জীবন সাজাই নামাজে ও সেজদায়
প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ সবার ওপর দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা প্রত্যেক দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হিসেবে বিধিবদ্ধ করেছেন।’ (বুখারি: ১৩৯৫)। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান পবিত্র কোরআন থেকে প্রমাণিত। ইরশাদ হয়েছে, ‘সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে রাত অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়া পর্যন্ত নামাজ আদায় করতে থাকুন। আর ফজরের নামাজও; নিশ্চয়ই ফজরের নামাজ (ফেরেশতাদের) উপস্থিতির সময়।’ (সুরা ইসরা: ৭৮)। আয়াতের ব্যাখ্যায় হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে—জোহর, আসর, মাগরিব ও এশার নামাজ এ আদেশের অন্তর্ভুক্ত। অতএব, ওই আয়াতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নির্দেশই রয়েছে। হাদিসে আরও বর্ণিত হয়েছে—আসর ও ফজরের সময় মানুষের রক্ষণাবেক্ষণকারী ফেরেশতা ও আমলনামা লেখক ফেরেশতাদের বদলি হয়ে থাকে। আয়াতে ফেরেশতাদের উপস্থিতি বলতে তাই বোঝানো হয়েছে। ফেরেশতাদের উভয় দল এ সময় উপস্থিত থাকে বলে এ সময়ের বিশেষ মর্যাদা প্রকাশ পেয়েছে। (তাফসিরে বায়ানুল কোরআন)। নামাজ কায়েমের মাধ্যমে আল্লাহর হুকুম পালনের পাশাপাশি নামাজি ব্যক্তির জীবনে বিভিন্ন রকম পুরস্কার, প্রশান্তি, কল্যাণ ও বরকত অর্জন হয়। পবিত্র কোরআনের সুরা মুমিনু
প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ সবার ওপর দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা প্রত্যেক দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হিসেবে বিধিবদ্ধ করেছেন।’ (বুখারি: ১৩৯৫)। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান পবিত্র কোরআন থেকে প্রমাণিত। ইরশাদ হয়েছে, ‘সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে রাত অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়া পর্যন্ত নামাজ আদায় করতে থাকুন। আর ফজরের নামাজও; নিশ্চয়ই ফজরের নামাজ (ফেরেশতাদের) উপস্থিতির সময়।’ (সুরা ইসরা: ৭৮)। আয়াতের ব্যাখ্যায় হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে—জোহর, আসর, মাগরিব ও এশার নামাজ এ আদেশের অন্তর্ভুক্ত। অতএব, ওই আয়াতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নির্দেশই রয়েছে। হাদিসে আরও বর্ণিত হয়েছে—আসর ও ফজরের সময় মানুষের রক্ষণাবেক্ষণকারী ফেরেশতা ও আমলনামা লেখক ফেরেশতাদের বদলি হয়ে থাকে। আয়াতে ফেরেশতাদের উপস্থিতি বলতে তাই বোঝানো হয়েছে। ফেরেশতাদের উভয় দল এ সময় উপস্থিত থাকে বলে এ সময়ের বিশেষ মর্যাদা প্রকাশ পেয়েছে। (তাফসিরে বায়ানুল কোরআন)।
নামাজ কায়েমের মাধ্যমে আল্লাহর হুকুম পালনের পাশাপাশি নামাজি ব্যক্তির জীবনে বিভিন্ন রকম পুরস্কার, প্রশান্তি, কল্যাণ ও বরকত অর্জন হয়। পবিত্র কোরআনের সুরা মুমিনুনের মধ্যে নামাজে যত্নবান মুমিনদের সফল বলা হয়েছে এবং তাদের শ্রেষ্ঠ জান্নাত ফেরদাউসের উত্তরাধিকারী সাব্যস্ত করা হয়েছে (সুরা মুমিনুন: ১-৯)। নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছ থেকে সাহায্য পাওয়া যায়। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য কামনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা: ১৫৩)। নামাজের মাধ্যমে রিজিক লাভ হয়। আল্লাহ বলেছেন, ‘আপনি আপনার পরিবারকে নামাজের আদেশ করুন এবং তার ওপর ধৈর্য ধরুন। আমি আপনার কাছে রিজিক চাই না। আমিই আপনাকে রিজিক দেব। শেষ পরিণাম তাকওয়া বা খোদাভীতির জন্য।’ (সুরা তোহা: ১৩২)।
নামাজের মাধ্যমে মানুষের বিপদ-আপদ ও পেরেশানি দূর হয়। রাসুল (সা.) যখন কোনো পেরেশানি ও বিপদ অনুভব করতেন, তখন তিনি নামাজ পড়তেন। বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেলে সালাতুল ইসতিসকা পড়ে দোয়া করলে আল্লাহ রহমতের বৃষ্টি বর্ষণ করেন। সালাতুল হাজত পড়ে আল্লাহর কাছে চাইলে তিনি প্রয়োজন পূরণ করে দেন। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সময় সালাতুল ইসতিখারার আমল সহায়ক হয়। নামাজের মাধ্যমে মানুষের জীবন পবিত্র হয়। নামাজের মাধ্যমে ভারসাম্য ও ইনসাফ তৈরি হয়। কোরআনে এসেছে, ‘নিশ্চয়ই মানুষকে দুর্বলমনা করে সৃষ্টি করা হয়েছে। যখন তাকে দুঃখ স্পর্শ করে, তখন সে হা-হুতাশ করে। আর যখন সে কল্যাণ লাভ করে, তখর কৃপণ হয়ে যায়। তবে নামাজিরা ছাড়া; যারা তাদের নামাজে সর্বদা নিষ্ঠাবান থাকে।’ (সুরা মায়ারিজ: ১৯-২৩)। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মহল্লাবাসী মসজিদে একত্রিত হওয়ার সুবাধে পরস্পর দেখা-সাক্ষাৎ ও খোঁজখবর গ্রহণের মাধ্যমে সামাজিক সুসংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি পায়।
তা ছাড়া নামাজ গুনাহ মোচন করে, জীবনকে পবিত্র করে। আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং এক জুমা থেকে আরেক জুমা মধ্যবর্তী সময়গুলোর জন্য কাফফারা; যতক্ষণ কবিরা গুনাহ না করবে।’ (মুসলিম: ২৩৩)। অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা কি লক্ষ করেছ! যদি তোমাদের কারও বাড়ির গেটের কাছে একটি নহর থাকে যাতে সে দৈনিক পাঁচবার গোসল করে, তাহলে কি তার শরীরে কোনো ময়লা থাকতে পারে? জবাবে সাহাবায়ে কেরাম বললেন, না তার শরীরে কোনো ময়লা থাকবে না। নবীজি (সা.) জবাবে বললেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের দৃষ্টান্ত অনুরূপ, আল্লাহ এর দ্বারা গুনাহগুলো মিটিয়ে দেন।’ (বুখারি: ৫২৮)। আবু উমামা বাহেলি (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মুমিন বান্দা যখন ওজু করতে গিয়ে কুলি করে তখন মুখের গুনাহগুলো ঝরে যায়। আর যখন চেহারা ধৌত করে, তখন তার চেহারা ধোয়ার পানির সঙ্গে চোখের দ্বারা কৃত গুনাহগুলো ঝরে যায়। যখন হাত ধৌত করে, তখন পানির সঙ্গে হাত দ্বারা কৃত গুনাহগুলো পড়ে যায়। যখন মাথা মাসাহ করে, তখন চুলের গোড়া থেকে গুনাহগুলো ঝরে যায়। আর যখন পা ধৌত করে, তখন পানির সঙ্গে পা দ্বারা কৃত গুনাহগুলো ঝরে যায়। এভাবে সে গুনাহ থেকে পবিত্র হয়ে বের হয়।’ (আদ্দুররুল মানসুর: ৫/২১৫)
নামাজ মুমিনের জীবনে নুর বা বিশেষ জ্যোতিস্বরূপ। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘সালাত নুর, সদকা প্রমাণ, ধৈর্য আলো।’ (মুসলিম: ২২৩)। নামাজে থাকাবস্থায় ফেরেশতারা নামাজি ব্যক্তির জন্য ব্যাপক দোয়া করেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ নামাজ পড়ে নামাজের স্থানে যতক্ষণ বসে থাকে, ততক্ষণ ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করে বলেন, হে আল্লাহ! তার প্রতি রহমত করো, তাকে ক্ষমা করো, তার তওবা কবুল করো যতক্ষণ সে কাউকে কষ্ট না দেয়; যতক্ষণ ওজু নষ্ট না করে।’ (বুখারি: ২১১৯)।
নামাজের পরিপূর্ণ ফায়দা লাভের জন্য ফরজ নামাজ জামাতে আদায় করতে হবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘একাকী নামাজের চেয়ে জামাতে নামাজ আদায় ২৫ গুণ বেশি মর্যাদা রাখে। অন্য বর্ণনায় ২৭ গুণ বেশি সওয়াবের কথা রয়েছে। অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ৪০ দিন তাকবিরে উলার সঙ্গে নামাজ আদায় করবে, তার জন্য পুরস্কারস্বরূপ দুটি মুক্তিনামা লিপিবদ্ধ করা হবে—১. মুনাফেকির তালিকা থেকে তার নাম কর্তন করা হবে; ২. জাহান্নাম থেকে তার মুক্তির পয়গাম লেখা হবে।’ (তিরমিজি: ২৪১)। আর নামাজ পড়তে হবে খুশুখুজু তথা বিনয় ও ধ্যানের সঙ্গে এবং ইখলাস তথা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। পবিত্র কোরআনের সুরা মুমিনুনে খুশুখুজুর সঙ্গে নামাজ আদায়কে মুমিনের গুণ ও বৈশিষ্ট্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইখলাসহীন যে কোনো আমল মূল্যহীন ও অনর্থক। মহান আল্লাহ আমাদের যথাযথভাবে নামাজের বিধান অনুসরণের তওফিক দান করুন।
লেখক: ইমাম ও খতিব
What's Your Reaction?