জমি দিয়েও চাকরি পাননি দুই বোন, ১৪ বছর ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন

নাটোরের গুরুদাসপুরে নাজিরপুর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে জমি রেজিস্ট্রি করে দিলেও জমিদাতার দুই মেয়েকে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি দেওয়া হয়নি। নিয়োগ পেলেও স্কুল থেকে বিতাড়িত হয়েছেন দুই বোন। চাকরি বহালের জন্য গত ১৪ বছর ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তারা। সুবিচার পেতে বিদ্যালয়ের তৎকালীন পরিচালনা কমিটির দুর্নীতি ও শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের তদন্ত করে চাকরি পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওই দাবি করেন ভুক্তভোগী জান্নাতুল ফেরদৌসী ও সুমাইয়া খাতুন। এসময় জমিদাতা কোবাদ আলী ও বদর আলীসহ মুক্তার আহমেদ, জয়নুল আবেদীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।অভিযোগে বলা হয়, ২০১০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় স্থানীয় কোবাদ আলীর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসী এবং তার ছোটভাই বদর আলীর মেয়ে সুমাইয়া খাতুনকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৩৭ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে নেন কমিটির লোকজন। সেসময় কমিটির সভাপতি ছিলেন মোবারক হোসেন। এরপর ওই দুই বোনকে ২০১২ সালের ৬ জানুয়ারি নিয়োগপত্র দিলে তারা নিয়ম মেনে শিক্ষকতা শুরু করেন। কিন্তু বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি

জমি দিয়েও চাকরি পাননি দুই বোন, ১৪ বছর ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন

নাটোরের গুরুদাসপুরে নাজিরপুর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে জমি রেজিস্ট্রি করে দিলেও জমিদাতার দুই মেয়েকে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি দেওয়া হয়নি। নিয়োগ পেলেও স্কুল থেকে বিতাড়িত হয়েছেন দুই বোন। চাকরি বহালের জন্য গত ১৪ বছর ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তারা। সুবিচার পেতে বিদ্যালয়ের তৎকালীন পরিচালনা কমিটির দুর্নীতি ও শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের তদন্ত করে চাকরি পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওই দাবি করেন ভুক্তভোগী জান্নাতুল ফেরদৌসী ও সুমাইয়া খাতুন। এসময় জমিদাতা কোবাদ আলী ও বদর আলীসহ মুক্তার আহমেদ, জয়নুল আবেদীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় স্থানীয় কোবাদ আলীর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসী এবং তার ছোটভাই বদর আলীর মেয়ে সুমাইয়া খাতুনকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৩৭ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে নেন কমিটির লোকজন। সেসময় কমিটির সভাপতি ছিলেন মোবারক হোসেন। এরপর ওই দুই বোনকে ২০১২ সালের ৬ জানুয়ারি নিয়োগপত্র দিলে তারা নিয়ম মেনে শিক্ষকতা শুরু করেন। কিন্তু বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পরিবর্তন হলে ২০১২ সালের ৬ মার্চ জোরপূর্বক দখলে থাকা বর্তমান প্রধান শিক্ষক জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী রিতা খাতুনকে ১৩ মার্চ ২০১২ সালে নিয়োগ দেখানো হয়। এরপর ফেরদৌসী ও সুমাইয়াকে মারধর করে স্কুল থেকে বের করে দেন জিয়াউর ও রিতার আত্মীয় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আদরী খাতুন ও তার সহযোগীরা।

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে বারবার ধরনা দিয়েও ফল পাননি দুই বোন। তদন্তপূর্বক নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী রিতা খাতুনকে বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানান ভুক্তভোগীসহ তাদের পরিবার।

স্থানীয় মুক্তার আহমেদ ও জয়নুল আবেদীন বলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুসের ষড়যন্ত্রের শিকার তারা। ২০১৮ সালে শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষর জাল করে শিক্ষা অধিদপ্তরে দুই বোনকে বাদ দিয়ে জিয়া ও রিতার নামে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর বেতন প্রদানের তালিকা পাঠানো হয়। বিষয়টি জানতে পেরে হাইকোর্ট ও জেলা কোর্টে রিট করে জিয়াউর ও রিতার বেতনের ওপর চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আনা হয়।

উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি শাহ আলম শাহীন বলেন, ভুক্তভোগীদের দাবি আইনসম্মত হলে তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা হোক। অভিযোগ অস্বীকার করে জিয়াউর রহমান বলেন, তাদের কোনো অভিযোগই সত্য নয়। ২০২০ সালে ঢাকা থেকে তদন্ত টিম এসেছিল। তখন তাদের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তারা মূলত পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে আমাদের বিরোধিতা করে হেনস্তা করছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জনাব আলী বলেন, কোনো পক্ষের নিয়োগের কাগজপত্র আমার অফিসে নেই। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জিয়া ও রিতাকে বেতন ভাতা দেওয়ার চিঠি দিলেও কাগজপত্র না থাকায় আমি তা আমলে নেইনি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow