জাপা ও এনসিপি পরস্পর মুখোমুখি
রংপুর-৪ কাউনিয়া-পীরগাছা আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের মো. মাহবুবার রহমানের গাড়ি আটকে ‘দোসর’ স্লোগান দিয়ে হেনস্তা করে গাড়ির চাবি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এনসিপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে নগরীর সরেয়ার তল বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নগরীর সরেয়ার তল এলাকায় জাপা প্রার্থীর গাড়ি আটকে দেন এনসিপি ও জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী। এ সময় তারা ‘দোসর’ স্লোগান দেন এবং একপর্যায়ে গাড়ির চাবি কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ঘটনা জানাজানি হলে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন। এসময় ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ঘটনাস্থলে একটি দোকানে অবরুদ্ধ পারুল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলামকে উদ্ধার করে নগরীর মাহিগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবার রহমান কালবেলাকে বলেন, একজনের জানাজায় অংশ নিতে পীরগাছা থেকে রংপুর নগরীতে যাওয়ার পথে উপজেলার হাউদারপাড় এলাকা অতিক্রম করার কি
রংপুর-৪ কাউনিয়া-পীরগাছা আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের মো. মাহবুবার রহমানের গাড়ি আটকে ‘দোসর’ স্লোগান দিয়ে হেনস্তা করে গাড়ির চাবি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এনসিপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে নগরীর সরেয়ার তল বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নগরীর সরেয়ার তল এলাকায় জাপা প্রার্থীর গাড়ি আটকে দেন এনসিপি ও জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী। এ সময় তারা ‘দোসর’ স্লোগান দেন এবং একপর্যায়ে গাড়ির চাবি কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে ঘটনা জানাজানি হলে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন। এসময় ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ঘটনাস্থলে একটি দোকানে অবরুদ্ধ পারুল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলামকে উদ্ধার করে নগরীর মাহিগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবার রহমান কালবেলাকে বলেন, একজনের জানাজায় অংশ নিতে পীরগাছা থেকে রংপুর নগরীতে যাওয়ার পথে উপজেলার হাউদারপাড় এলাকা অতিক্রম করার কিছু আগে থেকেই ৭–৮টি মোটরসাইকেলে করে এনসিপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাকে ধাওয়া দেন। একপর্যায়ে নগরীর সরেয়ার তল এলাকায় তার গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। তার গাড়ি ঘিরে ধরে ‘দোসর, দোসর’ স্লোগান দিতে দিতে একপর্যায়ে গাড়ির চাবি কেড়ে নেওয়া হয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এনসিপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা দোসর ট্যাগ দিয়ে মব তৈরী করে তার বিরুদ্ধে ভোটারদের টাকা দেয়ার অভিযোগ তোলেন। পরিকল্পিতভাবে তারা বিভিন্ন দলের সাথেই প্রতিনিয়ত এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করতেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। প্রশাসনের সাথে কথা বলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আখতার হোসেন কালবেলাকে বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করছেন এবং ভোটারদের টাকা দিচ্ছিলেন। এ বিষয়ে তারা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিলেও কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
আখতার অভিযোগ করে আরও বলেন, গণসংযোগকালে সাধারণ জনগণ তাকে আটকে দিলে খবর পেয়ে এনসিপি নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যেতে শুরু করেন। পরে সরেয়ার তল এলাকায় এনসিপি নেতাকর্মীরা তাকে দেখতে পান। কিন্ত জাতীয় পার্টির প্রার্থী নগরী থেকে প্রায় ৮৭ জন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী ডেকে এনে এনসিপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
তিনি জানান, এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে তারা প্রমাণ পাঠিয়েছেন। তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও এ ঘটনায় তার কর্মী-সমর্থকদের বিচার ও শাস্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বজলুর রশিদ মুকুল বলেন,কোন প্রার্থীকে হেনস্তার ঘটনায় জামায়াতের কোন দায় দায়িত্ব নেই। এ ঘটনায় জামায়াতের কোন নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা নেই।
রংপুর মাহিগঞ্জ থানার কর্মকর্তা ওসি মাইদুল ইসলাম বলেন, দুই পার্টির সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে একজনকে আটকিয়ে রেখেছিল লাঙল প্রতীকের লোকেরা। সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।
What's Your Reaction?