টানা দই-ভাত খেলে ওজন বাড়ে নাকি কমে?

দই-ভাত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় ও সহজপাচ্য খাবার। বিশেষ করে গরমের দিনে বা হজমের সমস্যা হলে অনেকেই দই-ভাত খেতে পছন্দ করেন। তবে অনেকের মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন থাকে-টানা দই-ভাত খেলে ওজন বাড়ে নাকি কমে? এর উত্তর নির্ভর করে দই-ভাতের পরিমাণ, উপাদান, দৈনন্দিন ক্যালোরি গ্রহণ এবং জীবনযাপনের ওপর। দই-ভাতের পুষ্টিগুণ দই-ভাত মূলত দুটি প্রধান উপাদান দিয়ে তৈরি হয় ‘ভাত ও দই’। ভাত থেকে যা পাওয়া যায়- কার্বোহাইড্রেট, শক্তি বা ক্যালোরি, অল্প পরিমাণ প্রোটিন, কিছু ভিটামিন ও খনিজ। অন্যদিকে দই থেকে যা পাওয়া যায় প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, প্রোবায়োটিক বা উপকারী ব্যাকটেরিয়া, ভিটামিন বি১২, পটাশিয়াম। এই দুই উপাদানের সংমিশ্রণে দই-ভাত একটি ভারসাম্যপূর্ণ খাবারে পরিণত হয়, যা শক্তি জোগায় এবং হজমে সহায়তা করে। দই-ভাত খেলে কি ওজন বাড়ে? দই-ভাত খেলে ওজন বাড়তে পারে, যদি অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া হয়। বেশি সাদা ভাত ব্যবহার করা হয়। পূর্ণ-চর্বিযুক্ত (ফুল-ফ্যাট) দই বেশি পরিমাণে খাওয়া হয়। শারীরিক পরিশ্রম কম হয়। দৈনিক ক্যালোরি চাহিদার চেয়ে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করা হয়। ওজন বাড়ে মূলত তখনই ঘটে যখন শরীরের প্রয়োজনের ত

টানা দই-ভাত খেলে ওজন বাড়ে নাকি কমে?

দই-ভাত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় ও সহজপাচ্য খাবার। বিশেষ করে গরমের দিনে বা হজমের সমস্যা হলে অনেকেই দই-ভাত খেতে পছন্দ করেন। তবে অনেকের মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন থাকে-টানা দই-ভাত খেলে ওজন বাড়ে নাকি কমে? এর উত্তর নির্ভর করে দই-ভাতের পরিমাণ, উপাদান, দৈনন্দিন ক্যালোরি গ্রহণ এবং জীবনযাপনের ওপর।

দই-ভাতের পুষ্টিগুণ

দই-ভাত মূলত দুটি প্রধান উপাদান দিয়ে তৈরি হয় ‘ভাত ও দই’। ভাত থেকে যা পাওয়া যায়- কার্বোহাইড্রেট, শক্তি বা ক্যালোরি, অল্প পরিমাণ প্রোটিন, কিছু ভিটামিন ও খনিজ। অন্যদিকে দই থেকে যা পাওয়া যায় প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, প্রোবায়োটিক বা উপকারী ব্যাকটেরিয়া, ভিটামিন বি১২, পটাশিয়াম। এই দুই উপাদানের সংমিশ্রণে দই-ভাত একটি ভারসাম্যপূর্ণ খাবারে পরিণত হয়, যা শক্তি জোগায় এবং হজমে সহায়তা করে।

দই-ভাত খেলে কি ওজন বাড়ে?

দই-ভাত খেলে ওজন বাড়তে পারে, যদি অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া হয়। বেশি সাদা ভাত ব্যবহার করা হয়। পূর্ণ-চর্বিযুক্ত (ফুল-ফ্যাট) দই বেশি পরিমাণে খাওয়া হয়। শারীরিক পরিশ্রম কম হয়। দৈনিক ক্যালোরি চাহিদার চেয়ে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করা হয়। ওজন বাড়ে মূলত তখনই ঘটে যখন শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালোরি জমা হয়। তাই শুধু দই-ভাত নয়, যেকোনো খাবার অতিরিক্ত খেলে ওজন বাড়তে পারে।

দই-ভাত খেলে কি ওজন কমে?

