ছয় বিশ্বকাপ খেলে অবশেষে থামার ঘোষণা দিলেন ওচোয়া
২০২৬ বিশ্বকাপ এমন তিনজন ফুটবলারকে উপহার দিয়েছে, যারা বিশ্বকাপ ইতিহাসে বিরল কৃতিত্বের জন্ম দিয়েছেন। বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম তিনজন ফুটবলার ৬টি বিশ্বকাপ খেলার গৌরব অর্জন করেছেন। তাদের মধ্যে একজন মেক্সিকো গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া। বাকি দু’জন লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। মেক্সিকোর কিংবদন্তি গোলরক্ষক ওচোয়া ২২ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় পেশাদার ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ৪১ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো এমন এক অধ্যায়, যেখানে তিনি ইতিহাসের মাত্র কয়েকজন ফুটবলারের কাতারে নাম লিখিয়েছেন- ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনন্য কীর্তি গড়ে। অবসরের ঘোষণায় ওচোয়া লিখেছেন, ‘আমি আমার সবটুকু দিয়েছি। ক্লাব ও জাতীয় দলের জন্য মাঠে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি। এখন সময় এসেছে গ্লাভস তুলে রাখার।’ মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে বিবেচিত ওচোয়ার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ২০০৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। সেদিন দেশটির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ‘ক্লাব আমেরিকা’র জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল তার। সে সময় দলের কোচ ছিলেন নেদারল্যান্
২০২৬ বিশ্বকাপ এমন তিনজন ফুটবলারকে উপহার দিয়েছে, যারা বিশ্বকাপ ইতিহাসে বিরল কৃতিত্বের জন্ম দিয়েছেন। বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম তিনজন ফুটবলার ৬টি বিশ্বকাপ খেলার গৌরব অর্জন করেছেন। তাদের মধ্যে একজন মেক্সিকো গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া। বাকি দু’জন লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
মেক্সিকোর কিংবদন্তি গোলরক্ষক ওচোয়া ২২ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় পেশাদার ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ৪১ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো এমন এক অধ্যায়, যেখানে তিনি ইতিহাসের মাত্র কয়েকজন ফুটবলারের কাতারে নাম লিখিয়েছেন- ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনন্য কীর্তি গড়ে।
অবসরের ঘোষণায় ওচোয়া লিখেছেন, ‘আমি আমার সবটুকু দিয়েছি। ক্লাব ও জাতীয় দলের জন্য মাঠে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি। এখন সময় এসেছে গ্লাভস তুলে রাখার।’
মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে বিবেচিত ওচোয়ার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ২০০৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। সেদিন দেশটির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ‘ক্লাব আমেরিকা’র জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল তার। সে সময় দলের কোচ ছিলেন নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞ লিও বেনহাকার।
জাতীয় দলের হয়ে তার যাত্রা শুরু হয় ২০০৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর। আর্জেন্টাইন কোচ রিকার্দো লা ভলপের অধীনে প্রথমবারের মতো মেক্সিকোর জার্সি গায়ে চাপান তিনি। এরপর দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের অন্যতম নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠেন। দীর্ঘ এই সময়ে মেক্সিকোর জার্সি গায়ে তিনি খেলেন ১৫৩টি ম্যাচ।
ক্যারিয়ারে সাতটি দেশের মোট নয়টি ক্লাবের হয়ে খেলেছেন ওচোয়া। ইউরোপের বিভিন্ন লিগে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি ছিলেন মেক্সিকোর সবচেয়ে পরিচিত মুখগুলোর একজন।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ওচোয়ার নাম উচ্চারিত হয় বিশেষ মর্যাদায়। ২০০৬ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার পর থেকে ২০২৬ পর্যন্ত টানা ছয়টি বিশ্বকাপে মেক্সিকোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। বিভিন্ন আসরে দুর্দান্ত সব সেভ করে অসংখ্যবার দলকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। বিশেষ করে ব্রাজিলের বিপক্ষে ২০১৪ বিশ্বকাপে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স আজও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমলিন।
২০২৬ বিশ্বকাপেই জাতীয় দলের হয়ে শেষবার মাঠে নামেন ওচোয়া। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে অ্যাজতেকা স্টেডিয়ামে ৭৮তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। তখন গ্যালারিতে উপস্থিত ৮০ হাজারের বেশি দর্শক দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে তাকে সম্মান জানান। সতীর্থরাও মাঠে তাকে ঘিরে আবেগঘন বিদায় জানান, যা হয়ে থাকবে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।
গোলরক্ষক হিসেবে শুধু দক্ষতাই নয়, নেতৃত্বগুণ, অভিজ্ঞতা এবং কঠিন মুহূর্তে দলকে উজ্জীবিত করার ক্ষমতার জন্যও আলাদা পরিচিতি ছিল ওচোয়ার। প্রায় দুই যুগের ক্যারিয়ারে তিনি হয়ে উঠেছিলেন মেক্সিকান ফুটবলের এক প্রতীক।
তার অবসরের মধ্য দিয়ে মেক্সিকো ফুটবল হারাল এমন এক অভিজ্ঞ যোদ্ধাকে, যিনি একাধিক প্রজন্মের ফুটবলপ্রেমীর কাছে বিশ্বকাপের সমার্থক এক নাম হয়ে থাকবেন।
আইএইচএস/
What's Your Reaction?