ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিসে’ যোগ দিচ্ছে যেসব মুসলিম দেশ

গাজা উপত্যকায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিসে’ যোগ দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার ৯ মুসলিম দেশ। এসব দেশ গাজায় একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  এক যৌথ বিবৃতিতে পাকিস্তান, মিসর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জানান, তারা ট্রাম্প নেতৃত্বাধীন এই বোর্ডে অংশ নেবেন। বিবৃতিতে বলা হয়, মন্ত্রীগণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে চলমান শান্তি উদ্যোগের প্রতি তাদের দেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছেন। এতে বলা হয়, বোর্ড অব পিসের লক্ষ্য হলো গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি সুসংহত করা, পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তা করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার নিশ্চিত করে একটি ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই শান্তি এগিয়ে নেওয়া। এসব বিষয় পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার পথ প্রশস্ত করবে। এরপর বুধবারই কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারাও ট্রা

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিসে’ যোগ দিচ্ছে যেসব মুসলিম দেশ

গাজা উপত্যকায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিসে’ যোগ দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার ৯ মুসলিম দেশ। এসব দেশ গাজায় একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এক যৌথ বিবৃতিতে পাকিস্তান, মিসর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জানান, তারা ট্রাম্প নেতৃত্বাধীন এই বোর্ডে অংশ নেবেন। বিবৃতিতে বলা হয়, মন্ত্রীগণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে চলমান শান্তি উদ্যোগের প্রতি তাদের দেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছেন।

এতে বলা হয়, বোর্ড অব পিসের লক্ষ্য হলো গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি সুসংহত করা, পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তা করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার নিশ্চিত করে একটি ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই শান্তি এগিয়ে নেওয়া। এসব বিষয় পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার পথ প্রশস্ত করবে। এরপর বুধবারই কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারাও ট্রাম্পের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বোর্ডে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বোর্ড অব পিসের কাঠামো প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই এ ঘোষণা এসেছে। এটি গাজায় ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ঘোষিত ২০ দফা পরিকল্পনার একটি অংশ। এই বোর্ডে রয়েছেন ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার, পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। বোর্ডটি গাজায় দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটির তত্ত্বাবধান করবে।

এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব নং ২৮০৩-এর আওতায় প্রণীত গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে পাকিস্তান আশা প্রকাশ করে জানায়, ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের মাধ্যমে গাজায় একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে। পাকিস্তান একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে সমর্থন করে। পাকিস্তানের অবস্থান হল ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানার মধ্যে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা উচিত, যার রাজধানী হবে জেরুজালেম।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ‘বোর্ড অব পিস’-এর সদস্য হিসেবে পাকিস্তান গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে আগ্রহী। ফিলিস্তিনে শান্তি ও ন্যায়ের পক্ষে দেশটির অবস্থান ঐতিহাসিকভাবে সুদৃঢ় এবং ভবিষ্যতেও এই অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow