জুলাই হত্যাকাণ্ডের ‘পক্ষ নেওয়া’ চবির অধ্যাপক আটক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর হাসান মোহাম্মদ রোমানকে আটক করা হয়েছে।  শনিবার (১০ জানুয়ারি) তাকে প্রক্টর অফিসে সোপর্দ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) প্রতিনিধিরা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। জানা যায়, শনিবার সকালে আইন অনুষদের ১ নম্বর গ্যালারিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন হাসান মোহাম্মদ রোমান। তার উপস্থিতির খবর পেয়ে চাকসু নেতারা আইন অনুষদের ডিন অফিসে অবস্থান নেন। বিষয়টি টের পেয়ে ওই শিক্ষক পালানোর চেষ্টা করলে চাকসু প্রতিনিধিরা তাকে আটক করে প্রক্টর কার্যালয়ে নেন। চাকসু নেতাদের অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাসান মোহাম্মদ রোমান ফ্যাসিবাদী শক্তির পক্ষে সক্রিয় ছিলেন। এ ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে মদের আড্ডায় অংশ নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের অপরাধমূলক কাজে উসকানি দেওয়ার ছবিও ভাইরাল হয়েছে। চাকসুর আইন ও মানবাধ

জুলাই হত্যাকাণ্ডের ‘পক্ষ নেওয়া’ চবির অধ্যাপক আটক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর হাসান মোহাম্মদ রোমানকে আটক করা হয়েছে। 

শনিবার (১০ জানুয়ারি) তাকে প্রক্টর অফিসে সোপর্দ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) প্রতিনিধিরা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়।

জানা যায়, শনিবার সকালে আইন অনুষদের ১ নম্বর গ্যালারিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন হাসান মোহাম্মদ রোমান। তার উপস্থিতির খবর পেয়ে চাকসু নেতারা আইন অনুষদের ডিন অফিসে অবস্থান নেন। বিষয়টি টের পেয়ে ওই শিক্ষক পালানোর চেষ্টা করলে চাকসু প্রতিনিধিরা তাকে আটক করে প্রক্টর কার্যালয়ে নেন।

চাকসু নেতাদের অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাসান মোহাম্মদ রোমান ফ্যাসিবাদী শক্তির পক্ষে সক্রিয় ছিলেন। এ ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে মদের আড্ডায় অংশ নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের অপরাধমূলক কাজে উসকানি দেওয়ার ছবিও ভাইরাল হয়েছে।

চাকসুর আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ফ্যাসিবাদী আমলে অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার ধ্বংস করেছেন। জুবায়ের হোসেন সোহাগ নামের এক শিক্ষার্থীকে জঙ্গি মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়েছিলেন তিনি। ক্যাম্পাসের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি বাধা প্রদান করতেন।

মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আমরা তাকে আঘাত করিনি। পালানোর চেষ্টা করার সময় তিনি নিজে কিছুটা ব্যথা পেয়েছেন।

সব অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় আমি একদিনের জন্যও বাইরে বের হইনি বা কোনো দায়িত্বে ছিলাম না। আমি কোনো মিছিলে অংশ নিইনি এবং কাউকে মামলাও দিইনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী জানান, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি তাকে প্রক্টর কার্যালয়ে আনা হয়েছে। তার গায়ে কেউ হাত তোলেনি। যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত চিফ মেডিকেল অফিসার আবু তৈয়ব জানান, ওই শিক্ষকের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তিনি মানসিকভাবে কিছুটা আতঙ্কিত ও অস্বস্তিতে রয়েছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow