জাজিরায় ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণ: উদ্ধার হলো বোমা তৈরির সরঞ্জাম

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নে বোমা বিস্ফোরণে ২ জন নিহত ও ১ জন আহত হওয়ার ঘটনায় অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল ও সিআইডি ক্রাইম সিন ইউনিটের ১৬ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ সময় তারা বোমা তৈরির বিভিন্ন ধরনের আলামত উদ্ধার করে।শুক্রবার সকালে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামের বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বসতঘর থেকে এসব বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিমের শংকর কুমার ঘোষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, সকাল সাড়ে দশটা থেকে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিমের ১০ জন এবং সিআইডি ক্রাইম সিন ইউনিটের ৬ জন কাজ করছেন। তাঁরা ঘটনাস্থলসহ এর আশপাশ পরিদর্শন করেছেন। এ সময় বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামাদি আলামত হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছে। বোমা তৈরির সরঞ্জামাদির মধ্যে পাওয়া গেছে গান পাউডার, স্প্লিন্টার, ভাঙা কাচ, তারের কাঁটা, কস্টটেপ, জর্দার কৌটা, মার্বেল পাথর। মূলত বোমা তৈরির জন্য যেসব সরঞ্জামাদি ব্যবহার হয়, তার অধিকাংশই ঘটনাস্থলে পাওয়া গিয়েছে। আলামতগুলো উদ্ধার করে জাজিরা থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। পরে জাজিরা থানা পর

জাজিরায় ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণ: উদ্ধার হলো বোমা তৈরির সরঞ্জাম

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নে বোমা বিস্ফোরণে ২ জন নিহত ও ১ জন আহত হওয়ার ঘটনায় অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল ও সিআইডি ক্রাইম সিন ইউনিটের ১৬ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ সময় তারা বোমা তৈরির বিভিন্ন ধরনের আলামত উদ্ধার করে।

শুক্রবার সকালে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামের বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বসতঘর থেকে এসব বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।

অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিমের শংকর কুমার ঘোষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সকাল সাড়ে দশটা থেকে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিমের ১০ জন এবং সিআইডি ক্রাইম সিন ইউনিটের ৬ জন কাজ করছেন। তাঁরা ঘটনাস্থলসহ এর আশপাশ পরিদর্শন করেছেন। এ সময় বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামাদি আলামত হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছে। বোমা তৈরির সরঞ্জামাদির মধ্যে পাওয়া গেছে গান পাউডার, স্প্লিন্টার, ভাঙা কাচ, তারের কাঁটা, কস্টটেপ, জর্দার কৌটা, মার্বেল পাথর। মূলত বোমা তৈরির জন্য যেসব সরঞ্জামাদি ব্যবহার হয়, তার অধিকাংশই ঘটনাস্থলে পাওয়া গিয়েছে। আলামতগুলো উদ্ধার করে জাজিরা থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। পরে জাজিরা থানা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

স্থানীয়রা জানান, যে টিনের ঘরে ঘটনাটি ঘটেছে, দুই মাস আগে আবু সিদ্দিক ব্যাপারীর ছেলে সাগর বেপারী সেটি নির্মাণ করেছিলেন।

থানা সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী জলিল মাদবরের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়েছিল। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই দুই ব্যক্তির সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘ দিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সময় তাদের সমর্থকদের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাতো।

স্থানীয়রা আরও জানান, নিহত সোহান কুদ্দুস ব্যাপারীর সমর্থক। বর্তমানে কুদ্দুস ব্যাপারীর সমর্থক মান্নান ব্যাপারী ও জলিল ব্যাপারীর সমর্থক নাসির ব্যাপারীর অনুসারীরা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন।

এই বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মদ জানান, সকালে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল ও সিআইডি ক্রাইম সিন ইউনিটের ১৬ সদস্যের দল ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। তাঁরা বিভিন্ন ধরনের আলামত উদ্ধার করছেন। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সিআইডি ভিন্ন ভিন্ন রিপোর্ট দেবে। পরে আলামত এবং তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার বোমা তৈরির সময় বিলাসপুর ইউপির বেপারীকান্দি এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিস্ফোরণে ঘরের চালা উড়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে আধা কিলোমিটার দূরের ফসলি জমিতে (রসুন ক্ষেতে) ব্যাপারীকান্দি গ্রামের দেলোয়ার ব্যাপারীর ছেলে সোহান ব্যাপারীর (৩২) মরদেহ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় আরমান নয়ন মোল্লা (২৫) ও মো. নবী হোসেন (২২) নামে আরও দুজন গুরুতর আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরে এই গ্রামের রহিম সরদারের ছেলে মো. নবী হোসেন (২২) বিকেল সাড়ে চারটায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে মারা যান। এই ঘটনায় নয়ন এখনো ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এর আগে গত ৪ জানুয়ারি জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের বুধাইরহাট বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় জাবেদ শেখ (২০) নামে একজন আহত হন। সেদিন অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় চার বালতি ককটেল উদ্ধার করে জাজিরা থানা পুলিশ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow