ট্রাম্পকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, হরমুজ পাড়ি দিল নিষেধাজ্ঞায় থাকা ট্যাংকার

মার্কিন অবরোধের প্রথম পূর্ণ দিনে অন্তত তিনটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়েছে। এসব জাহাজ প্রণালি পার হয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। পার হওয়া এসবের মধ্যে অন্তত দুটি নিষেধাজ্ঞায় থাকা জাহাজ রয়েছে। শিপিং ডাটা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।  মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার প্রণালি দিয়ে অতিক্রম করা জাহাজগুলো ইরানের কোনো বন্দরের দিকে না যাওয়ায় সেগুলো সরাসরি অবরোধের আওতায় পড়েনি। অবরোধের পর পানামা পতাকাবাহী ‘পিস গালফ’ নামের একটি মাঝারি আকারের ট্যাংকার সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দরের দিকে গেছে। এই জাহাজটি সাধারণত ইরানের ন্যাফথা পরিবহন করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দরে নিয়ে যায়। এরপর তা এশিয়ায় রপ্তানি করা হয়। এর আগে ‘মুরলিকিশান’ ও ‘রিচ স্টারি’ নামের দুটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ট্যাংকারও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অতিক্রম করে। এরমধ্যে ‘মুরলিকিশান’ ইরাক থেকে জ্বালানি তেল লোড করার পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে ‘রিচ স্টারি’ প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল মিথানল বহন করছে এবং এটি চীনা মালিকানাধীন একটি জাহাজ। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায়

ট্রাম্পকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, হরমুজ পাড়ি দিল নিষেধাজ্ঞায় থাকা ট্যাংকার

মার্কিন অবরোধের প্রথম পূর্ণ দিনে অন্তত তিনটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়েছে। এসব জাহাজ প্রণালি পার হয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। পার হওয়া এসবের মধ্যে অন্তত দুটি নিষেধাজ্ঞায় থাকা জাহাজ রয়েছে। শিপিং ডাটা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। 

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার প্রণালি দিয়ে অতিক্রম করা জাহাজগুলো ইরানের কোনো বন্দরের দিকে না যাওয়ায় সেগুলো সরাসরি অবরোধের আওতায় পড়েনি। অবরোধের পর পানামা পতাকাবাহী ‘পিস গালফ’ নামের একটি মাঝারি আকারের ট্যাংকার সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দরের দিকে গেছে। এই জাহাজটি সাধারণত ইরানের ন্যাফথা পরিবহন করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দরে নিয়ে যায়। এরপর তা এশিয়ায় রপ্তানি করা হয়।

এর আগে ‘মুরলিকিশান’ ও ‘রিচ স্টারি’ নামের দুটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ট্যাংকারও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অতিক্রম করে। এরমধ্যে ‘মুরলিকিশান’ ইরাক থেকে জ্বালানি তেল লোড করার পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে ‘রিচ স্টারি’ প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল মিথানল বহন করছে এবং এটি চীনা মালিকানাধীন একটি জাহাজ। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি রপ্তানি হয়, ফলে এর নিরাপত্তা ও চলাচল বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর অবরোধ ঘোষণা করেন। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে গ্যাস ও জ্বালানির দাম বেড়ে যায়।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে ইরানের নিয়ন্ত্রণ কমানোর চেষ্টা করছে, যাতে ইরানি ট্যাংকার চলাচল ব্যাহত হয়। কুয়েত সিটি থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক মালিক ট্রেইনা বলেন, এই পরিস্থিতিতে উপসাগরে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। এখন তাদের ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুই পক্ষের অনুমতি নিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, যদি ইরানের জাহাজ বা তেল পরিবহন বন্ধ করা হয়, তবে ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে অন্য দেশগুলোর জাহাজ চলাচলও বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিও জিয়াকুন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই অবরোধ আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াবে এবং নাজুক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

তবে উত্তেজনা বাড়লেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতার এখনও সুযোগ রয়েছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তারা শান্তি আলোচনার জন্য যতবার প্রয়োজন ততবার মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত এবং সব পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow