জেনারেশন বিটার সন্তানদের জন্য কীভাবে প্রস্তুত হবেন অভিভাবকরা

২০২৫ সাল শুধু নতুন বছর নয়; বরং একটি নতুন প্রজন্মের সূচনাও। ২০২৫ সাল থেকে জন্ম নেওয়া শিশুদের বলা হবে জেনারেশন বিটা। ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রজন্মের জন্মকাল চলবে প্রায় ২০৩৯ সাল পর্যন্ত। জেনারেশন বিটা আসছে জেনারেশন আলফার পর। মনোভাব, আচরণ, দক্ষতা ও জীবনদৃষ্টিতে তারা আগের প্রজন্ম - জেনারেশন আলফা, জেন জি, মিলেনিয়াল বা বেবি বুমারদের থেকে অনেকটাই ভিন্ন হবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। নতুন প্রজন্ম নিয়ে আগ্রহ যেমন আছে, তেমনি তাদের বড় করে তোলার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সামনে থাকবে নতুন ও জটিল চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে সন্তান লালন-পালনে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও সচেতনতা জরুরি হয়ে উঠবে। পেছনে তাকালে: জেনারেশন আলফার বৈশিষ্ট্য (২০১০–২০২৪) করোনাভাইরাস মহামারি সবার ওপরই প্রভাব ফেলেছে, তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিশু ও কিশোররা। জেনারেশন আলফার অনেক শিশু স্কুল বন্ধ থাকার কারণে সামাজিক দক্ষতা গড়ে তোলার সুযোগ হারিয়েছে। এর ফলে অনেক শিশুর মধ্যে দেখা গেছে  - স্কুলে মানিয়ে নিতে সমস্যা - সামাজিক ভীতি ও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি - একাকিত্ব ও নিজেকে গুটিয়ে রাখার প্রবণতা এই অভিজ্ঞতাগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের

জেনারেশন বিটার সন্তানদের জন্য কীভাবে প্রস্তুত হবেন অভিভাবকরা

২০২৫ সাল শুধু নতুন বছর নয়; বরং একটি নতুন প্রজন্মের সূচনাও। ২০২৫ সাল থেকে জন্ম নেওয়া শিশুদের বলা হবে জেনারেশন বিটা। ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রজন্মের জন্মকাল চলবে প্রায় ২০৩৯ সাল পর্যন্ত।

জেনারেশন বিটা আসছে জেনারেশন আলফার পর। মনোভাব, আচরণ, দক্ষতা ও জীবনদৃষ্টিতে তারা আগের প্রজন্ম - জেনারেশন আলফা, জেন জি, মিলেনিয়াল বা বেবি বুমারদের থেকে অনেকটাই ভিন্ন হবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

নতুন প্রজন্ম নিয়ে আগ্রহ যেমন আছে, তেমনি তাদের বড় করে তোলার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সামনে থাকবে নতুন ও জটিল চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে সন্তান লালন-পালনে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও সচেতনতা জরুরি হয়ে উঠবে।

পেছনে তাকালে: জেনারেশন আলফার বৈশিষ্ট্য (২০১০–২০২৪)

করোনাভাইরাস মহামারি সবার ওপরই প্রভাব ফেলেছে, তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিশু ও কিশোররা। জেনারেশন আলফার অনেক শিশু স্কুল বন্ধ থাকার কারণে সামাজিক দক্ষতা গড়ে তোলার সুযোগ হারিয়েছে।

এর ফলে অনেক শিশুর মধ্যে দেখা গেছে 

- স্কুলে মানিয়ে নিতে সমস্যা

- সামাজিক ভীতি ও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি

- একাকিত্ব ও নিজেকে গুটিয়ে রাখার প্রবণতা

এই অভিজ্ঞতাগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে।

সামনে তাকিয়ে: জেনারেশন বিটার সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্য

বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনের নানা চাপ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জেনারেশন বিটার শিশুরা কিছু ভিন্ন দক্ষতা গড়ে তুলতে পারে।

তাদের মধ্যে থাকতে পারে 

- আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা

- মানসিক সুস্থতার চর্চা, যেমন ধ্যান বা মননশীল অভ্যাস

- শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি

- দৈনন্দিন জীবন সামলানোর ব্যবহারিক দক্ষতা

এই দক্ষতাগুলো তাদের বাস্তব জীবনে আরও আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে পারে।

জেনারেশন আলফা ও জেনারেশন বিটা: মিল ও অমিল

বয়সের দিক থেকে কাছাকাছি হলেও বৈশিষ্ট্যে দুই প্রজন্মের মধ্যে পার্থক্য থাকবে।

জেনারেশন বিটার অভিভাবকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে বেশি সচেতন হতে পারেন। এর ফলে তারা আগের প্রজন্মের ভালো দিকগুলো গ্রহণ করে নেতিবাচক দিকগুলো এড়িয়ে চলার সুযোগ পাবে।

জেনারেশন বিটার শিশুরা মানসিক চাপ মোকাবিলায় আরও পরিণত ও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে তারা স্ক্রিন ব্যবহারে সংযত হয়ে পারিবারিক সময়, খেলাধুলা ও দৈনন্দিন রুটিনকে বেশি গুরুত্ব দিতে শিখবে।

অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ: জেনারেশন আলফা ও বিটা লালন-পালন

জেনারেশন আলফার ক্ষেত্রে

- সন্তানের আত্মপরিচয় গড়ে তুলতে সাহায্য করা জরুরি

- অন্যদের সঙ্গে তুলনার চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে সহায়তা করা

- পরিবারের সঙ্গে যৌথ কার্যক্রমে যুক্ত করা

- খোলামেলা আলোচনা ও যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা

শিশুকে ছোট লক্ষ্য নির্ধারণে সাহায্য করা যেতে পারে, যেমন - লেখালেখি, আঁকাআঁকি বা স্কুলের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া, যা সামাজিক দক্ষতা বাড়ায়।

জেনারেশন বিটার ক্ষেত্রে

- ছোটবেলা থেকেই ধৈর্য ও অপেক্ষার গুরুত্ব শেখানো

- কান্না করলেই সব চাওয়া পূরণ না করে যুক্তি বোঝানো

- নতুন দক্ষতা শেখার সময় অভিভাবকদের ধৈর্য ধরে পাশে থাকা

এতে শিশুরা ধীরে ধীরে পরিশ্রমের মূল্য বুঝবে এবং অন্যের সাফল্য বা দামি জিনিস নয়, বরং চেষ্টা ও অধ্যবসায়কেই গুরুত্ব দিতে শিখবে।

প্রজন্ম বদলালেও সন্তানের প্রতি ভালোবাসা, যত্ন ও সচেতন অভিভাবকত্বের গুরুত্ব একই থাকে। জেনারেশন আলফা ও জেনারেশন বিটা—উভয় প্রজন্মের ক্ষেত্রেই সহমর্মিতা, ধৈর্য ও বাস্তবমুখী শিক্ষা তাদের ভবিষ্যতের জন্য শক্ত ভিত গড়ে দেবে।

পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে সন্তানদের শুধু সফল নয়, বরং মানসিকভাবে শক্ত ও মানবিক করে গড়ে তুলতে হলে অভিভাবকদেরও সময়ের সঙ্গে শিখতে ও মানিয়ে নিতে হবে। তাতেই আগামী প্রজন্ম জীবনযুদ্ধের জন্য সত্যিকার অর্থে প্রস্তুত হয়ে উঠবে।

সূত্র : NDTV

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow