‘টার্গেট অনুযায়ী দাম না পেলে গরু বিক্রি করবো না’

কোরবানির ঈদ সামনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বামন্দী-নিশিপুর পশুর হাট এখন জমজমাট। স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি আশপাশের জেলা ও ঢাকা থেকে ব্যাপারীরা আসছেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে বেচাকেনা। তবে দেশি গরুর আধিক্য নজর কাড়ছে সবার। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে পশু বেচাকেনা। এবার হাটে পশুর উপস্থিতি গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার সংখ্যা কিছুটা বেশি হওয়ায় দাম নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছেন বাজার ভালো, আবার কেউ কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ার অভিযোগ করছেন। হাট ঘুরে দেখা গেছে, আকারভেদে ৭০ হাজার থেকে ছয় লাখ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে গরু। তবে দেশি জাতের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে। চট্টগ্রাম থেকে আসা ব্যবসায়ী সেলিম রেজা বলেন, ‌‘বামন্দী বাজারে গরুর সরবরাহ ভালো। এখানকার গরুর পশম মসৃণ ও স্বাস্থ্যবান হওয়ায় বাইরের বাজারে এর চাহিদা বেশি। তাই প্রতি বছরই এখান থেকে গরু কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করি। তবে এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় টার্গেট পূরণ করা কঠিন হতে পারে।’ হাটে গরু বিক্রি করতে আসা প্রান্তিক খামারি তারিক হোসেন বলেন, ‘গো-খাদ্যের দাম বাড়া

‘টার্গেট অনুযায়ী দাম না পেলে গরু বিক্রি করবো না’

কোরবানির ঈদ সামনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বামন্দী-নিশিপুর পশুর হাট এখন জমজমাট। স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি আশপাশের জেলা ও ঢাকা থেকে ব্যাপারীরা আসছেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে বেচাকেনা। তবে দেশি গরুর আধিক্য নজর কাড়ছে সবার। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে পশু বেচাকেনা।

এবার হাটে পশুর উপস্থিতি গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার সংখ্যা কিছুটা বেশি হওয়ায় দাম নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছেন বাজার ভালো, আবার কেউ কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ার অভিযোগ করছেন।

হাট ঘুরে দেখা গেছে, আকারভেদে ৭০ হাজার থেকে ছয় লাখ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে গরু। তবে দেশি জাতের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম থেকে আসা ব্যবসায়ী সেলিম রেজা বলেন, ‌‘বামন্দী বাজারে গরুর সরবরাহ ভালো। এখানকার গরুর পশম মসৃণ ও স্বাস্থ্যবান হওয়ায় বাইরের বাজারে এর চাহিদা বেশি। তাই প্রতি বছরই এখান থেকে গরু কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করি। তবে এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় টার্গেট পূরণ করা কঠিন হতে পারে।’

হাটে গরু বিক্রি করতে আসা প্রান্তিক খামারি তারিক হোসেন বলেন, ‘গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় খামার পরিচালনা খরচও বেড়েছে। অথচ সেই অনুযায়ী দাম মিলছে না।’

তিনি বলেন, ‘খড়, ভুসি ও খাদ্যের দাম অনেক বেড়েছে। গরু পালনে যে খরচ হয়েছে, ব্যাপারীরা তার অর্ধেক দাম বলছেন। টার্গেট অনুযায়ী দাম না পেলে গরু বিক্রি করবো না। তবে ঢাকার পার্টি এলে ভালো দাম পাওয়া যাবে।’

‘টার্গেট অনুযায়ী দাম না পেলে গরু বিক্রি করবো না’

হাটজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইজারাদাররা। জাল টাকা প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাটে বসানো হয়েছে পর্যবেক্ষণ টিম। পাশাপাশি পুলিশের টহলও রয়েছে সার্বক্ষণিক।

হাটের ইজারাদার হারুন অর রশিদ বাচ্চু বলেন, ‘সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি হাজার টাকায় খাজনা নেওয়া হলে খরচ আরও বেড়ে যেত। তাই আমরা পশুপ্রতি নির্ধারিত হারে ৬০০-৭০০ টাকা নিচ্ছি। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই উপকৃত হচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু শুক্রবারের হাটেই প্রায় সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার গরু বিক্রি হবে। ছাগলের সংখ্যাও প্রায় সাড়ে তিন হাজার। পুরো মাসজুড়ে এই হাট থেকে তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ কোটি টাকার পশু বেচাকেনা হতে পারে।’

হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, ‘জেলা পুলিশের নির্দেশনায় বামন্দী পশুর হাটের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক টিম কাজ করছে। হাটে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে আমরা সর্বোচ্চ নজর রাখছি।’

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবছর মেহেরপুর জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে এক লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯টি পশু। এর মধ্যে রয়েছে ৪০ হাজার ৩৪৯টি ষাঁড়, চার হাজার ৮৪৪টি বলদ, আট হাজার ৫০৯টি গাভি, ৪৮২টি মহিষ, এক লাখ ১৫ হাজার ৬৬৫টি ছাগল এবং দুই হাজার ৭২০টি ভেড়া।

জেলায় কোরবানির সম্ভাব্য চাহিদা রয়েছে ৯০ হাজার ২৩৪টি পশুর। অর্থাৎ স্থানীয় চাহিদা পূরণ করেও বিপুল সংখ্যক পশু দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

আসিফ ইকবাল/এসআর/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow