জ্বর ছাড়লেই ডেঙ্গুর আসল বিপদ! ডা. নোবেলের সতর্কবার্তা
সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে জনপ্রিয় চিকিৎসক ডা. নোবেলের একটি সচেতনতামূলক ফেসবুক পোস্ট। ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় সাধারণ মানুষের প্রচলিত ভুল ধারণা এবং জ্বর কমার পরের জটিলতা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ তথ্য দিয়েছেন তিনি। ডা. নোবেল জানান, অনেক সময় ডেঙ্গু রোগীর জ্বর ছেড়ে গেলে পরিবার মনে করে রোগী সুস্থ হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ঠিক এই মুহূর্তেই ডেঙ্গুতে মৃত্যুঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। ডেঙ্গুর ৩টি ধাপ ও ‘ক্রিটিক্যাল ফেজ’ পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ডেঙ্গু ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর তিনটি ধাপ অতিক্রম করে: ১. প্রথম ধাপ: ৩ থেকে ৪ দিন তীব্র জ্বর থাকা। ২. দ্বিতীয় ধাপ (ক্রিটিক্যাল ফেজ): জ্বর নামার পর ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সময়টি সবচেয়ে বিপজ্জনক। এই সময়ে রক্তনালী থেকে পানি বের হয়ে রোগীর প্রেশার বা রক্তচাপ কমে যায় এবং শক সিন্ড্রোম দেখা দিতে পারে, যা বাইরে থেকে সহজে বোঝা যায় না। আরও পড়ুন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ২০ হাজার ছাড়ালো ডা. নোবেলের মতে, আমরা অনেকেই প্লাটিলেট কাউন্ট নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত থাকি। বারবার টেস্ট করা বা পেঁপে পাতার রস খাওয়ানোর মতো বিষয়গুলোতে নজর দিই। অথচ ডেঙ্গুতে বেশিরভাগ রোগী
সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে জনপ্রিয় চিকিৎসক ডা. নোবেলের একটি সচেতনতামূলক ফেসবুক পোস্ট। ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় সাধারণ মানুষের প্রচলিত ভুল ধারণা এবং জ্বর কমার পরের জটিলতা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ তথ্য দিয়েছেন তিনি।
ডা. নোবেল জানান, অনেক সময় ডেঙ্গু রোগীর জ্বর ছেড়ে গেলে পরিবার মনে করে রোগী সুস্থ হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ঠিক এই মুহূর্তেই ডেঙ্গুতে মৃত্যুঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
ডেঙ্গুর ৩টি ধাপ ও ‘ক্রিটিক্যাল ফেজ’ পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ডেঙ্গু ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর তিনটি ধাপ অতিক্রম করে: ১. প্রথম ধাপ: ৩ থেকে ৪ দিন তীব্র জ্বর থাকা। ২. দ্বিতীয় ধাপ (ক্রিটিক্যাল ফেজ): জ্বর নামার পর ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সময়টি সবচেয়ে বিপজ্জনক। এই সময়ে রক্তনালী থেকে পানি বের হয়ে রোগীর প্রেশার বা রক্তচাপ কমে যায় এবং শক সিন্ড্রোম দেখা দিতে পারে, যা বাইরে থেকে সহজে বোঝা যায় না।
ডা. নোবেলের মতে, আমরা অনেকেই প্লাটিলেট কাউন্ট নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত থাকি। বারবার টেস্ট করা বা পেঁপে পাতার রস খাওয়ানোর মতো বিষয়গুলোতে নজর দিই। অথচ ডেঙ্গুতে বেশিরভাগ রোগী প্লাটিলেট কমার কারণে মারা যায় না; বরং ‘শক’ এবং অতিরিক্ত পানিশূন্যতার কারণেই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
জরুরি সতর্ক সংকেত জ্বর ছেড়ে যাওয়ার পর রোগীর মধ্যে নিচের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলে কোনো বিলম্ব না করে (এমনকি সকাল হওয়ার অপেক্ষাও না করে) দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
পেটে তীব্র ব্যথা বা পেট চেপে ধরে রাখা
৬ ঘণ্টায় ৩ বারের বেশি বমি হওয়া
৬ থেকে ৮ ঘণ্টা প্রস্রাব বন্ধ থাকা বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসা ও শরীর ঘেমে যাওয়া
তীব্র অস্থিরতা, খিটখিটে ভাব বা হঠাৎ ঝিমিয়ে পড়া
মাড়ি, নাক দিয়ে রক্ত পড়া অথবা কালো পায়খানা হওয়া
ওষুধ নির্বাচনে ভুল নয় তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ডেঙ্গু জ্বরে কোনোভাবেই আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক বা অ্যাসপিরিন জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ানো যাবে না। এসব ওষুধ শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। জ্বরের জন্য কেবল প্যারাসিটামল এবং প্রচুর পরিমাণে পানি, খাওয়ার স্যালাইন, ডাবের পানি ও স্যুপ খাওয়ানো উচিত।
স্ট্যাটাসের শেষে তিনি পরামর্শ দেন, জ্বর তিন দিনের বেশি থাকলে অবশ্যই ডেঙ্গু টেস্ট করাতে হবে। তবে জ্বর নেমে গেলে নিশ্চিন্ত না হয়ে পরবর্তী দুই দিন রোগীর দিকে সর্বোচ্চ খেয়াল রাখার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
এসইউজে/এমআরএম
What's Your Reaction?
