ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের তালিকায় নেই দুই শত্রু দেশ

18 hours ago 6
নির্বাচনী প্রচারণার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা হয়। তারই প্রেক্ষিতে, ট্রাম্প সরকার বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ ও অঞ্চলের পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ নিয়েছে।  নতুন শুল্ক কাঠামো অনুযায়ী, প্রায় অধিকাংশ দেশের ওপর ১০ শতাংশ থেকে শুরু করে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বাড়ানো হয়েছে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোকেও বাদ দেওয়া হয়নি। স্থানীয় সময় বুধবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এই নতুন শুল্ক কাঠামোর ঘোষণা দেন। খবর রয়টার্স। সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প তার এ পদক্ষেপকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অংশ হিসেবে তুলে ধরেন। ট্রাম্প বলেন, দশকের পর দশক ধরে আমাদের দেশ লুটপাট, শোষণ এবং নিপীড়নের শিকার হয়েছে, তা বন্ধ করার সময় এসেছে। এমনকি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘লিবারেশন ডে’ হিসেবে দিনটিকে ঘোষণা করেছেন। নতুন শুল্ক তালিকায় যেসব দেশকে লক্ষ্য করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভিয়েতনাম এবং চীন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ভারতকে ২৭ শতাংশ, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ২০ শতাংশ এবং ভিয়েতনামকে ৪৬ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। চীনের পণ্য আমদানির ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক অবস্থানে একটি বড় প্রভাব ফেলবে। তবে ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপের তালিকায় রাশিয়া, কানাডা, মেক্সিকো, উত্তর কোরিয়া, কিউবা এবং বেলারুশসহ বেশ কিছু শত্রু দেশকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার ওপর শুল্ক আরোপ না করার বিষয়টি বিশেষভাবে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। কেনো এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়ে দিয়েছেন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, কিউবা এবং বেলারুশের ওপর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার কারণে এই দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক খুবই সীমিত। আর এসব দেশ ইতোমধ্যেই উচ্চ শুল্কের আওতায় রয়েছে, ফলে নতুন শুল্ক আরোপের প্রয়োজনীয়তা দেখা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনার কারণে ট্রাম্প হয়তো রাশিয়ার ওপর শুল্ক আরোপ স্থগিত রেখেছেন। ভারতের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় এক সমস্যা। তবে ভারতের প্রতি ট্রাম্পের শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের তিক্ততা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের শুল্ক নীতি কড়া হতে যাচ্ছে। তবে, একদিকে এই শুল্কের চাপ বৃদ্ধির কারণে বিশ্ব বাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য এটি ইতিবাচক ফলাফল আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া, কানাডা ও মেক্সিকো ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে, যার মধ্যে কানাডার জ্বালানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্কও অন্তর্ভুক্ত।
Read Entire Article