জেএসডির ১০ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশে অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ১০ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘আগামীর বাংলাদেশ: রাষ্ট্র রূপান্তরের ১০ রূপরেখা’ শীর্ষক এই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন। তিনি বলেন, আজও রাষ্ট্র কাঠামোতে ঔপনিবেশিক এবং বৈষম্যমূলক ধারা রয়ে গেছে। আমরা চাই, অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্র; যেখানে শ্রমজীবী, নারী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও সাধারণ মানুষ কেবল ভোটার নয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্রিয় অংশীদার হবে। তাই এই ইশতেহার শুধু সরকার পরিবর্তনের নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের পাথেয়। ’৭১ ও ’২৪ এর শহীদদের রক্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের ১০ দফার প্রস্তাব বাস্তবায়ন জরুরি মনে করি। জেএসডির ১০ দফার মূল প্রস্তাবনা দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ : নিম্নকক্ষ ৩০০ সদস্য, এলাকাভিত্তিক নির্বাচিত। উচ্চকক্ষ ২০০ সদস্য; শ্রমজীবী, কর্মজীবী, পেশাজীবী, নারী, ক্ষুদ্র জাতিসত্
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশে অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ১০ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘আগামীর বাংলাদেশ: রাষ্ট্র রূপান্তরের ১০ রূপরেখা’ শীর্ষক এই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।
তিনি বলেন, আজও রাষ্ট্র কাঠামোতে ঔপনিবেশিক এবং বৈষম্যমূলক ধারা রয়ে গেছে। আমরা চাই, অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্র; যেখানে শ্রমজীবী, নারী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও সাধারণ মানুষ কেবল ভোটার নয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্রিয় অংশীদার হবে। তাই এই ইশতেহার শুধু সরকার পরিবর্তনের নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের পাথেয়। ’৭১ ও ’২৪ এর শহীদদের রক্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের ১০ দফার প্রস্তাব বাস্তবায়ন জরুরি মনে করি।
জেএসডির ১০ দফার মূল প্রস্তাবনা
দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ : নিম্নকক্ষ ৩০০ সদস্য, এলাকাভিত্তিক নির্বাচিত। উচ্চকক্ষ ২০০ সদস্য; শ্রমজীবী, কর্মজীবী, পেশাজীবী, নারী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও রাষ্ট্রপতি মনোনীত। ৯টি প্রদেশ ও প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা।
জাতীয় ঐকমত্যের সরকার : প্রধানমন্ত্রী হবেন সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থেকে আর উপ-প্রধানমন্ত্রী হবেন নিকটতম সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থেকে।
প্রার্থী প্রত্যাহার (Recall) ও জনগণের আইন উদ্যোগ : ১৫% ভোটারের লিখিত আবেদনে নতুন আইন প্রণয়নের সুযোগ।
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার : রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত নির্দলীয় বা অদলীয় সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করবেন।
স্বাধীন নির্বাচন কমিশন : রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত।
ফেডারেল সরকার ও স্বশাসিত উপজেলা : মেট্রোপলিটন সরকার, নয়টি প্রদেশ, নির্বাচিত প্রাদেশিক সরকার, স্থানীয় স্বশাসিত প্রশাসন।
জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল (NEC) : শ্রম, কর্ম ও পেশার প্রতিনিধির মাধ্যমে বাজেট ও নীতি প্রণয়ন সুপারিশ।
জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল (NSC) : রাষ্ট্রপতির অধীনে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সেনা-বিমান-নৌ প্রধান।
সাংবিধানিক আদালত : ৭ সদস্যবিশিষ্ট, সাংবিধানিক জটিলতা চূড়ান্তভাবে সমাধান।
স্থায়ী বিচার বিভাগীয় কাউন্সিল : বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, হাইকোর্ট ও উপজেলা পর্যায়ে বিস্তৃতি, মানবাধিকার বেঞ্চ।
সংবিধান ও শাসন সংস্কার : প্রধানমন্ত্রীর দুই টার্ম সীমা, ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার, বিচারক নিয়োগ ও ক্ষমতার ভারসাম্য।
স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবহন সংস্কার : সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, নিরাপদ সড়ক ও পরিবহন।
গণমাধ্যম ও জাতীয় সমঝোতা কমিশন : স্বাধীন, বিবিধ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম, সংঘাত নিরসন।
পুলিশ ও দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার : মানবিক ও জবাবদিহিমূলক পুলিশ; স্বচ্ছ ও কার্যকর দুর্নীতি প্রতিরোধ।
পরিবেশ ও জলবায়ু উদ্যোগ : জীবাশ্ম জ্বালানি হ্রাস, নবায়নযোগ্য শক্তি, পরিকল্পিত বনায়ন ও আইনগত বাধ্যবাধকতা।
তথ্য ও প্রযুক্তি : ডিজিটাল বাংলাদেশ, উচ্চগতির ইন্টারনেট, ফ্রিল্যান্সার সুবিধা।
নারীর ক্ষমতায়ন : সকল স্তরে সমঅংশীদারিত্ব, সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব, কর্মক্ষেত্রে সমতা।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপদ জ্বালানি : আধুনিক প্রতিরক্ষা বাহিনী, বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ, নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার।
অর্থনৈতিক ও যুব উন্নয়ন : মাইক্রো ক্রেডিট, কৃষি ও শিল্প উন্নয়ন, প্রবাসী বিনিয়োগ, উপজেলা শিল্পাঞ্চল, যুব প্রশিক্ষণ, ৫ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান।
সংবাদ সম্মেলনে এই ১০ দফা বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘তারা’ মার্কায় ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানানো হয়।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. হেলালুজ্জামান আহমেদ, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, বাংলাদেশ জাসদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান রিজু, ভাসানী জনশক্তি পার্টি'র প্রেসিডিয়াম সদস্য বাবুল বিশ্বাস।
এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন, জেএসডির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাইনুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল তারেক, এস এম শামসুল আলম নিক্সন, মোশারেফ হোসেন মন্টু, মো. মোস্তফা কামাল, ইকবাল খান জাহিদ, আব্দুল মান্নান মুন্সী, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নুরুল আমিন, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী কবি সাহানা সেলিম, তৃতীয়-চতুর্থ সরকারি কর্মচারী নেতা এমএ আওয়াল, যুব বাঙ্গালির নেতা কাজী মাহতাব উদ্দিন তানসেন, ইউসুফ রুজেল, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বৈ.স) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাবিলা সুলতানা প্রমুখ।
What's Your Reaction?