‘টাকা দিলেই’ কারাগারে যখন-তখন মিলছে হাজতির সঙ্গে সাক্ষাৎ

জামালপুর জেলা কারাগারে টাকা ছাড়া কয়েদি কিংবা হাজতিদের সঙ্গে তাদের স্বজনদের দেখা মিলছে না বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কারা বিধি অনুযায়ী সাধারণ নিয়মে মাসে দু-বার বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাতের অনুমতি থাকলেও, নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দিলে যত খুশি ততবারই দেখা করার সুযোগ মিলছে। এছাড়া অতিরিক্ত টাকা দিলে ভেতরে সব ধরনের অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা মেলারও অভিযোগ উঠেছে কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ও বন্দিদের স্বজনদের দাবি, টাকা দিলে কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করা হয় না, আর টাকা না দিলে পোহাতে হয় নানা ভোগান্তি। আব্দুল জলিল নামে এক ব্যক্তি তার হাজতি আত্মীয়ের সুরক্ষার স্বার্থে নিজের পরিচয় গোপন রেখে বলেন, টাকা দিলেই এখানে সব সম্ভব। টাকা দিলে কোনো নিয়ম লাগে না, আর টাকা না থাকলে সাধারণ নিয়ম মানতে বাধ্য করা হয়। একদিন আগে আমিই গিয়েছিলাম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হাজতির স্বজন বলেন, টাকা না দিলেই এখানে সমস্যা। ভেতরে থাকা হাজতির পরিচয় প্রকাশ পেলে তার ওপর নানাভাবে নির্যাতন করা হতে পারে- এই ভয়ে টাকা দিয়েও কেউ মুখ খোলার ঝুঁকি নিতে চান না। মূলত ‘টাকা নাই তো সুবিধা নাই’ নীতিতেই চলছে এই কারাগার। কারাগারের প্রধান ফটকে

‘টাকা দিলেই’ কারাগারে যখন-তখন মিলছে হাজতির সঙ্গে সাক্ষাৎ

জামালপুর জেলা কারাগারে টাকা ছাড়া কয়েদি কিংবা হাজতিদের সঙ্গে তাদের স্বজনদের দেখা মিলছে না বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কারা বিধি অনুযায়ী সাধারণ নিয়মে মাসে দু-বার বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাতের অনুমতি থাকলেও, নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দিলে যত খুশি ততবারই দেখা করার সুযোগ মিলছে।

এছাড়া অতিরিক্ত টাকা দিলে ভেতরে সব ধরনের অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা মেলারও অভিযোগ উঠেছে কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী ও বন্দিদের স্বজনদের দাবি, টাকা দিলে কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করা হয় না, আর টাকা না দিলে পোহাতে হয় নানা ভোগান্তি।

আব্দুল জলিল নামে এক ব্যক্তি তার হাজতি আত্মীয়ের সুরক্ষার স্বার্থে নিজের পরিচয় গোপন রেখে বলেন, টাকা দিলেই এখানে সব সম্ভব। টাকা দিলে কোনো নিয়ম লাগে না, আর টাকা না থাকলে সাধারণ নিয়ম মানতে বাধ্য করা হয়। একদিন আগে আমিই গিয়েছিলাম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হাজতির স্বজন বলেন, টাকা না দিলেই এখানে সমস্যা। ভেতরে থাকা হাজতির পরিচয় প্রকাশ পেলে তার ওপর নানাভাবে নির্যাতন করা হতে পারে- এই ভয়ে টাকা দিয়েও কেউ মুখ খোলার ঝুঁকি নিতে চান না। মূলত ‘টাকা নাই তো সুবিধা নাই’ নীতিতেই চলছে এই কারাগার। কারাগারের প্রধান ফটকে গেলেই দালাল চক্রের তৎপরতা দেখা যায় এবং কারারক্ষীরাও সরাসরি টাকা লেনদেন করেন। 

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক হাজতি বলেন, আমার বউ যখন সময় পেতো তখন যেতো দেখতে। সুবিধামতো সাক্ষাৎ করতে যেত বলে প্রতিবার ১ হাজার টাকা লাগতো। 

তিনি বলেন, টাকা দিলেই সব সুযোগ-সুবিধা মেলে, না হলে উল্টো নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সোমবার (২২ জুন) বিকেলে জামালপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ শফিউল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত টাকা দিয়ে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার কোনো সুযোগ এই কারাগারে নেই। তবে সাক্ষাতের জন্য দু-একটি বিশেষ সুপারিশ নিয়মের বাইরে আসলে, তা মানবিক কারণে বিবেচনা করা হয়ে থাকে মাত্র।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow