ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে নিরবে হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেইন স্ট্রোক হতে পারে
মি. কলিম সাহেব, মধ্যবয়সী একজন ব্যক্তি, দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন; তবে গ্লাইসেমিক নিয়ন্ত্রণ ছিল অনিয়মিত। গত কয়েকদিন ধরে তিনি বাম বক্ষদেশে অল্পমাত্রার, অনিয়মিত “চিনচিন” ধরনের অস্বস্তি অনুভব করছিলেন। উপসর্গটি তীব্র বা চাপধর্মী না হওয়ায় তিনি এটিকে গ্যাস্ট্রিকজনিত সমস্যা বলে ধরে নেন। তবুও সতর্কতার অংশ হিসেবে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে ইসিজি করান।
ইসিজি রিপোর্টে হার্ট অ্যাটাক (মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন)-এর প্রমাণ পাওয়া যায়। কলিম সাহেব আশ্চর্য ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন, কারণ প্রচলিত তীব্র বুকব্যথা, ঘাম বা বমিভাবের মতো উপসর্গ তার ছিল না।
চিকিৎসক তাকে আশ্বস্ত করে দ্রুত কার্ডিয়াক কেয়ারে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। ক্লিনিক্যালি এটি একটি নীরব হার্ট অ্যাটাক (silent myocardial infarction) হিসেবে নির্ণীত হয়।
সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক—কি ও কেন?
সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেইন স্ট্রোক এমন একটি অবস্থা, যেখানে প্রচলিত তীব্র উপসর্গ অনুপস্থিত বা অত্যন্ত মৃদু থাকে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে ভোগা রোগীদের মধ্যে Diabetic Neuropathy এর কারণে স্নায়ুর সংবেদনশীলতা কমে যায়। ফলে ইস্কেম
মি. কলিম সাহেব, মধ্যবয়সী একজন ব্যক্তি, দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন; তবে গ্লাইসেমিক নিয়ন্ত্রণ ছিল অনিয়মিত। গত কয়েকদিন ধরে তিনি বাম বক্ষদেশে অল্পমাত্রার, অনিয়মিত “চিনচিন” ধরনের অস্বস্তি অনুভব করছিলেন। উপসর্গটি তীব্র বা চাপধর্মী না হওয়ায় তিনি এটিকে গ্যাস্ট্রিকজনিত সমস্যা বলে ধরে নেন। তবুও সতর্কতার অংশ হিসেবে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে ইসিজি করান।
ইসিজি রিপোর্টে হার্ট অ্যাটাক (মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন)-এর প্রমাণ পাওয়া যায়। কলিম সাহেব আশ্চর্য ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন, কারণ প্রচলিত তীব্র বুকব্যথা, ঘাম বা বমিভাবের মতো উপসর্গ তার ছিল না।
চিকিৎসক তাকে আশ্বস্ত করে দ্রুত কার্ডিয়াক কেয়ারে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। ক্লিনিক্যালি এটি একটি নীরব হার্ট অ্যাটাক (silent myocardial infarction) হিসেবে নির্ণীত হয়।
সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক—কি ও কেন?
সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেইন স্ট্রোক এমন একটি অবস্থা, যেখানে প্রচলিত তীব্র উপসর্গ অনুপস্থিত বা অত্যন্ত মৃদু থাকে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে ভোগা রোগীদের মধ্যে Diabetic Neuropathy এর কারণে স্নায়ুর সংবেদনশীলতা কমে যায়। ফলে ইস্কেমিক ব্যথা বা নিউরোলজিক্যাল সংকেত যথাযথভাবে অনুভূত হয় না।
মি. কলিম সাহেবের ক্ষেত্রেও এই প্যাথোফিজিওলজি প্রযোজ্য—ইস্কেমিক ইভেন্ট (রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে কোষে ক্ষতি) ঘটেছে, কিন্তু উপসর্গ ছিল অস্পষ্ট ও অপ্রতুল।
কেন এমন হয়?
ডায়াবেটিস স্নায়ু ও ক্ষুদ্র রক্তনালীর ওপর বহুমাত্রিক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, যা ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি নামে পরিচিত। Diabetic Neuropathy-এর ফলে রোগীর ব্যথা অনুভবের পথ দুর্বল হয়ে যায় (American Diabetes Association, 2022)।
একই সঙ্গে রক্তনালীর এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন এবং রক্তনালীর ভেতরের দেয়ালে চর্বি জমে Atherosclerosis তৈরি করে, যার ফলে করোনারি (হার্টের) বা সেরিব্রাল (ব্রেইনের) রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয় (CDC, 2023)।
এছাড়া ডায়াবেটিসের সাথে উচ্চ রক্তচাপ (হাই প্রেসার) ও চর্বির অসাম্যতা (ডিসলিপিডেমিয়া) যুক্ত হলে Cardiovascular Disease এর ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পায় (IDF, 2021)।
এই সমন্বিত ঝুঁকিগুলো অনেক সময় ক্লিনিক্যালি নীরব ও অগ্রসরমান ক্ষতি (silent but progressive damage) তৈরি করে, যা হঠাৎ তীব্র জটিলতায় রূপ নেয়।
ডায়াবেটিস ধীরে ধীরে শরীরের সতর্ক সংকেত ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়। ফলে সচরাচর বা ক্লাসিক উপসর্গ ছাড়াই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ ঘটনা ঘটতে পারে (WHO, 2023; NICE, 2022)।
ডায়াবেটিস রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি
দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে বিষণ্নতা (depression) তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক অসুস্থতা, চিকিৎসার চাপ এবং জীবনযাত্রার সীমাবদ্ধতা মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ডায়াবেটিস ও ডিপ্রেশন একে অপরকে প্রভাবিত করে রোগের জটিলতা বাড়াতে পারে—যা সমন্বিত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। এছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে বিভিন্ন নিউরোডিজেনারেটিভ (মস্তিষ্কের কোষ ক্ষয়জনিত) রোগের ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি।
উপসংহার
কলিম সাহেবের (ছদ্মনাম) ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লিনিক্যাল বার্তা বহন করে— ডায়াবেটিস কখনোই মাত্র “উচ্চ রক্তে শর্করা” নয়; এটি একটি নীরব, বহুমাত্রিক ক্ষয়প্রক্রিয়া। নিয়মিত মনিটরিং, ঝুঁকি উপাদান নিয়ন্ত্রণ এবং উপসর্গের সূক্ষ্ম পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়াই পারে এমন নীরব কিন্তু প্রাণঘাতী জটিলতা প্রতিরোধ করতে।
লেখক. ডা. সাঈদ এনাম, সহযোগী অধ্যাপক সাইকিয়াট্রি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