ট্রাম্পের দাপটের সামনে ডেমোক্র্যাটরা কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে?

২০২৫ সালের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব স্পষ্ট। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের পর ক্ষমতা দৃঢ়ভাবে নিজের হাতে নিয়ে তিনি আইন ও প্রশাসনের নানা সীমা পরীক্ষা করতে শুরু করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বের সংকটে পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তবে আগামী বছর পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে পারে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদ পুনর্দখলের বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। অল্প কয়েকটি আসন পেলেই তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে, যদিও নতুন নির্বাচনী সীমানা নির্ধারণের কারণে লড়াই কঠিন হবে। প্রতিনিধি পরিষদ ফিরে পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়নের গতি কার্যত থমকে যেতে পারে এবং শুরু হতে পারে নজরদারি শুনানি। এমনকি তৃতীয় অভিশংসন প্রক্রিয়ার আঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভালো ফলই ডেমোক্র্যাটদের দীর্ঘমেয়াদি সংকটের সমাধান নয়। সাধারণত ক্ষমতার বাইরে থাকা দলই মধ্যবর্তী নির্বাচনে লাভবান হয়। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও শ্রমবাজারের মন্থরতা ট্রাম্পের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি কর

ট্রাম্পের দাপটের সামনে ডেমোক্র্যাটরা কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে?

২০২৫ সালের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব স্পষ্ট। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের পর ক্ষমতা দৃঢ়ভাবে নিজের হাতে নিয়ে তিনি আইন ও প্রশাসনের নানা সীমা পরীক্ষা করতে শুরু করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বের সংকটে পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

তবে আগামী বছর পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে পারে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদ পুনর্দখলের বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। অল্প কয়েকটি আসন পেলেই তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে, যদিও নতুন নির্বাচনী সীমানা নির্ধারণের কারণে লড়াই কঠিন হবে। প্রতিনিধি পরিষদ ফিরে পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়নের গতি কার্যত থমকে যেতে পারে এবং শুরু হতে পারে নজরদারি শুনানি। এমনকি তৃতীয় অভিশংসন প্রক্রিয়ার আঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভালো ফলই ডেমোক্র্যাটদের দীর্ঘমেয়াদি সংকটের সমাধান নয়। সাধারণত ক্ষমতার বাইরে থাকা দলই মধ্যবর্তী নির্বাচনে লাভবান হয়। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও শ্রমবাজারের মন্থরতা ট্রাম্পের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে ঠিকই, কিন্তু তা ডেমোক্র্যাটদের ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাবনা নিশ্চিত করে না।

আরও পড়ুন>>
মামদানির জয়ের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জারা রহিম
মামদানি কি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন?
মামদানির জয়ে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ খুলেছে আরেক নেতার, কে তিনি?

 

২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে ডেমোক্র্যাটদের বড় চ্যালেঞ্জ হলো ট্রাম্পবিরোধিতার বাইরে গিয়ে স্পষ্ট রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, শুধু ‘ট্রাম্পবিরোধী’ অবস্থান যথেষ্ট নয়; ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য বিকল্প প্রস্তাব দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে এমন প্রার্থী বেছে নেওয়া জরুরি, যিনি উদারপন্থি মূল সমর্থক গোষ্ঠীর বাইরেও আবেদন রাখতে পারেন।

গত কয়েক বছরে ডেমোক্র্যাটরা মূলত উচ্চশিক্ষিত ভোটারদের দলে পরিণত হওয়ায় দলটি সাংস্কৃতিক ইস্যুতে বামদিকে সরে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিবাসন ও লিঙ্গ পরিচয়সংক্রান্ত বিষয়ে মধ্যপন্থি অবস্থান নেওয়া নেতারা ক্রমেই কোণঠাসা হয়েছেন। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর কিছু ডেমোক্র্যাট নেতা এই বাস্তবতা স্বীকার করতে শুরু করেছেন।

অ্যারিজোনার সিনেটর রুবেন গ্যালেগো অভিবাসনসংক্রান্ত কঠোর আইনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, প্রগতিশীলদের অনেকেই সাধারণ লাতিন ভোটারদের ভাবনার সঙ্গে সংযোগ হারিয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম নারীদের খেলাধুলায় ট্রান্স নারী অংশগ্রহণকে ‘অন্যায্য’ বলে মন্তব্য করে সাংস্কৃতিক বিতর্কে ভিন্ন সুর তোলেন। দলের একাংশ আবার জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোকে প্রধান ইস্যু করতে চাইছে, অন্যদিকে প্রগতিশীলরা ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর পক্ষে।

আরও পড়ুন>>
কোরআন ছুঁয়ে নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন মামদানি
যেভাবে ভোটারদের মন জয় করলেন জোহরান মামদানি
ট্রাম্প-মামদানির সম্পর্ক তাহলে কি বদলে গেলো?

ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকাও দীর্ঘ। ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিটজকার, ক্যালিফোর্নিয়ার গ্যাভিন নিউসমের মতো প্রভাবশালী মুখ যেমন আছেন, তেমনি কেন্টাকির অ্যান্ডি বেসিয়ার, মিশিগানের গ্রেচেন হুইটমার ও পেনসিলভানিয়ার জশ শ্যাপিরোর মতো মধ্যপন্থি রাজ্যের নেতারাও আলোচনায় উঠে এসেছেন।

তবে শেষ পর্যন্ত বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—যেসব ভোটার ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্র্যাটদের পছন্দ করেন না, তাদের আস্থা কীভাবে ফিরবে? কারণ সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্পের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ বাড়লেও অপরাধ, অভিবাসন ও অর্থনীতির মতো বিষয়ে এখনো রিপাবলিকানদের ওপরই বেশি আস্থা রাখছেন বহু মার্কিন ভোটার। ডেমোক্র্যাটদের পুনরুত্থানের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে এই আস্থার ব্যবধান কমানোর কৌশলে।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট
কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow