জ্বালানি সংকটে মোটরসাইকেল মেকারদের জীবিকায় টান

• সুনসান নীরবতা কর্মব্যস্ত গ্যারেজে• সিংহভাগ আয় কমেছে মোটরসাইকেল মেকারদের• সংসার চালাতে হিমশিম মেকানিকরা• ক্রেতার অপেক্ষায় বসে থাকেন পার্টস ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে গাইবান্ধায়। তেলের তীব্র এই সংকটের প্রভাব পড়েছে মোটরসাইকেল গ্যারেজ ও যন্ত্রাংশ ব্যবসা এবং মেকানিকদের জীবনে। জ্বালানি না পাওয়ায় মোটরসাইকেলের অনেক চালক বাইক চালানো বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে কাজ কমে যাওয়ায় সুনসান নীরবতা নেমে এসেছে মেকানিকদের দোকানগুলোতে। সরেজমিনে গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন মেকানিকদের গ্যারেজ ঘুরে দেখা যায়, জ্বালানি তেলের অভাবে বাইক চলাচল কমে যাওয়ায় গ্যারেজগুলো এখন প্রায় ফাঁকা। হাতুড়ি-রেঞ্জের কোলাহলের বদলে এখন দোকানগুলোতে নেমে এসেছে সুনসান নীরবতা। কাজ না থাকায় অলস সময় কাটাতে হচ্ছে কর্মীদের। জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে রয়েছে সহস্রাধিক গ্যারেজ ও প্রায় চারশতাধিক মোটরসাইকেল যন্ত্রাংশের দোকান। এই খাতের সঙ্গে কর্মসংস্থানে জড়িত বিপুল সংখ্যক মানুষ এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। ‘আগে দিনে ১০ -১৫টা মোটরসাইকেলের কাজ করতাম, এখন সেখানে ২-৩টা কাজও আসে না। বেশিরভাগ সময় বসেই থাকতে হচ্ছে। এই অবস্থায় পরিবারের

জ্বালানি সংকটে মোটরসাইকেল মেকারদের জীবিকায় টান

সুনসান নীরবতা কর্মব্যস্ত গ্যারেজে
সিংহভাগ আয় কমেছে মোটরসাইকেল মেকারদের
সংসার চালাতে হিমশিম মেকানিকরা
ক্রেতার অপেক্ষায় বসে থাকেন পার্টস ব্যবসায়ীরা

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে গাইবান্ধায়। তেলের তীব্র এই সংকটের প্রভাব পড়েছে মোটরসাইকেল গ্যারেজ ও যন্ত্রাংশ ব্যবসা এবং মেকানিকদের জীবনে। জ্বালানি না পাওয়ায় মোটরসাইকেলের অনেক চালক বাইক চালানো বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে কাজ কমে যাওয়ায় সুনসান নীরবতা নেমে এসেছে মেকানিকদের দোকানগুলোতে।

সরেজমিনে গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন মেকানিকদের গ্যারেজ ঘুরে দেখা যায়, জ্বালানি তেলের অভাবে বাইক চলাচল কমে যাওয়ায় গ্যারেজগুলো এখন প্রায় ফাঁকা। হাতুড়ি-রেঞ্জের কোলাহলের বদলে এখন দোকানগুলোতে নেমে এসেছে সুনসান নীরবতা। কাজ না থাকায় অলস সময় কাটাতে হচ্ছে কর্মীদের।

জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে রয়েছে সহস্রাধিক গ্যারেজ ও প্রায় চারশতাধিক মোটরসাইকেল যন্ত্রাংশের দোকান। এই খাতের সঙ্গে কর্মসংস্থানে জড়িত বিপুল সংখ্যক মানুষ এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

‘আগে দিনে ১০ -১৫টা মোটরসাইকেলের কাজ করতাম, এখন সেখানে ২-৩টা কাজও আসে না। বেশিরভাগ সময় বসেই থাকতে হচ্ছে। এই অবস্থায় পরিবারের খরচ চালানো নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি’

মেকানিকরা জানান, পেট্রোল-অকটেনের সংকটে প্রয়োজন ছাড়া মোটরসাইকেল বের করছেন না চালকরা, ফলে কাজের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

জ্বালানি সংকটে মোটরসাইকেল মেকারদের জীবিকায় টান

ক্রেতা না থাকায় বিক্রি কমেছে মোটরসাইকেল পার্টেসের। ছবি: জাগো নিউজ

শহরের মোটরসাইকেল মেকানিক শিপন মিয়া বলেন, আগে প্রতিদিন গ্যারেজে অনেক কাজ থাকত। এখন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বসে থাকার পরও দুই তিনটার বেশি মোটরসাইকেল আসে না। এখন জ্বালানি তেল সংকটের কারণে মানুষ বাইক কম চালাচ্ছে, ফলে কাজও অনেক কমে গেছে। দিন শেষে আয় না থাকায় সংসার চালানো এখন খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।

জ্বালানি সংকটে জেলেদের রোজগারে ভাটা
‘যুদ্ধ যেন বাংলাদেশেই চলছে’
ছাদবাগান থেকে শুরু, চাঁদপুরে এখন আঙুর চাষে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত
হাওরে জলাবদ্ধতায় ভরা মৌসুমেও সংকটে কৃষক
সরকারের কোনো উদ্যোগেই কাটছে না জ্বালানি খাতের অস্থিরতা

মেকানিক মাসুদ রানা বলেন, আগে দিনে ১০ -১৫টা মোটরসাইকেলের কাজ করতাম, এখন সেখানে ২-৩টা কাজও আসে না। বেশিরভাগ সময় বসেই থাকতে হচ্ছে। এই অবস্থায় পরিবারের খরচ চালানো নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।

‘তেল সংকটের কারণে বেচা বিক্রি একেবারে কমে গেছে। শুধু কোম্পানি আর জরুরি কাজের সঙ্গে যারা জড়িত তারাই মোটরসাইকেল বের করছেন। ব্যক্তিগত গাড়ি অনেকেই তেলের কারণে বাসা থেকে বের করতে পারছে না। বর্তমানে যা বিক্রি হচ্ছে তা দিয়ে ঘরভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও কর্মী দিয়ে দোকান চালানো সম্ভব হচ্ছে না’

মেকানিক মো. নিরব বলেন, কাজের আশায় প্রতিদিন গ্যারেজ খুলি। কিন্তু দুই-একটা মোটরসাইকেল আসলেও কাজ কম। নিজের সংসার চালানো তো দূরের কথা- গ্যারেজ খরচও উঠছে না। কবে এই তেল সংকট কেটে যাবে তাও জানা যাচ্ছে না। আরও শুনছি সামনে আর বেশি সংকট দেখা যাবে। কীভাবে জীবন চালাবো তা নিয়ে চিন্তায় আছি।

শুধু গ্যারেজই নয়, একই অবস্থা মোটরবাইক পার্টস ব্যবসায়ীদেরও। ক্রেতা না থাকায় দোকানগুলোতে নেই আগের মতো ভিড়। অনেকেই সময় কাটাচ্ছেন মোবাইলে, কেউ আবার বসে আছেন ক্রেতার অপেক্ষায়। তবে দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতনসহ নানা খরচ ঠিকই বহন করতে হচ্ছে তাদের, যা বাড়তি চাপ তৈরি করছে। তারাও দিশাহারা এই সংকটে।

জ্বালানি সংকটে মোটরসাইকেল মেকারদের জীবিকায় টান

কাজ কমে যাওয়ায় গল্প করে দিন পার করেছেন মেকানিকরা। ছবি: জাগো নিউজ

পার্টস ব্যবসায়ী রাতুল সরকার বলেন, আগে প্রতিদিন দোকানে অনেক ভালো বিক্রি হতো। দোকানে ক্রেতাদের সমাগম থাকত। কিন্তু এখন জ্বালানি তেল সংকটের কারণে বাইক কম চলাচল করায় মালামাল বিক্রি অনেক কমে গেছে। সারাদিন বসে থেকেও তেমন বেচাকেনা হয় না। দোকান ভাড়া ও অন্যান্য খরচ চালাতে কষ্ট হচ্ছে।

আরেক মোটরসাইকেলের পার্টস ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, এখন দোকানে আগের মতো আর ক্রেতা আসে না। সারাদিন বসে থাকি। মালামাল অনেক কম বিক্রি হচ্ছে । অথচ দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন সব খরচ ঠিক আগের মতোই দিতে হচ্ছে। জ্বালানি তেল সংকট না কাটলে আমাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।

‘জ্বালানি তেলের সংকট দূর না হলে, সব কিছু বিক্রি করে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করতে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তেল সংকট দ্রুত নিরসনের দাবি জানাই’

মোটরসাইকেল চালক হারুন বলেন, আমি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করি। টার্গেট পূরণ করতে প্রতিদিন ৬০ কিলোমিটার চালিয়ে কোম্পানির অর্ডার কাটতে হয়। কিন্তু সেই মোতাবেক তেল পাচ্ছি না। ৭-৮ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে যে তেল পাই- তা দিয়ে দুই দিনও যায় না। চাকরি থাকবে কি না চিন্তায় পড়েছি।

মৌলভীবাজারে জনপ্রিয় হচ্ছে সিরাজের বাঁশের ফার্নিচার
রান্নাঘরের ‘মৃত্যুফাঁদ’ গ্যাস সিলিন্ডার
শুকিয়ে যাচ্ছে ধানের জমি, তেলের খোঁজে পাম্পে পাম্পে ঘুরছে কৃষক
‘নদীর সব জাটকা ধরা হয়ে গেছে, মনে হয় না সামনে ইলিশ পাবো’

হাজী মটরসের স্বাধিকার মিনাজুর রহমান নয়ন বলেন, তেল সংকটের কারণে বেচা বিক্রি একেবারে কমে গেছে। শুধু কোম্পানি আর জরুরি কাজের সঙ্গে যারা জড়িত তারাই মোটরসাইকেল বের করছেন। ব্যক্তিগত গাড়ি অনেকেই তেলের কারণে বাসা থেকে বের করতে পারছে না। বর্তমানে যা বিক্রি হচ্ছে তা দিয়ে ঘরভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও কর্মী দিয়ে দোকান চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

জ্বালানি সংকটে মোটরসাইকেল মেকারদের জীবিকায় টান

মোটরসাইকেলের মেকানিকদের দোকানে নেই পুরোনে সেই কর্মব্যস্ততা। ছবি: জাগো নিউজ

বাংলা মটরসের স্বাধিকার মো. ফিরোজ কবির বলেন, তেল সংকটের আগে দৈনিক ১ হাজার টাকা বিক্রি হলে, এখন ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকা বিক্রি হয়। যা দিয়ে দোকানের খরচ চালানো যাচ্ছে না। সংসার চালাবো কিভাবে।

একটি কোম্পানি ফিল্ড অফিসার কামরুল হাসান বলেন, তেলের কারনে মাঠে কাজ করতে পারছি না। ৭-৮ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ে থেকে পাঁচশো তেল নিয়ে হয় পাম্প থেকে। তা দিয়ে দুই দিন চলে। এখন তেলই নিয়ে দিন শেষ করবো নাকি, কোম্পানির কাজ করবো। অন্য দিকে অফিসাররা কাজের গতি বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন চাপ দেয়। বুঝতে পারছি না, সামনের অবস্থা কেমন হবে।

‘তেল সংকটের আগে দৈনিক ১ হাজার টাকা বিক্রি হলে, এখন ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকা বিক্রি হয়। যা দিয়ে দোকানের খরচ চালানো যাচ্ছে না। সংসার চালাবো কিভাবে’

‎এদিকে, সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গাইবান্ধা জেলা মোটর মেকানিক কমিটির সহ-সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, জ্বালানি তেলের সংকট দূর না হলে, সব কিছু বিক্রি করে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করতে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তেল সংকট দ্রুত নিরসনের দাবি জানাই।

এনএইচআর/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow