ডায়াবেটিস রোগীদের কখন কলা খাওয়া উচিত? জানালেন বিশেষজ্ঞরা
কলা আমাদের দেশের অতি পরিচিত এবং সহজলভ্য একটি ফল। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলটি যেমন সুস্বাদু, তেমনি শক্তি জোগাতেও অনন্য। তবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে যাদের প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়, অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কলা খাওয়া নিয়ে সব সময়ই এক ধরনের দ্বিধা কাজ করে। সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ফুড-এর এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কলা পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়; বরং সঠিক সময়, পরিমাণ এবং কলার পরিপক্কতা বিবেচনা করে এটি খাদ্যতালিকায় রাখা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীরা পরিমিত পরিমাণে কলা খেতে পারেন। কলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাঝারি, যার অর্থ এটি উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সম্পন্ন খাবারের তুলনায় ধীরে রক্তে শর্করা বৃদ্ধি করে।
জাসলক হাসপাতাল ও গবেষণা কেন্দ্রের পুষ্টি ও ডায়েটিক্স বিভাগের প্রধান ডেলনাজ টি. চান্দুওয়াদিয়া জানান, একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা অনুযায়ী কলার পরিমাণ ও সময় নির্ধারণ করা নিরাপদ।
কলা খাওয়ার সেরা সময় কখন?
বিশেষজ্ঞরা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কলা খাওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন:
খাবারের মাঝে স্ন্যাকস হি
কলা আমাদের দেশের অতি পরিচিত এবং সহজলভ্য একটি ফল। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলটি যেমন সুস্বাদু, তেমনি শক্তি জোগাতেও অনন্য। তবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে যাদের প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়, অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কলা খাওয়া নিয়ে সব সময়ই এক ধরনের দ্বিধা কাজ করে। সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ফুড-এর এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কলা পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়; বরং সঠিক সময়, পরিমাণ এবং কলার পরিপক্কতা বিবেচনা করে এটি খাদ্যতালিকায় রাখা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীরা পরিমিত পরিমাণে কলা খেতে পারেন। কলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাঝারি, যার অর্থ এটি উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সম্পন্ন খাবারের তুলনায় ধীরে রক্তে শর্করা বৃদ্ধি করে।
জাসলক হাসপাতাল ও গবেষণা কেন্দ্রের পুষ্টি ও ডায়েটিক্স বিভাগের প্রধান ডেলনাজ টি. চান্দুওয়াদিয়া জানান, একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা অনুযায়ী কলার পরিমাণ ও সময় নির্ধারণ করা নিরাপদ।
কলা খাওয়ার সেরা সময় কখন?
বিশেষজ্ঞরা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কলা খাওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন:
খাবারের মাঝে স্ন্যাকস হিসেবে: দুপুরের বা রাতের ভারি খাবারের সাথে কলা না খেয়ে বরং সকাল বা বিকেলের নাস্তা হিসেবে এটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
ভারি কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে: ভাত বা রুটির মতো উচ্চ শর্করাযুক্ত খাবারের সাথে কলা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
সক্রিয় থাকাকালীন: দিনের এমন সময়ে কলা খাওয়া উচিত যখন শরীরের ক্যালোরি পোড়ানোর সুযোগ থাকে।
কাঁচা নাকি পাকা, কোনটি ভালো?
কলার পরিপক্কতার ওপর এর শর্করার পরিমাণ নির্ভর করে:
অল্প পাকা বা সবুজ কলা: এতে প্রতিরোধী স্টার্চ (Resistant Starch) বেশি থাকে এবং শর্করা কম থাকে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশি উপযোগী।
বেশি পাকা বা নরম কলা: কলা যত বেশি পাকে, এর স্টার্চ তত বেশি চিনিতে রূপান্তরিত হয়। তাই অতিরিক্ত পাকা কলা রক্তে দ্রুত শর্করা বাড়িয়ে দিতে পারে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কলার ৫টি উপকারিতা
সঠিক নিয়মে কলা খেলে ডায়াবেটিস রোগীরা বেশ কিছু স্বাস্থ্যগত সুবিধা পেতে পারেন:
১. ধীরগতির শক্তি সরবরাহ: কলার জটিল কার্বোহাইড্রেট শরীরে দীর্ঘক্ষণ শক্তি বজায় রাখে এবং বারবার ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমায়।
২. ফাইবারের উৎস: একটি মাঝারি আকারের কলায় প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে, যা রক্তে চিনি শোষণের গতি কমিয়ে দেয়।
৩. পটাশিয়াম ও ইলেক্ট্রোলাইট: কলা পটাশিয়ামের চমৎকার উৎস, যা পেশীর কার্যকারিতা সচল রাখে এবং শরীর চর্চার পর ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করে।
৪. ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: এটি ভিটামিন সি, বি৬ এবং প্রয়োজনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
৫. মানসিক প্রশান্তি: কলার ভিটামিন বি৬ শরীরে সেরোটোনিন তৈরিতে সাহায্য করে, যা মেজাজ ভালো রাখতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক।
কিছু জরুরি সতর্কতা
ডায়াবেটিস রোগীদের কলা খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের কয়েকটি বিশেষ পরামর্শ হলো:
পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ: একটি বড় কলার পরিবর্তে ছোট সাইজের কলা বা অর্ধেক কলা বেছে নিন।
রক্তে শর্করা পর্যবেক্ষণ: কলা খাওয়ার পর নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করুন।
শারীরিক পরিশ্রম: কলা খাওয়ার পর হালকা হাঁটাচলা বা শারীরিক ব্যায়াম করলে শর্করা দ্রুত ব্যবহৃত হয়ে যায়।
পরিশেষে বলা যায়, ডায়াবেটিস মানেই পছন্দের সব খাবার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নয়। বরং সচেতনতা এবং সঠিক নিয়ম মেনে চললে কলা হতে পারে আপনার স্বাস্থ্যকর ডায়েটের একটি অংশ। তবে যেকোনো পরিবর্তনের আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া উচিত।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ফুড