ট্রাম্পের শুল্ক ক্ষমতায় লাগাম, শক্তিধর ৫ দেশের প্রতিক্রিয়া
মার্কিন সর্বোচ্চ আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের আগের বাণিজ্য পদক্ষেপ বাতিল করার পরপরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে বলে তিনি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে জানান। তার এ সিদ্ধান্তে বিভিন্ন দেশ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, ট্রাম্প জরুরি বাণিজ্য ক্ষমতা ব্যবহার করে যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা সাংবিধানিক সীমা অতিক্রম করেছে। এরপরই ট্রাম্প নতুন নির্বাহী আদেশে ১০ শতাংশ বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপ করেন। এ ঘটনায় বিভিন্ন দেশ আইনি ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন শুরু করেছে। চলমান চুক্তি, শুল্ক হ্রাস এবং পূর্বের শুল্কের বৈধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
দক্ষিণ কোরিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, তারা বাণিজ্য চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করবে এবং জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। গত নভেম্বরে দুই দেশের মধ্যে হওয়া এক চুক্তিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছিল। এর বিনিময়ে দক্ষিণ কোরিয়া য
মার্কিন সর্বোচ্চ আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের আগের বাণিজ্য পদক্ষেপ বাতিল করার পরপরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে বলে তিনি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে জানান। তার এ সিদ্ধান্তে বিভিন্ন দেশ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, ট্রাম্প জরুরি বাণিজ্য ক্ষমতা ব্যবহার করে যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা সাংবিধানিক সীমা অতিক্রম করেছে। এরপরই ট্রাম্প নতুন নির্বাহী আদেশে ১০ শতাংশ বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপ করেন। এ ঘটনায় বিভিন্ন দেশ আইনি ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন শুরু করেছে। চলমান চুক্তি, শুল্ক হ্রাস এবং পূর্বের শুল্কের বৈধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
দক্ষিণ কোরিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, তারা বাণিজ্য চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করবে এবং জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। গত নভেম্বরে দুই দেশের মধ্যে হওয়া এক চুক্তিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছিল। এর বিনিময়ে দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ও নগদ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দেশটি।
সিউলে আল জাজিরার প্রতিবেদক জানান, রাসায়নিক, ওষুধ ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের বড় কোম্পানিগুলোর জন্য আদালতের রায় ইতিবাচক হতে পারে। তবে গাড়ি রপ্তানি এখনও ২৫ শতাংশ এবং ইস্পাত রপ্তানি ৫০ শতাংশ শুল্কের আওতায় রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিতে রপ্তানির অবদান প্রায় ৮৫ শতাংশ। এ খাতে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। ফলে সরকার সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।
ভারত
ভারত ট্রাম্পের আগের সিদ্ধান্তে উচ্চ শুল্কের মুখে পড়ে। প্রথমে ২৫ শতাংশ, পরে রুশ তেল আমদানির কারণে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। এর ফলে দুই ধাপে দেশটিতে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়।
সম্প্রতি দুই দেশ একটি কাঠামোগত বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে। ট্রাম্প দাবি করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রুশ তেল কেনা বন্ধে সম্মত হয়েছেন এবং ভারতের প্রধান রপ্তানি পণ্যে শুল্ক ১৮ শতাংশে নামানো হবে।
ভারতের বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আগে অন্তর্বর্তী চুক্তি চূড়ান্ত করা তড়িঘড়ি হয়েছে। কারণ আদালতের সিদ্ধান্ত পূর্ববর্তী শুল্কের আইনি ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ফলে নয়াদিল্লি পরবর্তী আলোচনায় সতর্ক কৌশল নিতে পারে।
চীন
চীন আদালতের রায়ে তুলনামূলক সংযত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস বলেছে, বাণিজ্য যুদ্ধ কারও উপকারে আসে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের বহুমাত্রিক শুল্কের ফলে চীনের ওপর গড় কার্যকর শুল্ক প্রায় ৩৬ শতাংশে পৌঁছেছিল। তবে আদালতের রায়ের ফলে তা এখন কমে প্রায় ২১ শতাংশে নামতে পারে। এতে কোভিড-পরবর্তী ধাক্কা, সম্পত্তি খাতের সংকট ও রপ্তানি হ্রাসে চাপে থাকা অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে।
এপ্রিলের শুরুতে ট্রাম্পের সম্ভাব্য বেইজিং সফরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে এ রায় সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
কানাডা
কানাডা সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও সতর্কতা অবলম্বন করছে। কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্লাংক বলেন, এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। কারণ ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ির ওপর ধারা ২৩২ অনুযায়ী শুল্ক বহাল রয়েছে। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডুয়োগ ফোর্ড বলেন, ইতিবাচক বার্তা মিললেও ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
মেক্সিকো
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেনবাউম জানিয়েছেন, আদালতের রায়ের পরিধি ও প্রভাব তারা সতর্কভাবে পর্যালোচনা করবে।
মেক্সিকো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় অধিকাংশ পণ্য পারস্পরিক শুল্ক থেকে সুরক্ষিত। তবে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ির যন্ত্রাংশে শুল্ক এখনও বহাল রয়েছে।