জীবনের সব ক্ষেত্রে ইবাদত ও আল্লাহর দাসত্ব

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রতিটি বিষয় নিখুঁতভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং আসমান ও জমিন এবং এই দুইয়ের মাঝে যা কিছু আছে, তার কোনো কিছুই অনর্থক সৃষ্টি করেননি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই; তাঁর সত্তায়, তাঁর গুণে এবং তাঁর ইবাদতে কোনো ক্ষেত্রেই কোনো অংশীদার নেই। (আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন,) ‘আসমান ও জমিনে এমন কেউ নেই, যে পরম দয়াময় আল্লাহর নিকট বান্দা হিসেবে উপস্থিত হবে না। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা, নবী এবং আমাদের অভিভাবক মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল, যাঁকে সমস্ত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের প্রধান বা নেতা বানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি আল্লাহ তাআলা মেরাজের রাতে তাঁকে নিজের অত্যন্ত নিকটে নিয়ে গিয়ে ‘বান্দা’ হিসেবেই তাঁর পরিচয় দিয়েছেন। আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সঙ্গী-সাথীদের ওপর। আম্মা বা’দ হে মানবসকল! নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা এই মহাবিশ্বে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তার মধ্যে মানুষকে সবচেয়ে বেশি সম্মানিত করেছেন। আর তিনি জিন ও মানবজাতিকে কেবল তাঁর ইবাদতের জন্য

জীবনের সব ক্ষেত্রে ইবাদত ও আল্লাহর দাসত্ব

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রতিটি বিষয় নিখুঁতভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং আসমান ও জমিন এবং এই দুইয়ের মাঝে যা কিছু আছে, তার কোনো কিছুই অনর্থক সৃষ্টি করেননি।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই; তাঁর সত্তায়, তাঁর গুণে এবং তাঁর ইবাদতে কোনো ক্ষেত্রেই কোনো অংশীদার নেই। (আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন,) ‘আসমান ও জমিনে এমন কেউ নেই, যে পরম দয়াময় আল্লাহর নিকট বান্দা হিসেবে উপস্থিত হবে না।

আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা, নবী এবং আমাদের অভিভাবক মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল, যাঁকে সমস্ত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের প্রধান বা নেতা বানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি আল্লাহ তাআলা মেরাজের রাতে তাঁকে নিজের অত্যন্ত নিকটে নিয়ে গিয়ে ‘বান্দা’ হিসেবেই তাঁর পরিচয় দিয়েছেন। আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সঙ্গী-সাথীদের ওপর।

আম্মা বা’দ

হে মানবসকল! নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা এই মহাবিশ্বে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তার মধ্যে মানুষকে সবচেয়ে বেশি সম্মানিত করেছেন। আর তিনি জিন ও মানবজাতিকে কেবল তাঁর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে বা লক্ষ্য পূরণের জন্য তাদের সৃষ্টি করেননি।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের কাছে কোনো রিজিক চাই না এবং আমি এটাও চাই না যে তারা আমাকে আহার করাবে।’ অতএব, জিন ও মানুষের জন্য তাদের সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে অবধারিত বিধান হলো, তারা যেন কেবল তাদের খালিক বা সৃষ্টিকর্তারই ইবাদত করে।

আর আল্লাহর প্রতি খাঁটি দাসত্বের দাবি হলো, মানুষের অবস্থা এমন হবে যেন তার সমস্ত ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা তার রবের হুকুমের অধীনস্থ হয়ে যায়, এবং সে তার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সেভাবেই পথ চলে যেভাবে তার মালিক বা রব পছন্দ করেন এবং সন্তুষ্ট হন। সৃষ্টিকর্তার অনুগত বান্দাদের শান বা বৈশিষ্ট্য এমনই হয়ে থাকে।

নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার মন-মানসিকতা ও ইচ্ছা আমি যা নিয়ে এসেছি (অর্থাৎ শরীয়ত) তার অনুগামী না হয়।’

প্রকৃত বান্দা তো সেই, যে নিজের ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেয় না, বরং নিজের সমস্ত বিষয়কে তাঁর মালিকের ওপর সঁপে দেয়। তার মালিক যে বিষয়ে অসন্তুষ্ট হন কিংবা যা অপছন্দ করেন, বান্দা কখনোই সেটার কাছেও যায় না। সৃষ্টিকর্তার সাথে একজন প্রকৃত বান্দার সম্পর্ক এমনই হওয়া উচিত। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘হতে পারে কোনো একটি বিষয় তোমরা অপছন্দ করছ, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আবার হতে পারে কোনো একটি বিষয় তোমরা পছন্দ করছ, অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর।’

সত্যিকারের বান্দা তো কেবল তাঁর মালিকের আদেশগুলোকেই জীবনের পাথেয় বানায় এবং তিনি যা নিষেধ করেছেন তা থেকে পুরোপুরি দূরে থাকে। বান্দার ওপর তাঁর মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কোনো হুকুম বা কর্তৃত্ব খাটে না। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেছেন, ‘তাদের কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন খাঁটি মনে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করে এবং দ্বীনকে তাঁর জন্যই নিবেদিত রাখে।’

বান্দা তো সুখ ও দুঃখ, স্বচ্ছলতা ও অস্বচ্ছলতা—সর্বাবস্থায় কেবল তাঁর মালিকের সন্তুষ্টিই কামনা করে। সৃষ্টিকর্তার অনুগত বান্দাদের নীতি এমনই হয়, তারা সব ধরনের পরিস্থিতিতেই রবের দাসত্বে মশগুল থাকে। পক্ষান্তরে, আল্লাহ তাআলা ওইসব লোকের নিন্দা করেছেন যারা এর বিপরীত পথে চলে। আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এমনও আছে, যে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে আল্লাহর ইবাদত করে। যদি সে কোনো কল্যাণের মুখোমুখি হয়, তবে তাতে প্রশান্তিলাভ করে আর যদি কোনো পরীক্ষার মুখোমুখি হয়, তবে সে তার পূর্বের কুফরির দিকেই মুখ ফিরিয়ে নেয়। সে ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতেই ক্ষতিগ্রস্ত হলো।’

অন্য একটি আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘যখন মানুষকে কোনো দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে শুয়ে, বসে কিংবা দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকতে থাকে। কিন্তু যখন আমি তার সেই কষ্ট দূর করে দিই, তখন সে এমনভাবে চলতে থাকে যেন তাকে কোনো কষ্ট স্পর্শ করার কারণে সে আমাকে কখনোই ডাকেনি!’ তিনি আরও বলেছেন, ‘যখন আমি মানুষকে কোনো নেয়ামত দান করি, তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং অহংকারে দূরে সরে যায়।’

বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি আপনার প্রতি এই কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা প্রতিটি বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা, এবং এটি মুসলমানদের জন্য হিদায়াত, রহমত ও সুসংবাদস্বরূপ।’

মহান আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের জন্য এই মহিমান্বিত কোরআনের মাধ্যমে বরকত দান করুন এবং এর আয়াত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ জিকিরের মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন। আমি আমার এই বক্তব্য শেষ করছি এবং নিজের জন্য, আপনাদের জন্য ও সমস্ত মুসলমানের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনারাও তাঁর কাছে ক্ষমা চান, নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়াময়।

ওএফএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow