আন্তর্জাতিক সংহতি এবং গণতান্ত্রিক চেতনার আলোকে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে প্যাট্রিয়টস অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান প্যাট্রিয়টস এর উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
নিউহয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে সংগঠন দুটির পক্ষে সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন এ. কে. আব্দুল কাদের। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় আসছে ৮ আগষ্ট নিউইয়র্ক জ্যাকসন হাইটস এর ডাইভার্সিটি প্লাজায় 'জান দেবো, কিন্তু জুলাই দেবো না' শহীদ ওসমান বিন হাদির পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিবেদিত আন্তর্জাতিক স্মরণ, শ্রদ্ধা ও ঐক্য অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এসময় জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে নিউইয়র্কে একটি উদযাপন কমিটিও গঠন করা হয়।
দুপুর ১২:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা চলবে এ অনুষ্ঠান। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে থাকবে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও বিশেষ দোয়া। শহীদ ওসমান বিন হাদি এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মৃতিচারণ। দেশাত্মবোধক ও সংগ্রামী সংগীত, ইসলামী নাশীদ এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। 'ভয়াবহতা থেকে বিজয়: জুলাই বিপ্লব' শীর্ষক আর্ট, আলোকচিত্র ও ঐতিহাসিক প্রদর্শনী ও ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন। এছাড়াও উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক পর্ব, গণসংগীত, আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক কবিতা ও বিপ্লবভিত্তিক পরিবেশনা।
আরও থাকবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শান্তি ও নিরাপত্তা, রসায়ন ও মানববিজ্ঞান, গণিত ও ডাটা অ্যানালিটিক্স, প্রযুক্তি এবং ইতিহাস ও সামাজিক মনোবিজ্ঞান বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা 'প্রতিরোধ থেকে পুনর্গঠন' প্রতিপাদ্যে আলোচনা ও বিশিষ্ট অতিথিদের বক্তব্য। জুলাই বিপ্লবের বীর যোদ্ধা, শহীদ পরিবার, আহত সংগ্রামী, মানবাধিকার কর্মী, কমিউনিটি সাংবাদিক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মাননা প্রদান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অনুষ্ঠান সফল করতে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. শেখ মিজান-কে প্রধান করে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি কেন্দ্রীয় উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ড. আবিদ বাহার, ডা. জুনুন চৌধুরী, মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, রহমত উল্লাহ, হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন, এমদাদ চৌধুরী দীপু, মিসবাহ উদ্দিন আহমদ, এ. কে. আব্দুল কাদের, আবুল কালাম আজাদ, রেজাউল করিম, নূরুল হক চৌধুরী, জাবেদ আহমদ, আব্দুল আলীম এবং দীপন গাজী।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়, যা স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নতুন এক দিগন্তের সূচনা করেছে।
শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহত সংগ্রামীদের অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বক্তারা আরও বলেন, দ্বিতীয় বার্ষিকীকে কেবল একটি স্মরণানুষ্ঠান নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস, মানবিক মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনাকে পৌঁছে দেওয়ার একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এই আন্তর্জাতিক আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকারকর্মী, গবেষক, নীতিনির্ধারক, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার বার্তা তুলে ধরা হবে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন We Are The Peoples-এর প্রধান জ্যাকব মিল্টন, কবি কাজী জহিরুল ইসলাম, ড. নিজাম উদ্দিন (NYU), ডা. জুনুন চৌধুরী (নিউরোলজি অ্যান্ড সাইকিয়াট্রি), প্রফেসর শেখ মিজান, ড. শামীম আহমেদ (ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস), ড. কাওসার আহমেদ (NYU), গোলাপী বেগম, মিসেস রুকসানা, এমদাদ চৌধুরী দীপু (বাংলাদেশ ফোরাম), হাজী আনোয়ার হোসেন (কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট), রকস্টার ব্যান্ডের ভোকাল বিপ্লব, শাহ ইসলাম, এমডি আশিক, এমডি আরমান, এমডি শফিক, এমডি রেজাউল করিম এবং দীপন গাজীসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।