জার্মানিতে নতুন শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন চাকরি খোঁজার সহজ উপায়
মিজানুর রহমান, জার্মানি উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বুকে নিয়ে প্রতি বছর হাজার হাজার তরুণ-তরুণী জার্মানিতে পাড়ি জমান। নতুন একটি দেশ, সম্পূর্ণ নতুন সংস্কৃতি আর তার সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টার মাঝেই বড় একটি ধাক্কা আসে- পকেটের খরচ চালানো। আর তখনই শুরু হয় পার্ট-টাইম বা খণ্ডকালীন কাজের খোঁজ। নতুন শিক্ষার্থী হিসেবে দেশটিতে এসেই হুট করে কোনো কাজ পেয়ে যাওয়া অনেক সময় বেশ কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং মনে হতে পারে। তবে বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, আপনি যদি সঠিক জায়গায় এবং সঠিক উপায়ে চেষ্টা করেন, তবে একটি কাজের সন্ধান পাওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। আমার দৃষ্টিতে, জার্মানিতে নতুন একজন শিক্ষার্থী হিসেবে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরী পথ উন্মুক্ত রয়েছে। প্রথমত, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার জার্মানিতে কাজ খোঁজার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো বিভিন্ন ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশন বা অনলাইন মাধ্যম। আমাদের মুঠোফোনেই এখন এমন কিছু মাধ্যম রয়েছে যা কাজের সন্ধান সহজ করে দেয়। কিছু মাধ্যম আছে যা পেশাদার কাজের জন্য সেরা, আবার কিছু মাধ্যম রয়েছে যা শিক্ষার্থীদের জন্য এক দিনের বা নমনীয় সময়ের কাজের সুযোগ করে দেয়। এছাড়া স্থানীয় দোকান
মিজানুর রহমান, জার্মানি
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বুকে নিয়ে প্রতি বছর হাজার হাজার তরুণ-তরুণী জার্মানিতে পাড়ি জমান। নতুন একটি দেশ, সম্পূর্ণ নতুন সংস্কৃতি আর তার সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টার মাঝেই বড় একটি ধাক্কা আসে- পকেটের খরচ চালানো। আর তখনই শুরু হয় পার্ট-টাইম বা খণ্ডকালীন কাজের খোঁজ।
নতুন শিক্ষার্থী হিসেবে দেশটিতে এসেই হুট করে কোনো কাজ পেয়ে যাওয়া অনেক সময় বেশ কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং মনে হতে পারে। তবে বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, আপনি যদি সঠিক জায়গায় এবং সঠিক উপায়ে চেষ্টা করেন, তবে একটি কাজের সন্ধান পাওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
আমার দৃষ্টিতে, জার্মানিতে নতুন একজন শিক্ষার্থী হিসেবে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরী পথ উন্মুক্ত রয়েছে।
প্রথমত, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
জার্মানিতে কাজ খোঁজার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো বিভিন্ন ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশন বা অনলাইন মাধ্যম। আমাদের মুঠোফোনেই এখন এমন কিছু মাধ্যম রয়েছে যা কাজের সন্ধান সহজ করে দেয়। কিছু মাধ্যম আছে যা পেশাদার কাজের জন্য সেরা, আবার কিছু মাধ্যম রয়েছে যা শিক্ষার্থীদের জন্য এক দিনের বা নমনীয় সময়ের কাজের সুযোগ করে দেয়।
এছাড়া স্থানীয় দোকান বা খাবারের দোকানের ছোটখাটো কাজের বিজ্ঞাপনের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, যেখানে নিয়মিত চোখ রাখা উচিত।
দ্বিতীয়ত, সরাসরি যোগাযোগ বা সশরীরে উপস্থিতি
অনলাইনের চেয়ে অনেক সময় সরাসরি যোগাযোগ অনেক বেশি দ্রুত কাজ করে। এটি আমার অন্যতম প্রিয় একটি উপায়। আপনার বাসার আশেপাশের বড় বড় মুদি দোকান, ক্যাফে বা রেস্তোরাঁয় গিয়ে ব্যবস্থাপকের সাথে সরাসরি ও বিনীতভাবে কথা বলা উচিত।
তারা কোনো খণ্ডকালীন কর্মী বা দৈনিক মজুরির সাহায্যকারী খুঁজছে কি না, তা জানতে চাওয়া এবং সাথে নিজের জীবনবৃত্তান্তের একটি কাগজের অনুলিপি বা প্রিন্ট কপি জমা দেওয়া অনেক সময় অনলাইন আবেদনের চেয়ে দ্রুত ফল দেয়।
তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কর্মসংস্থান বোর্ড ও ছাত্রকল্যাণ দপ্তর
প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একটি কাজের নোটিশ বোর্ড থাকে। এছাড়া প্রতিটি শহরের ছাত্রকল্যাণ দপ্তর বা স্টুডেন্টেনওয়ার্ক অফিসে যোগাযোগ করলে তারা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খণ্ডকালীন কাজের তথ্য সরবরাহ করে।

প্রবাস জীবনের শুরুটা যেমন হয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার, তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা কেন্দ্র বা ক্যাফেটেরিয়াতেও মাঝে মাঝে ছাত্র সহকারী হিসেবে লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। এই কাজগুলো পড়াশোনার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
চতুর্থত, ভাষা—যা আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি
জার্মানিতে টিকে থাকার এবং ভালো কাজ পাওয়ার আসল চাবিকাঠি হলো তাদের নিজস্ব ভাষা। আপনার জার্মান ভাষার দক্ষতা যদি প্রাথমিক বা মধ্যম স্তরেরও হয়, তবে আপনার কাজের সুযোগ এক লাফে শতগুণ বেড়ে যাবে।
যারা শুধু ইংরেজি জানেন, তাদের সাধারণত পণ্য সরবরাহ বা পণ্য গুদামের মতো কঠিন শারীরিক পরিশ্রমের কাজে সীমাবদ্ধ থাকতে হয়। কিন্তু আপনি সামান্য জার্মান বলতে ও বুঝতে পারলে বড় বড় দোকানে ক্যাশিয়ার, কোনো অফিসের সহকারী বা গ্রাহক সেবা দেওয়ার মতো তুলনামূলক আরামদায়ক কাজ সহজেই পেয়ে যাবেন।
পঞ্চমত, পারস্পরিক যোগাযোগ ও পরিচিতি
বিদেশে পরিচিত কারো সুপারিশ বা রেফারেন্স কাজ পাওয়ার পথ অনেক সহজ করে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ ভাই-বোন, স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটি বা সহপাঠীদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা জরুরি। তাদের কর্মক্ষেত্রে কোনো কর্মীর প্রয়োজন হলে তারা আপনাকে সবার আগে জানাতে পারবে এবং আপনার হয়ে কথা বলতে পারবে।
বর্তমানে জার্মানির আইনি নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীরা বছরে ১৪০ দিন (পূর্ণ দিবস) বা ২৮০ দিন (অর্ধ দিবস) কাজ করার অনুমতি পায়, যা জীবনযাত্রার খরচ চালানোর জন্য যথেষ্ট। তবে এই খণ্ডকালীন কাজের ভিড়ে আমাদের মূল উদ্দেশ্য যেন হারিয়ে না যায়।
আমাদের মনে রাখা উচিত, আমরা এই উন্নত দেশে এসেছি একটি বড় ডিগ্রি নিতে, শুধু সস্তা মজুরি খাটতে নয়। সাময়িক পকেট খরচের জন্য পড়াশোনার ক্ষতি করা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
যদি ধৈর্য ধরে নিজের ডিগ্রিটা ঠিকঠাক শেষ করা যায়, তবে ভবিষ্যতে পেশাদার জীবনে আপনার কাজের মান এবং সম্মানী হবে এখনকার খণ্ডকালীন আয়ের চেয়ে অন্তত চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি। তাই কাজকে মাধ্যম বানান, লক্ষ্য নয়; আসল লক্ষ্য হোক আপনার শিক্ষা।
এমআরএম
What's Your Reaction?