ট্রাইব্যুনাল নিয়ে ফেসবুকে মিথ্যা পোস্ট, পাটোয়ারী বাবুকে দুই মাসের কারাদণ্ড
শেখ হাসিনার মামলায় ১২ হাজার কোটি টাকা লেনদেনের দাবিকারী পাটোয়ারী বাবু নামে এক ব্যক্তিকে দুই মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রোববার (১২ এপ্রিল) পাটোয়ারী বাবু ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন। পরে আদালত এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে তার স্ত্রী ইসমাত জেরিরকে ক্ষমা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। দণ্ডিত বাবু ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। সিভিল অ্যাভিয়েশনে ঠিকাদার হিসেবে কাজ করতেন। এদিন বিকেল সাড়ে ৩টার পর এ বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। প্রথমেই বাবুর স্ত্রী ইসমাত আরার জবানবন্দি নেওয়া হয়। তিনি এ ঘটনার জন্য নিজেকে অপরাধী দাবি করে ট্রাইব্যুনালের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। পরে নেওয়া হয় আসামির জবানবন্দি। জবানবন্দিতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টটি পড়ে শোনান আসামি পাটোয়ারী বাবু। অন্য একটি আইডি থেকে লেখাটি এনে নিজ অ্যাকাউন্টে পোস্ট করার দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এমন কোনো পোস্ট বা উসকানিমূলক কথা লিখবেন না জানিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। তার জবানবন্দি শেষে এ মামলার বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার বক্তব
শেখ হাসিনার মামলায় ১২ হাজার কোটি টাকা লেনদেনের দাবিকারী পাটোয়ারী বাবু নামে এক ব্যক্তিকে দুই মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার (১২ এপ্রিল) পাটোয়ারী বাবু ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন। পরে আদালত এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে তার স্ত্রী ইসমাত জেরিরকে ক্ষমা করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
দণ্ডিত বাবু ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। সিভিল অ্যাভিয়েশনে ঠিকাদার হিসেবে কাজ করতেন।
এদিন বিকেল সাড়ে ৩টার পর এ বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। প্রথমেই বাবুর স্ত্রী ইসমাত আরার জবানবন্দি নেওয়া হয়। তিনি এ ঘটনার জন্য নিজেকে অপরাধী দাবি করে ট্রাইব্যুনালের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। পরে নেওয়া হয় আসামির জবানবন্দি।
জবানবন্দিতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টটি পড়ে শোনান আসামি পাটোয়ারী বাবু। অন্য একটি আইডি থেকে লেখাটি এনে নিজ অ্যাকাউন্টে পোস্ট করার দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এমন কোনো পোস্ট বা উসকানিমূলক কথা লিখবেন না জানিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। তার জবানবন্দি শেষে এ মামলার বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার বক্তব্য শোনেন ট্রাইব্যুনাল।
জোহা জানান, গত ৭ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ পেয়ে বাবুর মিরপুরের শেনপাড়া বাসায় অভিযান চালান। তবে তাকে না পেয়ে স্ত্রীর কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করেন। অভিযানে তার সঙ্গে ডিবি ও মিরপুর মডেল থানার পুলিশ ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ৮ এপ্রিল বাবুর স্ত্রী ইসমাতকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। চারদিনের মধ্যে স্বামীকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
প্রসিকিউটর জোহা বলেন, উদ্ধারকৃত মোবাইলটি ডিবি হেফাজতে রয়েছে। তবে আইডিটি এখনও সক্রিয়। এছাড়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা একটি গোপন গ্রুপ পরিচালনা করেন। যে গ্রুপটির নাম সাইবার স্কোয়াড। আর সেখানকার সক্রিয় সদস্য ছিলেন বাবু। এই গ্রুপটির কাজই হলো অপপ্রচার, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণা ছড়ানো।
আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এমএ নোমান। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, মঈনুল করিমসহ অন্যরা।
প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমাদের ট্রাইব্যুনাল নিয়ে অনেকেই অনেকরকম মন্তব্য করেন। যেটা অনেকটাই কষ্টদায়ক। এরপরও মানবিক দিক বিবেচনায় এই আসামিকে নিঃশর্ত ক্ষমার আর্জি জানাই।
এ সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, তিনি (আসামি) শুধু সচেতন ব্যক্তিই নন, একজন রাজনৈতিক নেতাও। তার অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় এক বছর সাজা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। যেহেতু আপনারা সবাই তার নিঃশর্ত মুক্তি চাইছেন, সেহেতু তার সাজা কিছুটা কমানো যায়।
এরপর আসামিকে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিলে চিফ প্রসিকিউটরসহ অন্যান্য প্রসিকিউটরের অনুরোধে তা কমিয়ে দুই মাস করা হয়।
পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল বলেন, তার (আসামি) অপরাধ গুরুতর। এ অপরাধে সাজা না দিলে বলবে কিছু না কিছু ঘটেছে। আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি যে, আমরা স্বচ্ছ আছি। আমাদের বিচার নিয়ে বিদেশি বিচারক বা আইনজীবীরাও প্রশ্ন তুলতে পারবেন না। এছাড়া যেহেতু তার (আসামি) এই পোস্টটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে, সেহেতু তার কিছু সাজা হওয়া উচিত। এর মধ্য দিয়ে অন্যরাও একটি বার্তা পাবেন।
এছাড়া এই পোস্টে লাইক, কমেন্টস ও শেয়ারকারীদের নাম-পরিচয় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-১। একইসঙ্গে দণ্ডিত পাটোয়ারী বাবুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিন দুপুরে স্ত্রীসহ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন পাটোয়ারী বাবু। গত ৭ এপ্রিল আদালত অবমাননার অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনিরের ছবি জুড়ে দেন বাবু। ওই পোস্টে তিনি শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে নিজের মনগড়া কিছু তথ্য দেন।
What's Your Reaction?