ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে তাইওয়ানের পাল্টা বার্তা: ‘আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর ও তাইওয়ান প্রসঙ্গে দেওয়া মন্তব্যের পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তাইপে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘তাইওয়ান একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র’। একই সঙ্গে তাইপে জানায়, তারা ‘ক্রস-স্ট্রেইট স্ট্যাটাস কো’ বা বর্তমান অবস্থা বজায় রাখতে চায় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের কাছ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণার পরিকল্পনা নেই। এই প্রতিক্রিয়া আসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সাক্ষাৎকারের পর। চীন সফর শেষে বেইজিং ত্যাগ করার সময় মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাইওয়ানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আমি কাউকে স্বাধীন হতে উৎসাহিত করতে চাই না। তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরেই চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর ইস্যু। ১৯৪০’র দশকের চীনা গৃহযুদ্ধের পর থেকেই এ বিরোধ চলে আসছে। তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে চীন, যদিও দ্বীপটি নিজস্ব সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন দেয় না, তবু বিভিন্ন মার্কিন প্রশাসন অস্ত্র বিক্রি ও কূটনৈতিক সম

ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে তাইওয়ানের পাল্টা বার্তা: ‘আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর ও তাইওয়ান প্রসঙ্গে দেওয়া মন্তব্যের পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তাইপে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘তাইওয়ান একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র’। একই সঙ্গে তাইপে জানায়, তারা ‘ক্রস-স্ট্রেইট স্ট্যাটাস কো’ বা বর্তমান অবস্থা বজায় রাখতে চায় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের কাছ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণার পরিকল্পনা নেই। এই প্রতিক্রিয়া আসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সাক্ষাৎকারের পর। চীন সফর শেষে বেইজিং ত্যাগ করার সময় মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাইওয়ানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আমি কাউকে স্বাধীন হতে উৎসাহিত করতে চাই না। তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরেই চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর ইস্যু। ১৯৪০’র দশকের চীনা গৃহযুদ্ধের পর থেকেই এ বিরোধ চলে আসছে। তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে চীন, যদিও দ্বীপটি নিজস্ব সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন দেয় না, তবু বিভিন্ন মার্কিন প্রশাসন অস্ত্র বিক্রি ও কূটনৈতিক সমর্থনের মাধ্যমে তাইওয়ানের পাশে থেকেছে। অতীতে কয়েকজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, চীনের হামলার মুখে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে রক্ষা করতে পারে। তবে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ বিষয়ে তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নেন। তিনি বলেন, আমাদের ৯ হাজার ৫০০ মাইল দূরে গিয়ে যুদ্ধ করার কথা। আমি সেটা চাই না। আমি চাই পরিস্থিতি শান্ত থাকুক। চীনও শান্ত থাকুক। তিনি আরও বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না। বর্তমান অবস্থা বজায় থাকলে চীনও সম্ভবত সন্তুষ্ট থাকবে। কিন্তু আমরা এমন পরিস্থিতি চাই না যেখানে কেউ বলবে ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সমর্থন দিচ্ছে, তাই আমরা স্বাধীনতা ঘোষণা করছি।’” ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চীন সফরে তাইওয়ান প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, শি জিনপিং ট্রাম্পকে বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যুই ‘চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ৎ। শি জিনপিং সতর্ক করে বলেন, এ বিষয়টি ভুলভাবে পরিচালিত হলে দুই দেশ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে, যা পুরো চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ঠেলে দেবে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, শি জিনপিং তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতায় ‘খুবই দৃঢ় অবস্থানে’ আছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি ‘কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি’ বলেও উল্লেখ করেন। এ ছাড়া তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের নতুন অস্ত্র সহায়তা প্যাকেজ অনুমোদনের বিষয়েও ট্রাম্প অনিশ্চয়তার কথা জানান। যদিও যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস ইতোমধ্যে এ প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। ট্রাম্প বলেন, আমি এখনো অনুমোদন দিইনি। পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেব। হয়তো দেব, হয়তো দেব না। তাইওয়ানের দাবি: মার্কিন নীতিতে পরিবর্তন হয়নি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ান প্রশ্নে ‘স্ট্র্যাটেজিক অ্যাম্বিগুইটি’ বা কৌশলগত অস্পষ্টতার নীতি অনুসরণ করে আসছে। ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে তাইপের সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখে না এবং ‘ওয়ান চায়না’ নীতি মেনে চলে। অর্থাৎ, তারা বেইজিংয়ের এ অবস্থানকে স্বীকার করে যে তাইওয়ান চীনের অংশ, তবে তা সরাসরি সমর্থনও করে না। ২০২২ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, চীনের নজিরবিহীন হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের পাশে দাঁড়াবে। যদিও পরে হোয়াইট হাউস জানায়, এতে মার্কিন নীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। শনিবারের বিবৃতিতে তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, মার্কিন কর্মকর্তারা এবং ট্রাম্প পরিষ্কার করেছেন যে ওয়াশিংটনের নীতি ‘অপরিবর্তিত’ রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার কথাও জানিয়েছে তাইপে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অঞ্চলে একমাত্র প্রকৃত অনিরাপত্তার উৎস হলো চীনের সামরিক হুমকি। তাইপের ভাষ্য, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি শুধু নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নয়, বরং আঞ্চলিক হুমকির বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow