টিকিট ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক, সেই স্টেশন মাস্টারকে বদলি

দীর্ঘ আড়াই বছর একই কন্ট্রোল অর্ডারে দায়িত্ব পালন এবং টিকিট ব্যবস্থাপনা ঘিরে বিতর্কের পর অবশেষে কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. গোলাম রব্বানীকে বদলি করা হয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল জারি করা রেলওয়ের এক অফিস আদেশে তাকে ভিটিও/ঢাকা’র অধীনে ন্যস্ত করা হয়। বুধবার (৬ মে) দুপুরের সাড়ে ১২টার ট্রেনে তিনি কক্সবাজার স্টেশন ত্যাগ করে ঢাকায় যোগদানের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রেলওয়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়, প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে স্টেশন মাস্টার গ্রেড-৩ পদে কর্মরত গোলাম রব্বানীকে প্রেষণে কক্সবাজার থেকে সরিয়ে ভিটিও/ঢাকার অধীনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই আদেশে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। অভিযোগ রযেছে, রেলের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় গোলাম রব্বানীর দীর্ঘদিন কক্সবাজার দাপটে ছিল। সবশেষ ৩০ এপ্রিল নতুন কন্ট্রোল অর্ডারের আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থান পেতে তদবির শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১৮ এপ্রিল প্রকাশিত ‘দায়সারা রেলওয়ে প্রশাসন, এক কন্ট্রোল অর্ডারেই আড়াই বছর’ শিরোনামে ‘দৈনিক কালবেলায়’ একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, চট্টগ্রাম ডিভিশনে কর্মরত থাকলেও গোলাম

টিকিট ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক, সেই স্টেশন মাস্টারকে বদলি
দীর্ঘ আড়াই বছর একই কন্ট্রোল অর্ডারে দায়িত্ব পালন এবং টিকিট ব্যবস্থাপনা ঘিরে বিতর্কের পর অবশেষে কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. গোলাম রব্বানীকে বদলি করা হয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল জারি করা রেলওয়ের এক অফিস আদেশে তাকে ভিটিও/ঢাকা’র অধীনে ন্যস্ত করা হয়। বুধবার (৬ মে) দুপুরের সাড়ে ১২টার ট্রেনে তিনি কক্সবাজার স্টেশন ত্যাগ করে ঢাকায় যোগদানের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রেলওয়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়, প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে স্টেশন মাস্টার গ্রেড-৩ পদে কর্মরত গোলাম রব্বানীকে প্রেষণে কক্সবাজার থেকে সরিয়ে ভিটিও/ঢাকার অধীনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই আদেশে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। অভিযোগ রযেছে, রেলের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় গোলাম রব্বানীর দীর্ঘদিন কক্সবাজার দাপটে ছিল। সবশেষ ৩০ এপ্রিল নতুন কন্ট্রোল অর্ডারের আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থান পেতে তদবির শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১৮ এপ্রিল প্রকাশিত ‘দায়সারা রেলওয়ে প্রশাসন, এক কন্ট্রোল অর্ডারেই আড়াই বছর’ শিরোনামে ‘দৈনিক কালবেলায়’ একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, চট্টগ্রাম ডিভিশনে কর্মরত থাকলেও গোলাম রব্বানী দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা ডিভিশন থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছিলেন এবং একমাত্র কন্ট্রোল অর্ডারের অধীনে টানা আড়াই বছর কক্সবাজার স্টেশনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিষয়টি প্রশাসনিক বিধি-বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে আলোচিত হয়। প্রতিবেদনে গোলাম রব্বানীকে ঘিরে উঠে আসা বিভিন্ন তথ্য ও অভিযোগ তুলে ধরা হয়। বলা হয়, কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের টিকিট বিক্রয় ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ অনুযায়ী, অনলাইন ও কাউন্টার- উভয় মাধ্যমেই টিকিট সংকট দেখা দেয়; তবে পরবর্তীতে একই টিকিট অতিরিক্ত দামে বাইরে বিক্রির ঘটনা নিয়মিত ঘটে। এ প্রেক্ষাপটে টিকিট ব্যবস্থাপনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সক্রিয়তার অভিযোগ উঠে আসে এবং বিষয়টি তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) স্টেশন কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত নথিপত্র চায়। এর আগে ১৬ এপ্রিল কক্সবাজার স্টেশন ঘিরে সিন্ডিকেট, অভিযোগের তীর রব্বানীর দিকে শীর্ষক সংবাদও প্রকাশিত হয় দৈনিক কালবেলায়। ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর কক্সবাজার রেলপথ চালুর পর থেকেই স্টেশনটির টিকিট বিক্রয় ব্যবস্থা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে থাকে। অনলাইন ও কাউন্টার- উভয় মাধ্যমে টিকিট প্রাপ্তি জটিল হয়ে ওঠে। টিকিট ছাড়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তা শেষ দেখানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। একইসঙ্গে পরবর্তীতে সেই টিকিট অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালের শেষ দিকে কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট বিক্রয় সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালত তার পর্যবেক্ষণে টিকিট বিক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তা ফৌজদারি অপরাধের আওতায় বিবেচনার কথা উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের টিকিট বিক্রয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। দুদকের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হুমায়ুন বিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে স্টেশন কর্তৃপক্ষের কাছে টিকিট বিক্রির বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়। এতে অনলাইন ও অফলাইন বিক্রির রেকর্ড, কাউন্টারভিত্তিক হিসাব, কোটা বরাদ্দ তালিকা, ডিউটি রোস্টার এবং সংশ্লিষ্ট স্টাফদের তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা আরেকটি অফিস আদেশে গোলাম রব্বানীকে ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত দপ্তরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে তিনি উপস্থিত হননি বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পরে তিনি ছুটিতে ছিলেন বলে জানানো হয়। এর আগে ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর জারি করা একাধিক প্রশাসনিক আদেশে একই ইউনিটে একাধিক কর্মকর্তার সংযুক্তির বিষয়ও আলোচনায় আসে। এতে দায়িত্ব বণ্টন এবং প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কক্সবাজার রেলস্টেশন চালুর পর থেকে টিকিটের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে। কিন্তু সেই তুলনায় সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। অনলাইনে টিকিট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তা শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়মিত অভিযোগে পরিণত হয়। একইসঙ্গে কাউন্টারে টিকিট না পাওয়ার ঘটনাও ঘনঘন ঘটতে থাকে। রেলপথ প্রতিমন্ত্রী ২০ মার্চ চট্টগ্রাম রেলস্টেশন পরিদর্শন শেষে টিকিট কালোবাজারি রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। তবে তারপরও কক্সবাজার রুটে টিকিট সংকটের পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। রেলওয়ে শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও রেলওয়ে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্যজোটের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট এম আর মনজু বলেন, রেলের চিহ্নিত অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত অন্তত ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অপসারণ করা প্রয়োজন। অনেকেই দুদকের মামলার আসামি এবং বিভিন্ন তদন্তাধীন রয়েছেন। তাদের দায়িত্ব থেকে সরানো হলে সঠিক তথ্য বের হবে এবং রেলের কার্যক্রমও গতিশীল হবে। তা না হলে নিচের পর্যায়ের অনিয়মকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীন বলেন, যেকোনো অনিয়ম-দুর্নীতিতে রেল প্রশাসন জিরো টলারেন্স। কক্সবাজার স্টেশন ঘিরে দুদকের একটি তদন্ত চলছে। তবে কেউ অনিমের সঙ্গে জড়িত থাকলে বিষয়টি যাচাই করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ইতোমধ্যে কক্সবাজার স্টেশন মাস্টার রব্বানীকে কন্ট্রোল অর্ডারে আগের জায়গায় ফেরত আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow