জ্বালানি নিয়ে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির আশঙ্কা, সেনা মোতায়েন চায় বিপিসি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব দেশের জ্বালানি তেলের আমদানি ও সরবরাহের ওপরও পড়েছে। জ্বালানি তেলের বিপননের ক্ষেত্রে রেসনিং পদ্ধতি চালু করেছে সরকার। পাশপাশি ডিপো থেকে জ্বালানি সরবরাহ ২৫ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। ক্রেতাদের মধ্যেও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ জ্বালানি তেল মজুতও করছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিপোগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন চেয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এ চিঠিতে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেল বিপণনে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন ডিপো হতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিলারগণের আকস্মিক বর্ধিত চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাচ্ছেনা। এতে জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানিসমূহের চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গার প্রধান স্থাপনাসহ প্রধান প্রধান ডিপোসমূহ অর্থাৎ খুলনা জেলার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জ জেলার বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জ জেলার গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর এবং বরিশাল ডিপোসমূহে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবন

জ্বালানি নিয়ে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির আশঙ্কা, সেনা মোতায়েন চায় বিপিসি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব দেশের জ্বালানি তেলের আমদানি ও সরবরাহের ওপরও পড়েছে। জ্বালানি তেলের বিপননের ক্ষেত্রে রেসনিং পদ্ধতি চালু করেছে সরকার। পাশপাশি ডিপো থেকে জ্বালানি সরবরাহ ২৫ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। ক্রেতাদের মধ্যেও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ জ্বালানি তেল মজুতও করছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিপোগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন চেয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এ চিঠিতে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেল বিপণনে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন ডিপো হতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিলারগণের আকস্মিক বর্ধিত চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাচ্ছেনা। এতে জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানিসমূহের চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গার প্রধান স্থাপনাসহ প্রধান প্রধান ডিপোসমূহ অর্থাৎ খুলনা জেলার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জ জেলার বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জ জেলার গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর এবং বরিশাল ডিপোসমূহে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে মর্মে জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানি সূত্রে জানা যায়।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, দেশের জ্বালানি তেলের ডিপোসমূহ কেপিআই ভুক্ত স্থাপনা হওয়ায় জরুরীভিত্তিতে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ প্রেক্ষিতে বিপণন কোম্পানিসমূহের উল্লিখিত স্থাপনাগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জরুরী ভিত্তিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রয়োজন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিপণন কোম্পানিসমূহের চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গাস্থ প্রধান স্থাপনা, খুলনা জেলার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জ জেলার বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জ জেলার গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর এবং বরিশাল ডিপোসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সেনাবাহিনী মোতায়েন এর পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত ও নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দিয়ে পত্র জারি করেছে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্ততে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সারা দেশে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ পরিস্থিতি তদারকি করতে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে।

গতকাল রাজধানীতে কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে আকষ্মিক অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত। এতে রাজারবাগের রহমান ট্রেডার্স ডিজেল, অকটেন, পেট্রোলের মজুত থাকলেও, অকটেন বিক্রি বন্ধ রাখে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাম্পটিতে অভিযান চালিয়ে দেখতে পান সেখানে চার হাজারের বেশি অকটেন মজুত রাখা হয়। পাম্প মালিককে সতর্ক করে দেওয়ার পর পুনরায় যানবাহনে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হয়।

রাজধানীর মুগদা এলাকার শান্ত সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনও জ্বালানি তেল বন্ধ করে দেওয়ার পর ভ্রাম্যমান আদালতের হস্তক্ষেপে পুনরায় বিক্রি শুরু করে। এ স্টেশনের কর্মচারীরা যানবাহনের চাপ সামলাতে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছেন বলে ম্যাজিস্ট্রেটকে জানান।

এমন পরিস্থিতি ঢাকার অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পই ঘটেছে। সরজমিনে দেখা গেছে, কোথাও কোথাও যানবাহনের দীর্ঘ্য লাইন। কোথাও কোথাও জটলা ও হট্রগোল।

চলমান পরিস্থিতিতে সবাইকে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। সরকার এ বিষয়ে পাঁচটি নির্দেশনাও জারি করে। নির্দেশনাগুলো হলো্ - বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া, সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহার করা, ব্যক্তিগত যানবাহন কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহার, খোলাবাজারে ডিজেল, পেট্রোল বিক্রি রোধে ব্যবসায়ীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর হওয়া এবং জ্বালানি পাচার রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিজিবিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।

এরআগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেছেন, যুদ্ধ সবার জন্যই ক্ষতি ডেকে আনছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপনন স্বাভাবিক রাখতে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow