‘জুলাই যোদ্ধা’ ট্যাগে নগ্ন ভিডিও ধারণ, দিতে হলো ‘জয় বাংলা’ স্লোগান
‘জুলাই যোদ্ধা’ ট্যাগ দিয়ে নেত্রকোনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১০ জুন) রাত ৮টার দিকে নেত্রকোনা-পূর্বধলা সড়কের পূর্বধলা উপজেলার ত্রিমোহনীর সিন্দুররাটিয়া শালদিঘা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাত ১২টার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। হেনস্তার শিকার ওই শিক্ষার্থীর নাম মো. শরীফ হোসেন। তিনি নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার শুনই এলাকার জানু মিয়ার ছেলে এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। পুলিশ ও হেনস্তার শিকার ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শরীফ হোসেন ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে যান। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জ গদাইকান্দি গ্রামে বড় বোন তানিয়া আক্তারের বাড়িতে যান তিনি। সেখান থেকে বুধবার বিকেলে নেত্রকোনা-পূর্বধলা সড়কের বাইপাস মোড় এলাকায় ঘুরতে বের হন। সন্ধ্যার পর সেখান থেকে একটি ইজিবাইকে করে পূর্বধলা সদরের উদ্দেশে রওয়ানা হন তিনি। পথে ত্রিমোহনী সেতু পার হয়ে সিন্দুররাটিয়া শালদিঘা এলে দুই যুবক তাকে ওই ইজিবাইক থেকে নামতে বললে তিনি নেমে পড়েন।
‘জুলাই যোদ্ধা’ ট্যাগ দিয়ে নেত্রকোনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১০ জুন) রাত ৮টার দিকে নেত্রকোনা-পূর্বধলা সড়কের পূর্বধলা উপজেলার ত্রিমোহনীর সিন্দুররাটিয়া শালদিঘা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাত ১২টার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
হেনস্তার শিকার ওই শিক্ষার্থীর নাম মো. শরীফ হোসেন। তিনি নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার শুনই এলাকার জানু মিয়ার ছেলে এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও হেনস্তার শিকার ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শরীফ হোসেন ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে যান। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জ গদাইকান্দি গ্রামে বড় বোন তানিয়া আক্তারের বাড়িতে যান তিনি। সেখান থেকে বুধবার বিকেলে নেত্রকোনা-পূর্বধলা সড়কের বাইপাস মোড় এলাকায় ঘুরতে বের হন। সন্ধ্যার পর সেখান থেকে একটি ইজিবাইকে করে পূর্বধলা সদরের উদ্দেশে রওয়ানা হন তিনি। পথে ত্রিমোহনী সেতু পার হয়ে সিন্দুররাটিয়া শালদিঘা এলে দুই যুবক তাকে ওই ইজিবাইক থেকে নামতে বললে তিনি নেমে পড়েন। পরে ওই তরুণেরা তাকে মাদক কারবারি বলে হেনস্তা করতে থাকেন।
এসময় সেখানে আরেকজন যুবক অংশ নেন। তিন যুবক মিলে তাকে ‘মাদক কারবারি’ ও ‘জুলাই যোদ্ধা’ ট্যাগ দিয়ে নির্যাতন করতে থাকেন। এসময় মুক্তিপণ হিসেবে ২০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। পরে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে থাকা ৫০০ টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা এনে মোট সাড়ে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এসময় যুবকরা তার স্মার্টফোনটি নিয়ে যাযন। পরে তাকে বস্ত্রহীন করে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়।
রাত ১২টার পর থেকে ছড়িয়ে পড়া ২৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, শরীফ হোসেনকে বস্ত্রহীন করে বলানো হচ্ছে, ‘আমি একজন জুলাই যোদ্ধা, আমি আর জুলাই করতাম না। জুলাই...। আমি আগে ভুল করছি ছাত্রদের পক্ষে থাইক্কা। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।’ এসময় বস্ত্রহীন অবস্থায় শরীফকে কাঁদতে দেখা যায়। তার ঠোঁটে জমাট বাধা রক্ত।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নেত্রকোনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে শরীফ হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। এসময় তিনি বলেন, ‘তিন যুবক হঠাৎ আমাকে থামিয়ে বস্ত্রহীন করে অমানসিক নির্যাতন করেছেন। অন্ধকারে আমি কাউকেও চিনতে পারি নাই। আমি কাউকে সন্দেহও করছি না। আমার কোনো শত্রু আছে বলে জানা নেই। আমি কখনো কোনদিন কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। আমি জুলাই আন্দোলনের সঙ্গেও কখনো জড়িত ছিলাম না। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বলতে পারেন একরকম ট্রমার মধ্য দিয়ে কাটাচ্ছি।’
এসময় সঙ্গে থাকা শরীফের বড় বোন জামাই উজ্জ্বল খান বলেন, ‘শরীফ খুবই নিরীহ প্রকৃতির ছেলে। সে কখনো কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। এমনকি জুলাই আন্দোলনের সঙ্গেও না। তাকে মিথ্যা জুলাই যোদ্ধা ট্যাগ দিয়ে যারা এরকম নির্যাতন করেছে, আমরা তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানাই।’
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) প্রীতম সোহাগ, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নেত্রকোনা কমিটির সদস্যসচিব মো. ফাহিম রহমান খান পাঠান প্রমুখ। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া। আজ সকালে কার্যালয়ে এনে তার সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থল যেহেতু পূর্বধলা থানায়, তাই সেখানে একটি অভিযোগ দিতে বলা হয়। আশা করি, জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আটক করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’
এইচ এম কামাল/এসআর/এমএস
What's Your Reaction?