সঠিকভাবে খেলে দই-ভাত ওজন কমানোর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। কারণ-

  • দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে: দইয়ের প্রোটিন এবং ভাতের কার্বোহাইড্রেট একসঙ্গে তৃপ্তি বাড়ায়। ফলে বারবার ক্ষুধা লাগে না।
  • হজম ভালো রাখে: দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে, যা সামগ্রিক বিপাকক্রিয়া ভালো রাখতে সাহায্য করে।
  • কম ক্যালোরির বিকল্প হতে পারে: যদি পরিমিত পরিমাণে লো-ফ্যাট দই এবং সীমিত পরিমাণ ভাত ব্যবহার করা হয়, তাহলে এটি তুলনামূলকভাবে কম ক্যালোরির একটি খাবার হতে পারে।
  • অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প: ফাস্ট ফুড বা অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবারের পরিবর্তে দই-ভাত খেলে মোট ক্যালোরি গ্রহণ কমে যেতে পারে।

ওজন কমানোর জন্য কীভাবে দই-ভাত খাবেন?

যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তারা কবারে অতিরিক্ত ভাত না খেয়ে মাঝারি পরিমাণে খান। লো-ফ্যাট দই ব্যবহার করুন, কারণ কম চর্বিযুক্ত দই ব্যবহার করলে ক্যালোরি কম থাকবে। সঙ্গে শসা, গাজর, টমেটো, ধনেপাতা বা অন্যান্য সবজি মিশিয়ে খেলে ফাইবার বাড়বে এবং পেট বেশি সময় ভরা থাকবে। সাদা ভাতের পরিবর্তে ব্রাউন রাইস ব্যবহার করতে পারেন। অনেকে দই-ভাতে চিনি মেশান। ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে এটি এড়ানো ভালো।

আরও পড়ুন: 

টানা প্রতিদিন দই-ভাত খাওয়া কি ঠিক?

প্রতিদিন দই-ভাত খাওয়া সাধারণত ক্ষতিকর নয়, তবে শুধুমাত্র দই-ভাতের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। কারণ শরীরের জন্য দরকার পর্যাপ্ত প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফাইবার, বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ। শুধু দই-ভাত খেলে পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় মাছ, ডিম, মাংস, ডাল, শাকসবজি এবং ফলও রাখা জরুরি।

কারা সতর্ক থাকবেন?

  • যাদের ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা রয়েছে
  • যাদের দুধজাত খাবারে অ্যালার্জি আছে
  • ডায়াবেটিস রোগীরা, কারণ ভাতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি
  • যাদের ওজন দ্রুত বাড়ছে এবং ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হচ্ছে

এ ধরনের ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

দই-ভাত খাওয়ার সেরা সময়

দই-ভাত সাধারণত দুপুরের খাবার বা হালকা রাতের খাবার হিসেবে ভালো কাজ করে। গরমের দিনে এটি শরীরকে শীতল অনুভূতি দিতে পারে এবং হজমেও স্বস্তি দেয়।

টানা দই-ভাত খেলে ওজন বাড়বে নাকি কমবে-এর নির্দিষ্ট কোনো উত্তর নেই। যদি বেশি পরিমাণে এবং উচ্চ ক্যালোরির উপাদান দিয়ে খাওয়া হয়, তাহলে ওজন বাড়তে পারে। আবার পরিমিত পরিমাণে, লো-ফ্যাট দই ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে খেলে এটি ওজন নিয়ন্ত্রণ বা কমাতেও সহায়ক হতে পারে। অর্থাৎ, ওজন বাড়া বা কমার মূল বিষয় হলো মোট ক্যালোরি গ্রহণ, খাবারের পরিমাণ এবং জীবনযাত্রার ধরন। তাই দই-ভাতকে একটি সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে খেলে এর পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

জেএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow