ঝাউবাগান নিধন করে বালিয়াড়িতে ‘প্লট বাণিজ্য’
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন বিস্তীর্ণ বালিয়াড়ি এলাকায় ঝাউবাগান কেটে এবং বালিয়াড়ি দখল করে অবৈধভাবে প্লট তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। ছোট-বড় বিভিন্ন আয়তনে জমি ভাগ করে প্রকাশ্যেই বিক্রি করা হচ্ছে প্লট, যেখানে ১০ শতক জমির দাম ধরা হচ্ছে প্রায় এক লাখ টাকা। শুধু বিক্রিই নয়, ইতিমধ্যে এসব প্লটে ঘর তুলে বসবাসও শুরু করেছে কয়েকটি পরিবার। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি জমি নিজেদের নামে দেখাতে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এসব জমি বিক্রি করা হচ্ছে। দখলকৃত এলাকায় পাহারাদার বসানো এবং সিসিটিভি স্থাপন করে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে নাজিরারটেক সংলগ্ন কয়েকটি স্থানে গিয়ে দেখা যায়, ঝাউগাছ কেটে ফেলে খালি করে দেওয়া হয়েছে বড় বড় এলাকা। কোথাও বালিয়াড়ি ঘিরে মৎস্যঘের তৈরি করা হয়েছে, আবার কোথাও জমি ছোট ছোট প্লটে ভাগ করে দাগ টেনে রাখা হয়েছে। কিছু স্থানে অস্থায়ী ঘর তুলে পাহারাদার রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব জায়গা ইতিমধ্যে বিক্রির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কয়েক বছর আগেও এখানে ঘন ঝাউবাগান ছিল। এখন রাতারাতি গাছ কেটে জায়গ
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন বিস্তীর্ণ বালিয়াড়ি এলাকায় ঝাউবাগান কেটে এবং বালিয়াড়ি দখল করে অবৈধভাবে প্লট তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। ছোট-বড় বিভিন্ন আয়তনে জমি ভাগ করে প্রকাশ্যেই বিক্রি করা হচ্ছে প্লট, যেখানে ১০ শতক জমির দাম ধরা হচ্ছে প্রায় এক লাখ টাকা। শুধু বিক্রিই নয়, ইতিমধ্যে এসব প্লটে ঘর তুলে বসবাসও শুরু করেছে কয়েকটি পরিবার।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি জমি নিজেদের নামে দেখাতে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এসব জমি বিক্রি করা হচ্ছে। দখলকৃত এলাকায় পাহারাদার বসানো এবং সিসিটিভি স্থাপন করে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে নাজিরারটেক সংলগ্ন কয়েকটি স্থানে গিয়ে দেখা যায়, ঝাউগাছ কেটে ফেলে খালি করে দেওয়া হয়েছে বড় বড় এলাকা। কোথাও বালিয়াড়ি ঘিরে মৎস্যঘের তৈরি করা হয়েছে, আবার কোথাও জমি ছোট ছোট প্লটে ভাগ করে দাগ টেনে রাখা হয়েছে। কিছু স্থানে অস্থায়ী ঘর তুলে পাহারাদার রাখা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব জায়গা ইতিমধ্যে বিক্রির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কয়েক বছর আগেও এখানে ঘন ঝাউবাগান ছিল। এখন রাতারাতি গাছ কেটে জায়গা দখল করে প্লট বানানো হচ্ছে। কারা করছে সবাই জানে, কিন্তু কেউ বলতে পারে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ দখলচক্রের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে মহেশখালীর বাসিন্দা অ্যাডভোকেট সায়েমের নাম বেশি শোনা যাচ্ছে। পাশাপাশি সেলিম, সৈয়দ আলম, সোহেল, মোস্তাক, নাছির, মিজান, সাইফুল, গিয়াস উদ্দিন, মনির, হুমায়ন ও কায়সারসহ আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করেন, আবার কেউ বন বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পদে থাকার অভিযোগও আছে।
মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই দখল কার্যক্রম চলছে। আগে এক ধরনের প্রভাবশালীদের নাম সামনে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন কিছু ব্যক্তির নাম যুক্ত হয়েছে। এতে দখল প্রক্রিয়া আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, এখানে জমি কেনাবেচা হচ্ছে প্রকাশ্যেই। প্লট ধরে ধরে দাম ঠিক করা হচ্ছে। কিন্তু কাগজপত্র সবই সন্দেহজনক। তারপরও প্রভাবশালীদের কারণে কেউ প্রশ্ন তুলতে সাহস পায় না।
অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট সায়েমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য টানা এক সপ্তাহ চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দখলকারীরা শুধু জমি দখলেই থেমে নেই, বরং এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেও সক্রিয়। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয়। ফলে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পান না।
একজন জেলে বলেন, আমরা জানি জমিগুলো সরকারি। কিন্তু যারা দখল করছে, তাদের ক্ষমতা বেশি। তাই কিছু বললে বিপদে পড়তে হবে।
এ বিষয়ে বন বিভাগের কক্সবাজার রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. হাবিবুল হক বলেন, দখলের বিষয়টি আমরা জানি। তবে নির্দিষ্টভাবে কারা জড়িত, সে তালিকা আমাদের কাছে নেই। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা গেলে দখলমুক্ত করা সম্ভব।
অন্যদিকে প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, দখল উচ্ছেদে মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হলেও অনেক ক্ষেত্রে আগাম তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তা পুরোপুরি সফল হয় না। এতে দখলকারীরা আগেভাগেই সতর্ক হয়ে যায়।
পরিবেশবিদরা বলছেন, ঝাউবাগান কেটে ফেলা ও বালিয়াড়ি দখল শুধু জমি দখলের বিষয় নয়, এটি উপকূলীয় পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। ঝাউগাছ উপকূলকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে এবং বালিয়াড়ি সমুদ্রতীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব ধ্বংস হলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়বে পুরো এলাকা।
স্থানীয়দের মতে, দখলবাজদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে। তারা দ্রুত তদন্ত ও দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
What's Your Reaction?