জুলাই সনদ নিয়ে দ্বন্দ্বের কিছু নেই, সব ডকুমেন্ট দেখুন
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব-বিসংবাদের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদে যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের বিষয়টি সনদেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। কোনো বিষয়ে কারও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) থাকলে তা নির্বাচনী ইশতেহারের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরে ম্যান্ডেট নেওয়ার কথাও সনদে বলা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বর্তমান বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে এক গণমাধ্যমকর্মীর প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। নজরুল ইসলাম খান বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের যে দলিল সরকার প্রকাশ করেছে, সেখানে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য প্রায় সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করেছেন। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে তারা ওই দলিলে স্বাক্ষর করেছেন। একটি রাজনৈতিক দলের জন্য এ ধরনের দলিলে স্বাক্ষরের মূল্য সবচেয়ে বেশি হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘যারা এই ডকুমেন্টে সিগনেচার (স্বাক্ষর) করেছেন, সেই ডকুমেন্টের একদম প্রথমেই বলা আছে—কেন এই জু
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব-বিসংবাদের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদে যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের বিষয়টি সনদেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। কোনো বিষয়ে কারও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) থাকলে তা নির্বাচনী ইশতেহারের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরে ম্যান্ডেট নেওয়ার কথাও সনদে বলা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বর্তমান বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে এক গণমাধ্যমকর্মীর প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের যে দলিল সরকার প্রকাশ করেছে, সেখানে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য প্রায় সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করেছেন। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে তারা ওই দলিলে স্বাক্ষর করেছেন। একটি রাজনৈতিক দলের জন্য এ ধরনের দলিলে স্বাক্ষরের মূল্য সবচেয়ে বেশি হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘যারা এই ডকুমেন্টে সিগনেচার (স্বাক্ষর) করেছেন, সেই ডকুমেন্টের একদম প্রথমেই বলা আছে—কেন এই জুলাই জাতীয় সনদ, সংবিধান সংশোধনের কথা কেন বলা হয়েছে, সংস্কারের লক্ষ্যে। এখন আমরা দেখছি সংশোধন শব্দটা অনেকের কাছে অপছন্দ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই কথাতেই তো সবাই স্বাক্ষর করেছেন।’
জুলাই জাতীয় সনদে মতপার্থক্যের বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, কোনো আলোচনায় দ্বিমত থাকতেই পারে। সেই দ্বিমত সঠিক বা গ্রহণযোগ্য কি না, তা বিচারের ভার জনগণের ওপর দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যারাই যে বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, তারা যদি সেটা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করে জনগণের ম্যান্ডেটের জন্য পেশ করে এবং জনগণের ম্যান্ডেট পায়, তাহলে তারা সেই অনুযায়ী বাস্তবায়ন করবে। এটা সকলের স্বাক্ষরিত দলিলে আছে।’
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি তার অবস্থান থেকে সরে যায়নি। বরং স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদেই কীভাবে মতপার্থক্যের বিষয়গুলো জনগণের কাছে নেওয়া হবে, তার পথ দেখানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যারা পরবর্তীতে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছেন, তারাও একই দলিল মেনে নিয়েছেন। যে কাজের জন্য সংবিধান সংশোধন করা হবে এবং কী কী সংশোধন করা হবে, তা সনদে উল্লেখ রয়েছে। কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকলে তা নির্বাচনী ইশতেহারের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরে ম্যান্ডেট নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
গণভোটের প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, গণভোটের দলিলও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করেই করা হয়েছে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কেউ কেউ বিষয়টি স্বীকার করছেন না।
তিনি বলেন, সরকার সবসময় বলে আসছে, স্বাক্ষরিত জাতীয় সনদই জনগণের ম্যান্ডেট হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো বলিনি যে শুধু এই ডকুমেন্ট বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা সবসময় বলেছি যে ডকুমেন্টে আমরা সবাই একমত হয়েছি, সেটাই হলো জনগণের ম্যান্ডেট।’
সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় আলোচনার সুযোগ থাকবে উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীও সংসদে বলেছেন—যখন বিষয়টি আইন বা সংশোধনী আকারে সংসদে আসবে, তখন সবাই আলোচনা করতে পারবেন। আলোচনায় অপেক্ষাকৃত ভালো কোনো মতামত পাওয়া গেলে তা গ্রহণের সুযোগও থাকবে।
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রে আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। সংসদে হোক কিংবা সংসদের বাইরে, আলোচনা করেই মতপার্থক্য দূর করতে হবে।’
জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ না বাড়িয়ে সংশ্লিষ্ট দলিলগুলো ভালোভাবে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আল্লাহর ওয়াস্তে আপনারা সমস্ত ডকুমেন্ট একটু দেখেন। মনে করেন আমরা দোষ করেছি—বলেন। আমরা চেষ্টা করব।’
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে বিএনপি তার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যায়নি। যারা বিষয়টিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছেন, তাদেরও স্বাক্ষরিত দলিলগুলো পর্যালোচনা করা উচিত।
এমইউ/এসএইচএস
What's Your Reaction?
