জামানত হারালেন নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে শোচনীয় পরাজয়ের পাশাপাশি বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও হেভিওয়েট প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্না। এই আসনে তিনি জামানত হারিয়েছেন। শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে ওই আসনে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের অন্তত ৮ ভাগের ১ ভাগ (১২.৫%) ভোট পেতে হয়। শিবগঞ্জ আসনের নির্বাচনী ফলাফল  অনুযায়ী মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৪২ হাজার ১৫৯টি। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ভোট ৩০ হাজার ২৬৯টি। কিন্তু মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রাপ্ত ভোট ৩ হাজার ৪০৪ টি। হিসাব অনুযায়ী, জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ভোটের চেয়ে প্রায় ২৬ হাজার ৮৬৫ ভোট কম পেয়েছেন তিনি। ফলে সরকারি নিয়ম মোতাবেক তাঁর জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকা জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বগুড়া-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মীর শাহে আলম ১লাখ ৪৫ হাজার ০২৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট। এই দুই প্রার্থী বাদে ন

জামানত হারালেন নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে শোচনীয় পরাজয়ের পাশাপাশি বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও হেভিওয়েট প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্না। এই আসনে তিনি জামানত হারিয়েছেন। শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে ওই আসনে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের অন্তত ৮ ভাগের ১ ভাগ (১২.৫%) ভোট পেতে হয়। শিবগঞ্জ আসনের নির্বাচনী ফলাফল  অনুযায়ী মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৪২ হাজার ১৫৯টি। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ভোট ৩০ হাজার ২৬৯টি। কিন্তু মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রাপ্ত ভোট ৩ হাজার ৪০৪ টি। হিসাব অনুযায়ী, জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ভোটের চেয়ে প্রায় ২৬ হাজার ৮৬৫ ভোট কম পেয়েছেন তিনি। ফলে সরকারি নিয়ম মোতাবেক তাঁর জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকা জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বগুড়া-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মীর শাহে আলম ১লাখ ৪৫ হাজার ০২৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট। এই দুই প্রার্থী বাদে নির্বাচনী মাঠে থাকা বাকি ৫ জন প্রার্থীর সবাই জামানত হারিয়েছেন। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ পেয়েছেন মাত্র ৪২৮ ভোট। এদিকে এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা ও জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ মাহমুদুর রহমান মান্নার নিজের এলাকায় এমন 'ভরাডুবি' রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভোটারদের বড় একটি অংশের মতে, দ্বিমুখী লড়াইয়ের মেরুকরণে ছোট দলগুলোর প্রার্থীরা জনসমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হয়েছেন। শিবগঞ্জ উপজেলার ১১৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে দেখা গেছে, ভোটাররা প্রধানত বিএনপি এবং জামায়াত প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। যার ফলে তৃতীয় স্থানে থাকা মান্নার প্রাপ্ত ভোটের হার ১ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। নির্বাচন কমিশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগে নাগরিক ঐক্যর সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের হয়ে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন।  এর মধ্যে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে প্রথম তিনি জনতা মুক্তি পার্টির হয়ে কাস্তে প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই সময় তিনি দুই হাজার ১৮০ ভোট পান।  দ্বিতীয়বার ১৯৯৬ সালে মাহমুদুর রহমান মান্না আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট পেয়েছিলেন ১৯ হাজার ৮৭১টি।  ২০০১ সালে মাহমুদুর রহমান মান্না নৌকার প্রার্থী হয়ে ভোট পান ৩৬ হাজার ৭৫০। সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি জোট থেকে ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে ভোট পান ৫৯ হাজার ৭১৩টি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow