টুংটাং শব্দে মুখর খুলনার কামার পট্টি
কোরবানিকে সামনে রেখে ব্যস্ততা বেড়েছে খুলনার কামার পট্টিতে। সারাদিন টুং টাং শব্দে মুখর কামারপাড়া। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আগুনের ভাটিতে লোহা পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে ছুরি, দা, চাপাতি আর বটি। নতুন জিনিসপত্র বিক্রির পাশাপাশি পুরাতন অস্ত্রে ধার দেওয়াতে ব্যস্ত রয়েছেন কামাররা। মঙ্গলবার (২৬ মে) খুলনার খালিশপুর, নতুন বাজার, দোলখোলা ও বড় বাজারসহ বেশ কিছু জায়গায় ঘুরে দেখা যায়, কোরবানির জন্য কেউ আসছেন নতুন ছুরি, চাকু ও চাপাতি কিনতে। আবার অনেকে আসছেন পুরোনো সরঞ্জাম ধার দিতে। রাত-দিন কাজে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কামারেরা। দোকানে বিভিন্ন আকারের ছুরি ৪০০ থেকে শুরু করে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বড় দা বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে এক হাজার টাকায়। এখন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে মাঝারি সাইজের ছুরি। বিভিন্ন আকারের ছুরি ২০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়িদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়লার দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। এজন্য বিক্রি কিছুটা কমেছে। অনেকে আসছেন পুরাতন জিনিস শান করাতে। আগে তো পুরাতন জিনিস বিক্রি করে নতুন জিনিস কিনতেন অনেকে। এখন নতুন জিনিস বিক্রি কমেছে। আর বাজারে বিদেশি ছুরি দা-বটি আসাতে লোহার জিনিসে
কোরবানিকে সামনে রেখে ব্যস্ততা বেড়েছে খুলনার কামার পট্টিতে। সারাদিন টুং টাং শব্দে মুখর কামারপাড়া। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আগুনের ভাটিতে লোহা পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে ছুরি, দা, চাপাতি আর বটি। নতুন জিনিসপত্র বিক্রির পাশাপাশি পুরাতন অস্ত্রে ধার দেওয়াতে ব্যস্ত রয়েছেন কামাররা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) খুলনার খালিশপুর, নতুন বাজার, দোলখোলা ও বড় বাজারসহ বেশ কিছু জায়গায় ঘুরে দেখা যায়, কোরবানির জন্য কেউ আসছেন নতুন ছুরি, চাকু ও চাপাতি কিনতে। আবার অনেকে আসছেন পুরোনো সরঞ্জাম ধার দিতে। রাত-দিন কাজে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কামারেরা। দোকানে বিভিন্ন আকারের ছুরি ৪০০ থেকে শুরু করে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বড় দা বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে এক হাজার টাকায়। এখন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে মাঝারি সাইজের ছুরি। বিভিন্ন আকারের ছুরি ২০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়িদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়লার দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। এজন্য বিক্রি কিছুটা কমেছে। অনেকে আসছেন পুরাতন জিনিস শান করাতে। আগে তো পুরাতন জিনিস বিক্রি করে নতুন জিনিস কিনতেন অনেকে। এখন নতুন জিনিস বিক্রি কমেছে। আর বাজারে বিদেশি ছুরি দা-বটি আসাতে লোহার জিনিসের বিক্রি আর কদর কমেছে।
নতুন বাজারের কামার সুকান্ত বলেন, ঈদের আগে প্রায় এক মাস সবচেয়ে ব্যস্ত সময় কাটে। বছরের এ সময়টাতে বেচাকেনা ভালো হয়। এখন প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০টা ছুরি ও দা বিক্রি হচ্ছে। আর প্রায় খদ্দের পুরাতন জিনিস ধার আর পালিশ করাতে আসছেন। এ সময়ের পুঁজি দিয়ে সারাবছরের প্রয়োজন টুকটাক করে মেটাতে হয়।
কামার ইন্দ্র কুমার বলেন, কয়েক বছর আগেও দেশীয় তৈরি ছুরি-চাপাতির চাহিদা বেশি ছিল। তবে এখন চায়না ও স্টিলের কারখানায় তৈরি পণ্যের কারণে হাতের তৈরি জিনিসের কদর কমেছে।
তিনি আরও বলেন, লোহার জিনিসের দাম একটু বেশি। সারাদিন গরমের মধ্যে আগুনে লোহা পুড়িয়ে কাজ করতে হয়। অনেক কষ্ট হয়। অনেক পারিশ্রমিক নিলে তো জিনিসের দাম বেড়ে যাবে। তাও বাজার ধরে রাখতে কম মূল্যে বিক্রির চেষ্টা করি|
বড় বাজারের ব্যবসায়ি জামাল মোল্যা বলেন, এবার অস্ত্রের কাঁচামালের দাম বেড়ে গেছে। উৎপাদন খরচও বাড়ছে। লোহা, কয়লার দাম, শ্রমিকের মজুরি সব মিলিয়ে খরচ বেড়েছে। অর্ডার দিয়ে অনেক টাকার চাপাতি ছুরি আর বটি দোকানে উঠিয়েছি। কিন্তু সপ্তাহ ধরে বেচাকেনা আশানুরূপ হচ্ছে না। অনেকে চায়না জিনিস খোঁজেন। যারা বোঝেন তারা মুলত লোহার জিনিসপত্র কিনে থাকেন। প্রতিদিন গড়ে ৩০-৩৫ পিচ চাপাতি আর ৪০-৫০ পিচ ছুরি বিক্রি হচ্ছে।
বড় বাজারে আসা ক্রেতা কামাল হোসেন বলেন, চাপাতি আছে। একটা ছুরি কিনতে হবে। চাপাতির দাম অনেক। বিভিন্ন মানের চাপাতি কেজি ৪০০ থেকে শুরু করে ১০০০ টাকা পর্যন্ত চাচ্ছেন। তাই পুরাতনটা ৮০ টাকা দিয়ে ধার করিয়েছি। আর ছুরি কিনেছি ২২০ টাকায়। তবে এ বছর লোহার কেজি বেড়েছে। এজন্য অনেক জিনিসের দাম দেখছি তুলনামূলক বেশি।
নতুন বাজারের কামারের দোকানে কথা হয় মাহবুব হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, চাপাতি অর্ডার দিয়েছিলাম। তা নিতে এসেছি আর ছুরি কিনতে এসেছি। গত বছর একটা চায়না ছুরি কিনেছিলাম। তা জং ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। ওয়ান টাইমের মতো ব্যবহার করতে হয়। তার থেকে লোহার জিনিস ভালো। বছরের অন্য সময়ও ব্যবহার করা যাবে। তবে লোহার জিনিসের দাম একটু বেশি।
আরিফুর রহমান/এএইচ/এমএস
What's Your Reaction?