীত সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। সভায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত ও নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষক-প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সম্মিলিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য— সংগীতকে কেন্দ্র করে একটি মানবিক, নান্দনিক ও সচেতন সমাজ গড়ে তোলা এবং সংগীতচর্চার জন্য একটি নিরাপদ ও উন্মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow