জিআই সনদ পেল মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড়

মানিকগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড় ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ পেয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) পক্ষ থেকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এ অর্জনে স্থানীয় উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (১৫ জুন) ডিপিডিটির মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষরিত জিআই (আর) ফরম-১-এর মাধ্যমে ‘মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়’কে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়। সনদে উল্লেখ করা হয়, জেলা প্রশাসক, মানিকগঞ্জের নামে ৩০ শ্রেণিতে জিআই-৬২ নম্বরে পণ্যটি ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে নিবন্ধিত হয়েছে। মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা এলাকায় উৎপাদিত এই হাজারী গুড় দীর্ঘদিন ধরে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সুনাম অর্জন করেছে। খেজুরের উৎকৃষ্ট রস থেকে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে তৈরি এই গুড়ের স্বাদ ও ঘ্রাণ আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করে, যা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের গুড় থেকে একে বিশেষভাবে পৃথক করেছে। শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর ব্যাপক চাহিদা থাকে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছেও এই গুড়ের রয়েছে বিশেষ কদর। স্থানীয়দের মতে, প্রায় দুই শত

জিআই সনদ পেল মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড়

মানিকগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড় ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ পেয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) পক্ষ থেকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এ অর্জনে স্থানীয় উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) ডিপিডিটির মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষরিত জিআই (আর) ফরম-১-এর মাধ্যমে ‘মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়’কে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়। সনদে উল্লেখ করা হয়, জেলা প্রশাসক, মানিকগঞ্জের নামে ৩০ শ্রেণিতে জিআই-৬২ নম্বরে পণ্যটি ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে নিবন্ধিত হয়েছে।

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা এলাকায় উৎপাদিত এই হাজারী গুড় দীর্ঘদিন ধরে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সুনাম অর্জন করেছে। খেজুরের উৎকৃষ্ট রস থেকে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে তৈরি এই গুড়ের স্বাদ ও ঘ্রাণ আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করে, যা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের গুড় থেকে একে বিশেষভাবে পৃথক করেছে। শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর ব্যাপক চাহিদা থাকে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছেও এই গুড়ের রয়েছে বিশেষ কদর।

স্থানীয়দের মতে, প্রায় দুই শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্য বহনকারী হাজারী গুড় শুধু একটি পণ্য নয়, বরং মানিকগঞ্জের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। জিআই স্বীকৃতির ফলে এর ব্র্যান্ডিং ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই স্বীকৃতির ফলে মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়ের বিপণন ও রপ্তানির সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থার প্রসারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং কারিগরদের জীবনমান উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় এই জিআই নিবন্ধনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়।

তার সক্রিয় ভূমিকার ফলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।

জিআই সনদ প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে মানিকগঞ্জের হাজারী গুড় এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও পরিচিতি পাওয়ার পথে এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow