ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখল করলে জলবায়ু গবেষণার কী হবে?

গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রিনল্যান্ডের বিজ্ঞানীদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনে বেশ কয়েকটি যৌথ গবেষণা প্রকল্প স্থগিত হয়ে গেছে। মার্কিন গবেষকেরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে গ্রিনল্যান্ডের সহকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সহযোগিতা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকদের নিয়ে যৌথ গবেষণা কীভাবে চলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গ্রিনল্যান্ড দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে। দেশটির বিশাল বরফস্তরে এত পরিমাণ মিঠা পানি রয়েছে, যা পুরোপুরি গলে গেলে বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ২৩ ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিজ্ঞানীরা এ বরফস্তর কত দ্রুত দুর্বল হচ্ছে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক আবহাওয়ার ওপর কী হতে পারে, তা বোঝার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে আটলান্টিক মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ স্রোতব্যবস্থা ‘এএমওসি’ দুর্বল হয়ে পড়ছে কি না, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। এই স্রোত পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়াকে প্রভাবিত করে। গ্রিনল্যান্ডে এসব গবেষণার বড় অংশের অর্থায়ন করে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স

ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখল করলে জলবায়ু গবেষণার কী হবে?

গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রিনল্যান্ডের বিজ্ঞানীদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনে বেশ কয়েকটি যৌথ গবেষণা প্রকল্প স্থগিত হয়ে গেছে।

মার্কিন গবেষকেরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে গ্রিনল্যান্ডের সহকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সহযোগিতা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকদের নিয়ে যৌথ গবেষণা কীভাবে চলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

গ্রিনল্যান্ড দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে। দেশটির বিশাল বরফস্তরে এত পরিমাণ মিঠা পানি রয়েছে, যা পুরোপুরি গলে গেলে বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ২৩ ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিজ্ঞানীরা এ বরফস্তর কত দ্রুত দুর্বল হচ্ছে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক আবহাওয়ার ওপর কী হতে পারে, তা বোঝার চেষ্টা করছেন।

বিশেষ করে আটলান্টিক মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ স্রোতব্যবস্থা ‘এএমওসি’ দুর্বল হয়ে পড়ছে কি না, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। এই স্রোত পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়াকে প্রভাবিত করে।

গ্রিনল্যান্ডে এসব গবেষণার বড় অংশের অর্থায়ন করে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (এনএসএফ)। সংস্থাটি বর্তমানে সেখানে ১৯টি প্রকল্পে প্রায় ২৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। তবে গ্রিনল্যান্ডের কিছু গবেষক বলছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এখন মার্কিন অর্থায়ন গ্রহণ বা যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কাজ করতে তারা সতর্ক হচ্ছেন।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক বলেন, নতুন যৌথ গবেষণা শুরু করা এখন অনেক কঠিন হয়ে গেছে। গ্রিনল্যান্ডের মানুষ আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র গবেষণার মাধ্যমে দ্বীপটির রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

এর আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর রাশিয়ার সঙ্গে জলবায়ু গবেষণাও বন্ধ হয়ে যায়। এতে গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু তথ্য সংগ্রহ ব্যাহত হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব জলবায়ু গবেষণার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

গ্রিনল্যান্ডে জলবায়ু গবেষণার কাজে অনেক সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সহায়তা লাগে। তবে গবেষকদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডের প্রতি আগ্রাসী অবস্থান বজায় রাখে, তাহলে তারা সামরিক সহায়তাও ব্যবহার করবেন না।

গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব পড়া খুবই উদ্বেগজনক। তারা বলছেন, বিজ্ঞান ও কূটনীতিকে আলাদা রাখা না গেলে ভবিষ্যতে বিশ্ব আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow