ঠাকুরগাঁওয়ে তারেক রহমানের আগমন ঘিরে উচ্ছ্বাস

দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁও সফরে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই বহুল প্রত্যাশিত আগমনকে ঘিরে জেলাজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ব্যানার-ফেস্টুনে সাজানো হচ্ছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, প্রস্তুত করা হচ্ছে জনসভাস্থল। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে প্রবল আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিতে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় (বড় মাঠ) মাঠে যাবেন তারেক রহমান। জনসভাকে ঘিরে মঞ্চ নির্মাণ, আলোকসজ্জা, শব্দব্যবস্থা ও নিরাপত্তা প্রস্তুতির কাজ চলছে পুরোদমে। এর আগে ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে একটি শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সর্বশেষ ঠাকুরগাঁও সফর করেছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ২৩ বছর পর তার এই আগমনকে শুধু একটি রাজনৈতিক সফর হিসেবেই দেখছেন না ঠাকুরগাঁওবাসী। বরং এটি তাদের কাছে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির প্রত্যাশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে একের পর এক সরকার এসেছে, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—তবুও ঠাকুরগাঁও থে

ঠাকুরগাঁওয়ে তারেক রহমানের আগমন ঘিরে উচ্ছ্বাস

দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁও সফরে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই বহুল প্রত্যাশিত আগমনকে ঘিরে জেলাজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ব্যানার-ফেস্টুনে সাজানো হচ্ছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, প্রস্তুত করা হচ্ছে জনসভাস্থল। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে প্রবল আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিতে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় (বড় মাঠ) মাঠে যাবেন তারেক রহমান। জনসভাকে ঘিরে মঞ্চ নির্মাণ, আলোকসজ্জা, শব্দব্যবস্থা ও নিরাপত্তা প্রস্তুতির কাজ চলছে পুরোদমে।

এর আগে ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে একটি শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সর্বশেষ ঠাকুরগাঁও সফর করেছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ২৩ বছর পর তার এই আগমনকে শুধু একটি রাজনৈতিক সফর হিসেবেই দেখছেন না ঠাকুরগাঁওবাসী। বরং এটি তাদের কাছে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির প্রত্যাশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে একের পর এক সরকার এসেছে, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—তবুও ঠাকুরগাঁও থেকে গেছে পিছিয়ে। জেলায় নেই কোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, আধুনিক মেডিকেল কলেজ কিংবা বড় শিল্পকারখানা। ফলে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ গড়ে ওঠেনি।

কৃষিনির্ভর এই জেলায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যাই বেশি। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী অর্থনৈতিক সংকট ও দূরত্বের কারণে উচ্চশিক্ষা থেকে ঝরে পড়ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও দুর্বল। একমাত্র চিনিকলটি থাকলেও তা লোকসানের মধ্য দিয়ে ধুঁকছে। সব মিলিয়ে জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, তারেক রহমানের দল ক্ষমতায় এলে ঠাকুরগাঁওয়ে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, আধুনিক মেডিকেল কলেজ, বিমানবন্দর চালু, সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ইবনে সিনা মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. তাহমিদ আহমেদ বলেন, তারেক রহমান কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলেছেন, তা বাস্তবায়িত হলে ঠাকুরগাঁওয়ের স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

অন্যদিকে জেলা ক্রিকেট কোচ রোকুনুজ্জামান রাহাত বলেন, এই জেলায় ভালো খেলোয়াড় থাকলেও পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম না থাকায় খেলাধুলার সঠিক বিকাশ হচ্ছে না। বিএনপি ক্ষমতায় এলে ক্রীড়াঙ্গন ঢেলে সাজানোর প্রত্যাশা করছি।

জেলা বিএনপির সভাপতি মো. মির্জা ফয়সাল আমীন বলেন, তারেক রহমানের আগমন ঘিরে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভায় মানুষের ঢল নামবে বলে আমরা আশাবাদী। বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষি, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সামগ্রিক উন্নয়নই হবে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow