জেলা পরিষদের ১০ কোটি টাকার হিসাব দিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

কুমিল্লা জেলা পরিষদের ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে প্রশাসকের মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে তিনি বরাদ্দসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাখ্যা দেন এবং প্রকল্পভিত্তিক অর্থ বরাদ্দের হিসাব তুলে ধরেন। প্রায় ৪৩ মিনিটের ওই লাইভে হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেন, রাজস্ব বরাদ্দ ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বরাদ্দের মধ্যে পার্থক্য না বুঝেই একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এগুলো প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দের অর্থ। ব্যক্তি হিসেবে আমাদের সঙ্গে এসব অর্থের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ, যা জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।” হাসনাতের অভিযোগ, জেলা পরিষদের প্রশাসক এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন যেন তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওই অর্থ গ্রহণ করেছেন। অথচ বাস্তবে দেবিদ্বার উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে এসব বরাদ্দ ব্যয় করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “এখানে গোপন করার কিছু নেই। সব তথ্য সরকারি ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত রয়েছে। যে কেউ চাইলে প্রকল্প, বরাদ্দ ও ব্যয

জেলা পরিষদের ১০ কোটি টাকার হিসাব দিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

কুমিল্লা জেলা পরিষদের ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে প্রশাসকের মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে তিনি বরাদ্দসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাখ্যা দেন এবং প্রকল্পভিত্তিক অর্থ বরাদ্দের হিসাব তুলে ধরেন।

প্রায় ৪৩ মিনিটের ওই লাইভে হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেন, রাজস্ব বরাদ্দ ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বরাদ্দের মধ্যে পার্থক্য না বুঝেই একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “এগুলো প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দের অর্থ। ব্যক্তি হিসেবে আমাদের সঙ্গে এসব অর্থের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ, যা জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।”

হাসনাতের অভিযোগ, জেলা পরিষদের প্রশাসক এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন যেন তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওই অর্থ গ্রহণ করেছেন। অথচ বাস্তবে দেবিদ্বার উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে এসব বরাদ্দ ব্যয় করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “এখানে গোপন করার কিছু নেই। সব তথ্য সরকারি ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত রয়েছে। যে কেউ চাইলে প্রকল্প, বরাদ্দ ও ব্যয়ের বিস্তারিত দেখতে পারবেন। আমি আগেও এসব বরাদ্দ নিয়ে প্রকাশ্যে হিসাব দিয়েছি।”

লাইভে তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিনি নির্বাচিত হওয়ার আগেই এডিপি সাধারণ, এডিপি বিশেষ এবং জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্বসহ বিভিন্ন খাত থেকে মোট ৮ কোটি ৪২ লাখ টাকার প্রকল্প দেবিদ্বার উপজেলায় অনুমোদন করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই অর্থ ১৪৮টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং কোনো প্রকল্পই এখনও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি।

তিনি বলেন, “এক টাকা কম বা বেশি নয়, মোট ৮ কোটি ৪২ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। অথচ বলা হচ্ছে আমি ১০ কোটি টাকা নিয়ে গেছি। গত দুই দিন ধরে এমনভাবে মিডিয়া ট্রায়াল চালানো হয়েছে যেন আমরা অর্থ আত্মসাৎ করেছি বা মানুষের কাছ থেকে তথ্য গোপন করেছি।”

হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেন, বরাদ্দসংক্রান্ত সব তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এবং সামান্য অনুসন্ধান করলেই প্রকল্পের খাত, অর্থের পরিমাণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, “আমার এলাকার সব বরাদ্দ ও উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আমি নিয়মিত জনগণকে অবহিত করি। আমার ‘জবাবদিহিতায়’ পেজেও এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হয়। বর্তমানে সবার হাতেই মোবাইল ও ইন্টারনেট রয়েছে। যে কেউ চাইলে তথ্য যাচাই করতে পারেন। বিষয়টিকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

উল্লেখ্য, কুমিল্লা জেলা পরিষদের বরাদ্দ নিয়ে সম্প্রতি প্রশাসকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বক্তব্য দেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow