‘টাকা-পয়সা লাগবো না, আমগো ছেলে ফেরত চাই’

‘আমার ছেলে গেছে দুই টাকা বৈধ রুজি কইরা বাপ-মারে খাওয়াইবো, আর দেশে রেমিট্যান্স পাঠাইবো। এই আশায় আমার ছেলেরে পাঠাইছি। এখন ছেলে পাঠাইয়া বিপদে পইড়া গেলাম। আর কোনোদিন দেখতে পামু কি না সেটাই জানি না। আমগো টাকাও চাই না, পয়সাও চাই না; আমগো ছেলে আমরা ফেরত চাই।’ রাশিয়ায় নির্মাণ ও ফ্যাক্টরি কাজের কথা বলে গিয়ে যুদ্ধের প্রশিক্ষণে আটকেপড়া চাঁদপুরের কামাল হোসেনের স্বজনদের এই আকুতি এখন আরও বহু পরিবারের। রোববার রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসীকল্যাণ ভবনের সামনে এক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে এমন ভাগ্যবিড়ম্বনার শিকার ৩০ বাংলাদেশির স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তাদের সন্তানদের ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, জাবালে নূর এজেন্সিসহ বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা জমা দিয়ে বৈধ উপায়েই তারা সন্তানদের রাশিয়ায় পাঠিয়েছিলেন। প্রত্যেকের কাছেই ছিল সরকারি জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া রায়হান কবির নামের এক ভুক্তভোগীর ভাই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটা মানুষ কখন বিএমইটি ছাড়পত্র পায়? যখন সে সরকারি সব নিয়ম মেনে বিদেশে যায়। তার মানে কোম্পানিগুলো সরকারি নিয়ম মেনেই প

‘টাকা-পয়সা লাগবো না, আমগো ছেলে ফেরত চাই’

‘আমার ছেলে গেছে দুই টাকা বৈধ রুজি কইরা বাপ-মারে খাওয়াইবো, আর দেশে রেমিট্যান্স পাঠাইবো। এই আশায় আমার ছেলেরে পাঠাইছি। এখন ছেলে পাঠাইয়া বিপদে পইড়া গেলাম। আর কোনোদিন দেখতে পামু কি না সেটাই জানি না। আমগো টাকাও চাই না, পয়সাও চাই না; আমগো ছেলে আমরা ফেরত চাই।’

রাশিয়ায় নির্মাণ ও ফ্যাক্টরি কাজের কথা বলে গিয়ে যুদ্ধের প্রশিক্ষণে আটকেপড়া চাঁদপুরের কামাল হোসেনের স্বজনদের এই আকুতি এখন আরও বহু পরিবারের।

রোববার রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসীকল্যাণ ভবনের সামনে এক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে এমন ভাগ্যবিড়ম্বনার শিকার ৩০ বাংলাদেশির স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তাদের সন্তানদের ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, জাবালে নূর এজেন্সিসহ বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা জমা দিয়ে বৈধ উপায়েই তারা সন্তানদের রাশিয়ায় পাঠিয়েছিলেন। প্রত্যেকের কাছেই ছিল সরকারি জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া রায়হান কবির নামের এক ভুক্তভোগীর ভাই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটা মানুষ কখন বিএমইটি ছাড়পত্র পায়? যখন সে সরকারি সব নিয়ম মেনে বিদেশে যায়। তার মানে কোম্পানিগুলো সরকারি নিয়ম মেনেই পাঠালো। তাহলে আমার ভাইয়েরা প্রতারণার শিকার হলো কীভাবে? যে কোম্পানির নামে তারা যাচ্ছে, সেই নামের কোনো কোম্পানির অস্তিত্বই রাশিয়ায় নেই!’

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া রিনা বেগম জানান, গত ৭ তারিখ তার ছেলে রিপন ও তার বন্ধুসহ ৩০ জনের একটি দল রাশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর প্রথম ৩-৪ দিন কথা হলেও এরপর থেকে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পরে জানা যায়, তাদের নির্মাণ কাজের পরিবর্তে জোরপূর্বক যুদ্ধের ট্রেনিংয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আরেক ভুক্তভোগী কামাল হোসেনের মামা শ্বশুর জলিল খান বলেন, ‘এজেন্সির মালিক আমাদের বলেছিল তারা কোনো অবৈধ লোক পাঠায় না। অথচ ওরা যাওয়ার পর দেখা গেলো, যাদের মাধ্যমে গেছে তারা ওই দেশের সেনাবাহিনীর কাছে ওদের বিক্রি করে দিয়েছে! সর্বশেষ ১২ তারিখ কথা হয়েছিল, ও বলেছিল সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে গিয়ে ট্রেনিং করাচ্ছে।’

উদ্বিগ্ন পরিবারগুলোর মতে, যুবকদের ফিরিয়ে আনার এটাই শেষ সুযোগ। একবার ট্রেনিং শেষ করে তাদের মূল যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দিলে আর কখনোই জীবিত ফিরিয়ে আনা সম্ভব নাও হতে পারে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি

রাশিয়ার দূতাবাস, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে যৌথভাবে জরুরি কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

শুধু এই ৩০ জন নয়, রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে আটকে থাকা প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিককে দ্রুত এবং সুস্থ শরীরে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।

এই মানবপাচার ও ভুয়া কোম্পানির নামে প্রতারণাকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্সযোদ্ধা হতে গিয়ে আজ যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন বিপন্ন শত শত বাংলাদেশি যুবকের। তাদের ফিরিয়ে আনতে এখন সরকারের সর্বোচ্চ মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপই একমাত্র ভরসা।

এমআরএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow