ঈদের ছুটির শেষে কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগে বরগুনা পৌর বাস টার্মিনালে অভিযান চালিয়েছে নৌবাহিনী। অভিযানের সময় নৌবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান বিভিন্ন পরিবহনের টিকিট বিক্রেতারা।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে এ অভিযান চলে। এসময় ঢাকাগামী যে সকল যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে তা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করে নৌবাহিনী।
সরজমিনে দেখা যায়, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার জন্য বাস টার্মিনালে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। এ সুযোগে ঢাকাসহ অন্যান্য দূরপাল্লার গন্তব্যের যাত্রীদের কাছ থেকে বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়া থেকে ২০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন ঢাকাগামী পরিবহন শ্রমিকরা। ঈদের পর থেকে যাত্রীদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে বাস টার্মিনালে হঠাৎ অভিযান চালায় নৌবাহিনী। অভিযানের খবর পেয়ে কাউন্টার থেকে সটকে পড়েন টিকিট বিক্রেতারা। ফলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে যাত্রীদের অভিযোগ আমলে নিয়ে ও বরগুনায় বাসমালিক সমিতির সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া ফেরতের ব্যবস্থা করা হয়।
যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদ এলেই ভাড়া বেড়ে যায়। সাধারণত ৫০০- ৬৫০ টাকা নন এসি বাসের ভাড়া থাকে, এসি বাসের ভাড়া নেওয়া হয় ৭০০-৯০০ টাকা পর্যন্ত। ঈদের পর বিআরটিএর চার্ট অনুযায়ী ভাড়ার থেকে বেশি আদায় করা হচ্ছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলে তারা ভাড়া কম রাখেন অথবা কাউন্টার থেকে সটকে পরে।
মো. রাসেল নামে ঢাকাগামী এক যাত্রী বলেন, বাসের টিকিটে অতিরিক্ত ভাড়া নিলেও আমি তাদের মাত্র ১০০ টাকা কম নেওয়ার দাবি জানাই। কিন্তু তারা কম রাখতে পারবেনা বলে আমাকে জানায়।
অভিযান চলাকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে টিকিট সংগ্রহ করতে এসে সুবর্ণা আক্তার নামে এক যাত্রী বলেন, গতকাল টিকিট সংগ্রহ করতে এসে পাইনি। ওই সময় পুলিশের উপস্থিতিতে ৮০০ টাকা করে ভাড়া নিলেও, আজ প্রায় একই পরিস্থিতি। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে টিকিট কিনতে হয়েছে। বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ করতে এসেছি, এখন কর্মস্থলে ফিরতে হবে। এ কারণে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে টিকিট নিতে হচ্ছে।
গ্রীনভিউ পরিবহনের যাত্রী মো. সাকিব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই হাজার ৮০০ টাকা দিয়ে দুটি টিকিট নিয়েছি। এখন শুনছি টিকিটের দাম এক হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, কিন্তু টাকা ফেরত চাইলে দিচ্ছে না।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, বিআরটিএ, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। আমরা অভিযানে গেলে তারা পালিয়ে যায়। আমরা যাত্রীদেরকে বুঝিয়ে এসেছি, টিকিট দিয়ে ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ জানাতে অনুরোধ করেছি। অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নুরুল আহাদ অনিক/এমএন/এমএস