জলাবদ্ধতার সমাধান খুঁজতে কমিটির প্রথম বৈঠক আজ
চট্টগ্রাম নগরীর খাল, নালা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সমন্বিত ব্যবস্থাপনা জোরদার বা নিরসন করার লক্ষ্যে নতুন করে গঠিত ১৯ সদস্যের সমন্বয় কমিটির প্রথম সভা আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গঠিত এই কমিটির সভা ঘিরে নগরবাসীর মধ্যে নতুন করে আশার পাশাপাশি কৌতূহলও তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সম্মেলন কক্ষে এই প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন কমিটির আহ্বায়ক ও চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সভা শেষে একই স্থানে একটি প্রেস ব্রিফিং আয়োজনের কথাও জানানো হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন কালবেলাকে বলেন,নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। কোথায় সমস্যা, কোন খাল বা ড্রেন বন্ধ এবং কোথায় নির্মাণসামগ্রী পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে এসব দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধান করতে হবে। চাকতাই, মুরাদপুর, রামপুর খাল, আছদগঞ্জ খাল, গাউছিয়া রোড, গুলজার খাল ও মাদারবাড়ী এলাকার জলাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে বলেন, এসব এলাকায় খাল ও ড্রেনে জমে থাকা নির্মাণসামগ্রী দ্রুত অপসারণ করতে হবে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি কঠ
চট্টগ্রাম নগরীর খাল, নালা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সমন্বিত ব্যবস্থাপনা জোরদার বা নিরসন করার লক্ষ্যে নতুন করে গঠিত ১৯ সদস্যের সমন্বয় কমিটির প্রথম সভা আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গঠিত এই কমিটির সভা ঘিরে নগরবাসীর মধ্যে নতুন করে আশার পাশাপাশি কৌতূহলও তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সম্মেলন কক্ষে এই প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন কমিটির আহ্বায়ক ও চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সভা শেষে একই স্থানে একটি প্রেস ব্রিফিং আয়োজনের কথাও জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন কালবেলাকে বলেন,নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। কোথায় সমস্যা, কোন খাল বা ড্রেন বন্ধ এবং কোথায় নির্মাণসামগ্রী পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে এসব দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধান করতে হবে।
চাকতাই, মুরাদপুর, রামপুর খাল, আছদগঞ্জ খাল, গাউছিয়া রোড, গুলজার খাল ও মাদারবাড়ী এলাকার জলাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে বলেন, এসব এলাকায় খাল ও ড্রেনে জমে থাকা নির্মাণসামগ্রী দ্রুত অপসারণ করতে হবে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে । তাছাড়া আজ বৃহস্পিতবার সমন্বয় কমিটির বৈঠকে আরো বিস্তারিত আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের কাজ করা হবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে গঠিত এই ১৯ সদস্যের কমিটিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম ওয়াসা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশসহ অন্যান্য সেবা সংস্থার প্রতিনিধিরা। কমিটির প্রধান দায়িত্ব হবে নগরীর খাল ও নালা নিয়মিত সচল রাখা, উন্নয়ন প্রকল্পের সমন্বয় করা এবং বর্ষা মৌসুমে দ্রুত পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করা।
চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা নতুন নয়। গত এক দশকে নগরীতে একাধিকবার বড় ধরনের জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত চার বছরে অন্তত ৩০ বার নগরী বিভিন্ন মাত্রার জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে। এর মধ্যে ২০২২ সালে ১০ বার, ২০২৩ সালে ১৪ বার এবং ২০২৪ সালে ৬ বার জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ২০২৫ সালে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ভারী বৃষ্টিতে আবারও একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটে।
প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ লাখ মানুষের বসবাসের এই বন্দরনগরী প্রাকৃতিকভাবে পাহাড়, নদী, সমুদ্র ও ঢালুভূমির সমন্বয়ে গঠিত। তবে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব, খাল দখল ও ভরাট, এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, নগরীতে জলাবদ্ধতা ৩০ মিনিট থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং অনেক সময় পানির গভীরতা ০.৫০ থেকে ১.৬০ মিটার পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে জলাবদ্ধতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা দেখা গেছে। জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম–১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি তুলে ধরেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিদর্শন করা হয়। এই সময় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এর আগেও তিনি নগরীর প্রবর্তক মোড়সহ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতার ছবি ও ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকার ডুবে যাওয়া সড়ক, যানবাহন আটকে পড়া এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের দৃশ্য ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। এসব পোস্টের সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বক্তব্যও জুড়ে দেওয়া হয়, যা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও জলাবদ্ধতা নিয়ে বক্তব্য আসে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনরত তারেক রহমান জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত নগরবাসীর প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানে সরকারের উদ্যোগ চলমান রয়েছে বলে জানান। তিনি জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্টদের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের পর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আবারও প্রকট আকার ধারণ করে। বিশেষ করে চকবাজার, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, প্রবর্তক মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) তথ্য অনুযায়ী, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে একাধিক মেগা প্রকল্প চলমান রয়েছে। প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডও (ইসিবি) কাজ করছে। প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খালের মধ্যে ৩৪টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকিগুলোর কাজ চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়। প্রকল্পের অগ্রগতি প্রায় ৯০ শতাংশ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে।
২০১৭ সালে সিডিএ ৩৬টি খাল নিয়ে একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করে, যার প্রাথমিক ব্যয় ছিল ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা। পরবর্তীতে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকায়। প্রকল্পের আওতায় ১৭৬ কিলোমিটার প্রতিরক্ষা দেয়াল, ৪৫টি সেতু, ৬টি কালভার্ট, ৪২টি সিল্ট ট্র্যাপ, ৫টি রেগুলেটর, নতুন নালা ও খাল সম্প্রসারণসহ নানা অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম বলেন,'খাল উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় কিছুটা দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে,তবে কাজ শেষ হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। উন্নয়ন কাজের সময় সাময়িক কষ্ট হলেও এর সুফল ভবিষ্যতে পাওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, মানুষের অপারেশনের সময় যেমন কিছুটা কষ্ট হয়, তেমনি উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে কিছু ভোগান্তি হয়েছে। নির্ধারিত সময় ১৫ মে’র মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও কিছু জটিলতায় বিলম্ব হয়েছে, তবে দ্রুত কাজ শেষ করে নগরবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তবে এসব প্রকল্পের বড় অংশ শেষ হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল এখনো পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়নি। বর্ষা মৌসুমে স্বল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই আবারও নগরীর বিভিন্ন অংশে পানি জমে যায়। এতে প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নও ওঠে। বিশেষ করে হিজড়া খালসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খালের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া এবং কিছু এলাকায় বাঁধ ও বাধার কারণে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে জলাবদ্ধতার কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। গত এক দশকে চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই, আসাদগঞ্জ ও কোরবানীগঞ্জ এলাকায় প্রায় ২ হাজার ৫১৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পাশাপাশি হাজার হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে পরিবহন ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়, জলাবদ্ধতার কারণে শহরের কয়েকশ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ফুটপাত ও ড্রেন ব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়েছে। এতে নাগরিক জীবনযাত্রা আরও জটিল হয়ে পড়ে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন গঠিত ১৯ সদস্যের কমিটি নিয়ে এখন প্রশাসনিক পর্যায়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। কমিটির প্রথম সভায় মূলত খাল ও নালা ব্যবস্থাপনা, বর্ষা মৌসুমের প্রস্তুতি, চলমান প্রকল্পের সমন্বয় এবং জরুরি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা দীর্ঘদিনের হলেও এখন পর্যন্ত এর পূর্ণাঙ্গ সমাধান পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন সময় গৃহীত প্রকল্প, বাজেট এবং প্রশাসনিক উদ্যোগ সত্ত্বেও বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে বারবার একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ফলে নতুন কমিটির প্রথম সভা এবং এর ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তগুলো নগরবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা আগামী দিনের জলাবদ্ধতা ব্যবস্থাপনার দিকনির্দেশনা নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।
চসিকের দেওয়া তথ্যমতে, নগরীর পানি চলাচলের পথ নির্বিঘ্ন করতে ৫০০টিরও বেশি ছোট-বড় নালা এবং ২৫টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ খাল থেকে পলি ও আবর্জনা অপসারণের কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সক্রিয় ১৯ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। আর সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিডিএর প্রকল্প পরিচালক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প পরিচালক, জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ কমিশনারের (ট্রাফিক) প্রতিনিধি।
কমিটির উল্লেখযোগ্য অন্য সদস্যরা হলেন—চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক, চসিকের প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা। এছাড়া বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে চসিকের খাল ও জলাবদ্ধতা বিশেষজ্ঞ শাহরিয়ার খালেদকে।
কেন এই সমন্বয় কমিটি
বিগত কয়েক বছরে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে তার সুফল পাচ্ছিল না নগরবাসী। সিডিএ’র মেগা প্রকল্পের কাজ চলাকালীন নালা ও খালের বাঁধ অপসারণ বা রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রায়ই চসিক ও সিডিএ’র মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেখা যেত। সর্বশেষ মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি উঠে যায়। জলাবদ্ধতার এই চিত্র নিয়ে আলোচনা হয় সংসদেও। পরবর্তীতে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে চট্টগ্রাম আসেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় ১৯ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
What's Your Reaction?