‘টসটসা, মধু মধু’ হাঁকডাক সায়েদাবাদে, ক্রেতাদের জটলা

পবিত্র কোরবানির ঈদের আগের দিনও গ্রামে ফিরছে মানুষ। বাসের হর্ন, সিএনজি অটোরিকশা ও পায়ে হেঁটে বাসস্ট্যান্ডে যানবাহনের দিকে ছুটছে। গাড়ির হুইসেল, মানুষের শোরগোল, নানা ধরনের জটলা লেগেই আছে। মহাব্যস্ততার মধ্যে ফুটপাতের পাশে ভ্যান গাড়িতে ফল বিক্রেতারা লিচু নিয়ে বসে আছেন। বিক্রেতারা ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়ে হাঁকডাক দিয়ে ‘মধু, মধু’ বলে লিচু বিক্রি করছেন। কেউ বলছেন মধু মধু, কেউবা বলছেন রসে টস-টসা, দিনাজপুরের লিচু, কেউবা তিন’শ আবার সাড়ে তিন’শ। আবার বলছেন রাজশাহীর লিচু সাড়ে চার’শ, চয়ানা লিচু, বোম্বে লিচু সাড়ে চার, পাঁচ এমন কি ছয়’শ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকছে। সেই মজাদার লিচু আগে খান পরে লন, চলে আসেন, না হলে পরে হয়ত লিচুর স্বাদ না-ও পেতে পারেন।’ দাম কম, এটা ভালো লিচু, দেখে লইয়েন, পোকা নেই, বিভিন্ন ছলে, বলে কৌশলে ক্রেতাদের আকর্ষণ করার চেষ্টা করে ডেকেই যাচ্ছেন। ক্রেতাদেরও দেখে খেয়ে দাম দর করে লিচু কিনতে দেখা গেছে। যদিও গত দুই দিনের চেয়ে আজকে লিচুর দাম একটু বেশি। বুধবার (২৭ মে) যাত্রাবাড়ী সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এদিন প্রচুর লিচু বিক্রি হয়েছে বলে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

‘টসটসা, মধু মধু’ হাঁকডাক সায়েদাবাদে, ক্রেতাদের জটলা

পবিত্র কোরবানির ঈদের আগের দিনও গ্রামে ফিরছে মানুষ। বাসের হর্ন, সিএনজি অটোরিকশা ও পায়ে হেঁটে বাসস্ট্যান্ডে যানবাহনের দিকে ছুটছে। গাড়ির হুইসেল, মানুষের শোরগোল, নানা ধরনের জটলা লেগেই আছে। মহাব্যস্ততার মধ্যে ফুটপাতের পাশে ভ্যান গাড়িতে ফল বিক্রেতারা লিচু নিয়ে বসে আছেন। বিক্রেতারা ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়ে হাঁকডাক দিয়ে ‘মধু, মধু’ বলে লিচু বিক্রি করছেন।

কেউ বলছেন মধু মধু, কেউবা বলছেন রসে টস-টসা, দিনাজপুরের লিচু, কেউবা তিন’শ আবার সাড়ে তিন’শ। আবার বলছেন রাজশাহীর লিচু সাড়ে চার’শ, চয়ানা লিচু, বোম্বে লিচু সাড়ে চার, পাঁচ এমন কি ছয়’শ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকছে।

সেই মজাদার লিচু আগে খান পরে লন, চলে আসেন, না হলে পরে হয়ত লিচুর স্বাদ না-ও পেতে পারেন।’ দাম কম, এটা ভালো লিচু, দেখে লইয়েন, পোকা নেই, বিভিন্ন ছলে, বলে কৌশলে ক্রেতাদের আকর্ষণ করার চেষ্টা করে ডেকেই যাচ্ছেন। ক্রেতাদেরও দেখে খেয়ে দাম দর করে লিচু কিনতে দেখা গেছে। যদিও গত দুই দিনের চেয়ে আজকে লিচুর দাম একটু বেশি।

বুধবার (২৭ মে) যাত্রাবাড়ী সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এদিন প্রচুর লিচু বিক্রি হয়েছে বলে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। তবে, তার আগের দুই দিন সোম ও মঙ্গলবার এর চেয়েও বেশি লিচু বিক্রি হয়ছে বলেও জানান ব্যবসায়ীরা। কেউ, ৫ হাজার, কেউ চার হাজার, কেউ তিন হাজার লিচু বিক্রি করছেন বলে জানান। একজন বলেন, প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা লিচু বিক্রি হয়েছে তার।

jagonews24

আফরোজা যাচ্ছেন বাগেরহাটে, তিন’শ ৮০ টাকা লিচু কিনেছেন। দুই বোন গ্রামে ফিরছেন পরিবারের জন্য দুই’শ লিচু কিনেছেন জানিয়ে জাগো নিউজকে বলেন, গ্রামে লিচু নেই। কিনে খেতে চাইলেও অনেক দূরে গিয়ে আনতে হবে। গ্রামে তো এভাবে লিচু পাওয়া যায় না, তাই কিনেছি।

জিহাদ ও রাসেল নামের দুই ভাই লিচু কিনে নিয়ে পটুয়াখালীর দশমিনার উদ্দেশ্যে বাসে উঠার জন্য চলে গেছে। শুধু  আফরোজা, জিহাদ ও রাসেল নয়, গত দুই দিন ধরে শনির আখড়া, সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ীসহ আশপাশ থেকে নানা বয়সী লোকজন লিচু কিনে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। তাড়াহুড়ো করে বাসে উঠেছেন যাত্রীরা। কিন্তু অনেকেই আম, জাম, আপেল, কমলা, আঙুর কিনছেন। কেউবা কিনছেন শুধু লিচু।

ক্রেতাদের একজন জাগো নিউজকে বলেন, গ্রামের বাড়িতে রওয়ানা দিয়েছি। বাড়িতে ছোট ছেলে-মেয়ে আছে কিন্তু লিচু গাছ নেই। তাই কয়েক’শ লিচু নিলাম। দাম সাড়ে তিন’শ টাকা নিয়েছে। তিনি জানান, দোকাদার প্রথমে চার’শ টাকা বললেও পরে তিন’শ ৮০ এবং সর্বশেষ তিন’শ ৬০ টাকা বলেছিল। কিন্তু দর দাম মিলিয়ে সাড়ে তিন’শ টাকায় কিনেছেন।

jagonews24

নিয়মিত এক ফল ব্যবসায়ী জাগো নিউজকে বলেন, আমি নিজেও কমলা, মাল্টা, আপেল, আঙুর এসব ফলের সাথে সাথে দেশীয় ফল লিচু বিক্রি করেছি। এখন না আমি কিন্তু সারা বছরই ফল বিক্রি করি। শুধু, একটু তাকিয়ে দেখেন এখানে বেশিরভাগই মৌসুমে ফলের ব্যবসায়ী না, তাদের বেশিরভাগ লিচু ব্যবসায়ী।

জানা গেছে, পাশেই ফলের বড় আড়ত হওয়ায় খুব বেশি দূরে যেতে হয় না। কম খরচে লিচু এনে যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ স্ট্যান্ডে পৌঁছাতে পারে তাই লিচু বিক্রি করতেও কোনো সমস্যা হয় না। তিনি বলেন, সোমবারে লিচু বিক্রি হয়েছে বেশি। ওইদিন কমলা, মাল্টা, আপেল বাদে ৫০ হাজার টাকা লিচু বিক্রি করতে পেরেছি।

কোরবানির ঈদের একদিন আগে মৌসুমি ফল বিক্রেতারা একটু লাভের আশায় এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে। মৌসুমি লিচু বিক্রেতা ফোরকান জাগো নিউজকে বলেন, গতকাল সোমবার এবং আজকে মঙ্গলবার দুই দিন লিচু বিক্রি করেছি। আমি একটি বেসরকারি চাকরি করি। ঈদের সময় বাড়ি যাওয়ার আগে লিচু বিক্রি করছি একটু বাড়তি টাকা আয় করবো এই আশায়।

jagonews24

তিনি বলেন, আজকে সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ৩ হাজার লিচু বিক্রি করেছি। লাভ মোটামুটি। তবে, দাম একটু কমে বিক্রি করতে হয়েছে। কারণ, লিচুর ঝাঁপির নিচের দিকে বেশ কিছু আটির মধ্যে লিচু পচে গেছে। কাসটমার দেখার পর সেটি আর দাম দিতে চায় না। তাই পুরো খাঁচির লিচু বেশি- কম দামে মিলিয়ে লাভ করতে হয়।

এখানে লিচুর ছোট, বড় ও মাঝারি আকার বেঁধে ১০০ লিচু ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে তিন’শ, সাড়ে তিন’শ ৪০০ থেকে, ৫০০ এমনকি ৬০০ টাকায় বিক্রি করছেন। বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রামে ফেরা নানা বয়সী লোকজন পরিবার নিয়ে বাসে ওঠার পথে লিচু কিনছেন।

মাছের প্যাকেট ও বাজারের ব্যাগ বিক্রেতা মইনুল ইসলাম বলেন, দুইদিন ধরে লিচু বিক্রয় শুরু করেছি। ঈদের আগে শখে লিচু বিক্রি করছি।

এক বয়স্ক লিচু বিক্রেতা জানান, আমিও গত দুইদিন ধরে লিচু বিক্রি করছি। আজ ১২০০ লিচু কিনেছিলাম, বৃষ্টির কারণে বিক্রি ভালো হচ্ছে না। তবে বৃষ্টির পর হয়ত থাকবে না।

এফএইচ/এমআরএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow