জ্বালানি তেলের দাম কবে স্বাভাবিক হবে, জানালেন বিশেষজ্ঞরা

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘোষিত নাজুক যুদ্ধবিরতির পরও বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থিতিশীল হতে সময় লাগবে, যা কয়েক মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সংঘাতের জেরে ইরান গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি চলাচল সীমিত করে দেয়। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বে মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের আগে প্রতিদিন যেখানে ১২০–১৪০টি জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করত, সংঘাতের সময় তা নেমে আসে হাতে গোনা কয়েকটিতে। যুদ্ধবিরতির পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরান নাকি জাহাজ চলাচলে অতিরিক্ত ফি আরোপ করছে। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ফি নয়, বরং সরবরাহের অনিশ্চয়তাই দাম বাড়ার মূল কারণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার কারণে তরল প্রাকৃতিক গ

জ্বালানি তেলের দাম কবে স্বাভাবিক হবে, জানালেন বিশেষজ্ঞরা
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘোষিত নাজুক যুদ্ধবিরতির পরও বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থিতিশীল হতে সময় লাগবে, যা কয়েক মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সংঘাতের জেরে ইরান গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি চলাচল সীমিত করে দেয়। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বে মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের আগে প্রতিদিন যেখানে ১২০–১৪০টি জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করত, সংঘাতের সময় তা নেমে আসে হাতে গোনা কয়েকটিতে। যুদ্ধবিরতির পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরান নাকি জাহাজ চলাচলে অতিরিক্ত ফি আরোপ করছে। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ফি নয়, বরং সরবরাহের অনিশ্চয়তাই দাম বাড়ার মূল কারণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার কারণে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও অন্যান্য জ্বালানির বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। তবে এই খাত পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ইতোমধ্যে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, সংঘাতের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ধীর করে দিতে পারে। এদিকে বিশ্বজুড়ে তেলের সংকট সুরাহা হতে যেসব সংকট রয়েছে, সেগুলো নিয়ে প্রতিবেদন করেছে আলজাজিরা। হরমুজ প্রণালি ও সরবরাহ জটিলতা: বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ জলপথটি কার্যত বন্ধ ছিল। চুক্তি অনুযায়ী এটি খুলে দেওয়া হলেও তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। ট্যাংকারের দূরত্ব: যুদ্ধের কারণে বিশাল আকৃতির তেলবাহী ট্যাংকারগুলো বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এই জাহাজগুলো ফের উপসাগরীয় অঞ্চলে ফিরে এসে তেল লোড করতে কয়েক সপ্তাহ সময় নেবে। নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা: মাত্র দুই সপ্তাহের এই ‘ভঙ্গুর’ যুদ্ধবিরতির মধ্যে বড় বিনিয়োগ বা জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি নিতে এখনো অনেক কোম্পানি দ্বিধাগ্রস্ত। তেলকূপ চালুর কারিগরি চ্যালেঞ্জ: দীর্ঘদিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় এবং অনশোর স্টোরেজ (তীরবর্তী মজুতাগার) পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের অনেক তেল উৎপাদনকারী দেশ তাদের কূপগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল। ধীর প্রক্রিয়া: একটি তেলকূপ বা রিফাইনারি ফের চালু করা বৈদ্যুতিক সুইচ টেপার মতো সহজ কাজ নয়। এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ কারিগরি প্রক্রিয়া। স্থাপনার ক্ষতি: যুদ্ধের সময় অনেক জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, যা মেরামত করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।  

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow