জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ, প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি মার্কেটের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মো. আলমগীর নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার বালাসুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. আলমগীর (৪৫) একই এলাকার বাসিন্দা।   আহতরা হলেন- নিহত আলমগীরের ভাই তমিজ উদ্দিন (৬৫), জাহাঙ্গীর (৫৫), মো. তারেক (৩৫), তানসেল (২২), তুষার (২৪), আব্দুর রহমানসহ (২৩) ১৩ জন। এদের মধ্যে আটজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।  স্থানীয় ও নিহতের পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর তার ভাই তমিজউদ্দীনের সঙ্গে যৌথভাবে বালাসুর বাজারে ‘তমি মার্কেট’ নামে একটি মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ওই জায়গাটিতে স্থানীয় হান্নান হাজি, মানিক ও তাপস নামের কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ওয়ারিশের মালিকানা রয়েছে দাবি করে আদালতে মামলা করেন। তবে সম্প্রতি মামলার রায়ে আলমগীররা বহাল থাকেন। তবে জায়গাটি কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চায়নি হান্নান হাজি, মানিক ও তাপসরা। তারা কয়েকদিন আগে রাতের আঁধারে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ও

জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ, প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি মার্কেটের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মো. আলমগীর নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার বালাসুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. আলমগীর (৪৫) একই এলাকার বাসিন্দা।  

আহতরা হলেন- নিহত আলমগীরের ভাই তমিজ উদ্দিন (৬৫), জাহাঙ্গীর (৫৫), মো. তারেক (৩৫), তানসেল (২২), তুষার (২৪), আব্দুর রহমানসহ (২৩) ১৩ জন। এদের মধ্যে আটজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। 

স্থানীয় ও নিহতের পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর তার ভাই তমিজউদ্দীনের সঙ্গে যৌথভাবে বালাসুর বাজারে ‘তমি মার্কেট’ নামে একটি মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ওই জায়গাটিতে স্থানীয় হান্নান হাজি, মানিক ও তাপস নামের কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ওয়ারিশের মালিকানা রয়েছে দাবি করে আদালতে মামলা করেন। তবে সম্প্রতি মামলার রায়ে আলমগীররা বহাল থাকেন। তবে জায়গাটি কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চায়নি হান্নান হাজি, মানিক ও তাপসরা। তারা কয়েকদিন আগে রাতের আঁধারে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ওই জায়গা দখলের চেষ্টা চালান।

মঙ্গলবার ভোরে পুনরায় দেশীয় অস্ত্রসহ বাহিনী নিয়ে নির্মাণাধীন ওই মার্কেট দখলের চেষ্টা করে হান্নান হাজীরা। এতে আলমগীর, তার ভাই ও স্বজনরা বাধা দেন। সেই সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় আলমগীরকে উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানেও পুনরায় হাসপাতাল গেটেও প্রতিপক্ষ লোকজন বেধড়ক মারধর করে।  

শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ক্যামেলিয়া সরকার বলেন, ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ১৩ জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। সেই সময় আলমগীরসহ ৮ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়। পরবর্তীতে আলমগীর নামে একজন মারা গেছে বলে জানা গেছে। নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।

শ্রীনগর থানার ওসি জুয়েল মিয়া বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ জনতা শ্রীনগর-দোহার সড়ক অবরোধ করেছিল। সেই সঙ্গে সড়কের মধ্যে আগুন জ্বালিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দুপুর পৌনে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ও বিক্ষুব্ধদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow