ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাত নিয়েও ছেলেকে নিতে স্কুলে গিয়েছিলেন তৌসিফের মা

মা দিবসে মাকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মায়ের সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করে শৈশবের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, আজকের তৌসিফ হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তার মায়ের। গণমাধ্যমকে এ অভিনেতা জানান, ১৯৯৮-৯৯ সালের এক শীতের সন্ধ্যার কথা। তখন তিনি অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ক্লাস ফাইভে পড়তেন। প্রতিদিন স্কুল ছুটির পর তার বাবা কিংবা খালু তাকে নিতে যেতেন। তবে একদিন সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও কেউ তাকে নিতে আসেননি। স্কুলের সব শিক্ষার্থী চলে যাওয়ার পর তিনি একা বসে ছিলেন দারোয়ানের কক্ষে। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে তৌসিফ লেখেন, তখন ধানমন্ডি এলাকায় সন্ধ্যার পর ছিনতাইকারী ও ডাকাতদের উপদ্রব ছিল ভয়াবহ। সময় গড়িয়ে সন্ধ্যা সাতটা পেরিয়ে গেলেও কেউ না আসায় তার মনে প্রচণ্ড অভিমান আর রাগ জমতে থাকে। একপর্যায়ে একটি রিকশার শব্দ শুনে দারোয়ান তাকে জানান, তার মা এসেছেন। মাকে দেখে তিনি রাগ প্রকাশ করতে শুরু করেন। তখন রিকশাচালক তাকে থামিয়ে জানান, ছিনতাইকারীরা তার মায়ের পেটে ছুরিকাঘাত করে সঙ্গে থাকা সবকিছু নিয়ে গেছে। তৌসিফ জানান, রক

ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাত নিয়েও ছেলেকে নিতে স্কুলে গিয়েছিলেন তৌসিফের মা

মা দিবসে মাকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মায়ের সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করে শৈশবের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, আজকের তৌসিফ হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তার মায়ের।

গণমাধ্যমকে এ অভিনেতা জানান, ১৯৯৮-৯৯ সালের এক শীতের সন্ধ্যার কথা। তখন তিনি অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ক্লাস ফাইভে পড়তেন। প্রতিদিন স্কুল ছুটির পর তার বাবা কিংবা খালু তাকে নিতে যেতেন। তবে একদিন সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও কেউ তাকে নিতে আসেননি। স্কুলের সব শিক্ষার্থী চলে যাওয়ার পর তিনি একা বসে ছিলেন দারোয়ানের কক্ষে।

সেই সময়ের কথা স্মরণ করে তৌসিফ লেখেন, তখন ধানমন্ডি এলাকায় সন্ধ্যার পর ছিনতাইকারী ও ডাকাতদের উপদ্রব ছিল ভয়াবহ। সময় গড়িয়ে সন্ধ্যা সাতটা পেরিয়ে গেলেও কেউ না আসায় তার মনে প্রচণ্ড অভিমান আর রাগ জমতে থাকে।

একপর্যায়ে একটি রিকশার শব্দ শুনে দারোয়ান তাকে জানান, তার মা এসেছেন। মাকে দেখে তিনি রাগ প্রকাশ করতে শুরু করেন। তখন রিকশাচালক তাকে থামিয়ে জানান, ছিনতাইকারীরা তার মায়ের পেটে ছুরিকাঘাত করে সঙ্গে থাকা সবকিছু নিয়ে গেছে।

তৌসিফ জানান, রক্তাক্ত অবস্থাতেও তার মা কোনো হাসপাতালে না গিয়ে সোজা ছেলের স্কুলে ছুটে যান। কারণ, তার চিন্তা ছিল-স্কুল ছুটির অনেকক্ষণ পরও ছোট্ট ছেলে একা অপেক্ষা করছে।

এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে অভিনেতা লেখেন, ‘আমি থ হয়ে গিয়েছিলাম। এটাই হচ্ছে আমার মা। ছোটবেলা থেকে আমাকে নিয়ে মায়ের এমন অসংখ্য ত্যাগ, যত্ন আর ভালোবাসার গল্প রয়েছে। আমার মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম আর অবদানের ফলেই আজকের আমি হয়ে উঠতে পেরেছি।’

আরও পড়ুন:
মৌসুমীকে বিয়ের অজানা গল্প জানিয়ে মাকে স্মরণ করলেন ওমর সানী 
নায়ক মান্না ও থালাপতি বিজয় একসঙ্গে, ভাইরাল ছবি নিয়ে তুমুল রহস্য 

মায়েদের ত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি মা-ই সন্তানের জন্য নিরন্তর পরিশ্রম করেন, নীরবে কষ্ট সহ্য করেন এবং সন্তানকে মানুষ করতে নিজের সবকিছু উজাড় করে দেন।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে সব মায়ের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন তৌসিফ মাহবুব। পাশাপাশি পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া মায়েদের জন্য দোয়া করে তিনি লেখেন, ‘আজকের এই বিশেষ দিনে আমার মা-সহ পৃথিবীর সব মাকে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর সালাম জানাই।’

এমএমএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow