ট্রাম্পের চাপে মুসলিম বিশ্ব ইসরায়েলকে সহায়তা করছে : ফজলুর রহমান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে মুসলিম বিশ্ব ইসরায়েলকে সহায়তা করছে বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (জেইউআইএফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান। তিনি পাকিস্তানের পার্লামেন্টকে ট্রাম্প প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পাকিস্তানভিত্তিক বেসরকারি টিভি চ্যানেল এআরওয়াই নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের পার্লামেন্টের এক যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি জোরদারের লক্ষ্যে ট্রাম্প যে ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করেছেন, তাতে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।   পার্লামেন্টে ফজলুর রহমান প্রশ্ন তুলে বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইতিপূর্বে সংসদকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, পাকিস্তান ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনা মেনে নেবে না। তাহলে চোখ বন্ধ করে বোর্ড অব পিসে যোগ দেওয়ার যৌক্তিকতা কী?  তিনি ট্রাম্পের সেই বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন, যেখানে বলা হয়েছে, গাজা যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে হামাসকে নিরস্ত্র হতে হবে, নতুবা চূড়ান্ত পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। ফজলুর রহমানের অভিযোগ

ট্রাম্পের চাপে মুসলিম বিশ্ব ইসরায়েলকে সহায়তা করছে : ফজলুর রহমান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে মুসলিম বিশ্ব ইসরায়েলকে সহায়তা করছে বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (জেইউআইএফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান। তিনি পাকিস্তানের পার্লামেন্টকে ট্রাম্প প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পাকিস্তানভিত্তিক বেসরকারি টিভি চ্যানেল এআরওয়াই নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের পার্লামেন্টের এক যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি জোরদারের লক্ষ্যে ট্রাম্প যে ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করেছেন, তাতে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।   পার্লামেন্টে ফজলুর রহমান প্রশ্ন তুলে বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইতিপূর্বে সংসদকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, পাকিস্তান ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনা মেনে নেবে না। তাহলে চোখ বন্ধ করে বোর্ড অব পিসে যোগ দেওয়ার যৌক্তিকতা কী?  তিনি ট্রাম্পের সেই বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন, যেখানে বলা হয়েছে, গাজা যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে হামাসকে নিরস্ত্র হতে হবে, নতুবা চূড়ান্ত পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। ফজলুর রহমানের অভিযোগ, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ দমিয়ে রেখে ইসরায়েলকে শক্তিশালী করতে চায়। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত যত চুক্তি ও সমঝোতা হয়েছে, সবই ফিলিস্তিন সীমাবদ্ধ হয়েছে আর ইসরায়েল আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি হুমকির মধ্য দিয়ে কি সত্যিই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব? এ সময় তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, লেবানন ও সিরিয়ার পর ইসরায়েল ভবিষ্যতে ইরানের দিকে নজর দিতে পারে এবং এমনকি পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী তাফতান এলাকাতেও হুমকি তৈরি করতে পারে। তিনি এটিকে সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেন।  সরকারের কঠোর সমালোচনা করে জেইউআইএফ প্রধান বলেন, ট্রাম্পকে খুশি করতে গিয়ে সরকার জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বোর্ড অব পিসে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সংসদ কিংবা মন্ত্রিসভাকে আস্থায় নেননি। পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় ফজলুর রহমান বলেন, শান্তির নামে মুসলিম দেশগুলো নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করছে। তার মতে, ট্রাম্পের চাপে পড়ে মুসলিম বিশ্ব ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী নীতিকে কার্যত সহায়তা করছে এবং এর প্রথম শিকার হতে পারে আরব দেশগুলো। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বোর্ড অব পিসের চার্টারে স্বাক্ষর করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। ট্রাম্প জানান, প্রাথমিকভাবে গাজার যুদ্ধবিরতি রক্ষার জন্য এই বোর্ড কাজ করবে, তবে ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং জাতিসংঘের সঙ্গেও সমন্বয় করবে এই বোর্ড।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow