ডিবির এসআইসহ ৬ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

হবিগঞ্জের মাধবপুরে চিহ্নিত মাদক কারবারি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) ও পাঁচ কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে ডিবির এসআই মো. সাইফুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদ হোসেন, ইয়াকুব মিয়া ও মো. আলমগীর কবির এবং হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার কনস্টেবল শরীফুল ইসলাম খান ও মো. সোহাগ মিয়াকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন বিকেলে মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের দেবনগর গ্রামে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। এসআই মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন কনস্টেবল সাজ্জাদ হোসেন, ইয়াকুব মিয়া ও মো. আলমগীর কবির। তাদের সঙ্গে ছিলেন হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার কনস্টেবল শরীফুল ইসলাম খান ও মো. সোহাগ মিয়া। অভিযানকালে দেবনগর গ্রামের মৃত কালা মিয়ার ছেলে এবং পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি জুয়েল মিয়াকে (৩০) আটক করা হয়।  প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, তাকে হ্যান্ডকাফ পরানোর সময় জুয়েল পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে ডিবির দুই সদস্য আহত হন। একপর্যায়ে স্থানীয় ক

ডিবির এসআইসহ ৬ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

হবিগঞ্জের মাধবপুরে চিহ্নিত মাদক কারবারি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) ও পাঁচ কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে ডিবির এসআই মো. সাইফুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদ হোসেন, ইয়াকুব মিয়া ও মো. আলমগীর কবির এবং হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার কনস্টেবল শরীফুল ইসলাম খান ও মো. সোহাগ মিয়াকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন বিকেলে মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের দেবনগর গ্রামে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। এসআই মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন কনস্টেবল সাজ্জাদ হোসেন, ইয়াকুব মিয়া ও মো. আলমগীর কবির। তাদের সঙ্গে ছিলেন হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার কনস্টেবল শরীফুল ইসলাম খান ও মো. সোহাগ মিয়া। অভিযানকালে দেবনগর গ্রামের মৃত কালা মিয়ার ছেলে এবং পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি জুয়েল মিয়াকে (৩০) আটক করা হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, তাকে হ্যান্ডকাফ পরানোর সময় জুয়েল পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে ডিবির দুই সদস্য আহত হন। একপর্যায়ে স্থানীয় কিছু লোক ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সুযোগে জুয়েল হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যায়।

ধর্মঘর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মামুন মিয়া জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি জানতে পারেন ডিবি সদস্যরা সাদা পোশাকে থাকায় অনেকেই তাদের পরিচয় বুঝতে পারেননি। ফলে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর জুয়েলসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।

ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক বলেন, ‘সদর থানার দুই কনস্টেবলের মধ্যে শরীফুল ইসলাম খান এই ঘটনার ২ দিন পূর্বেই সদর থানা থেকে বদলি হয়ে ডিএসবিতে চলে গেছে৷ আর কনস্টেবল সোহাগ মিয়া আমার জ্ঞাতসারে সেখানে যাননি। অনুমতি ছাড়া যাওয়ায় ওই দিন তাকে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। ব্যক্তিগত কোনো কর্মকাণ্ডের দায় পুলিশ প্রশাসন নেবে না।’

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ মো. শামীম আহমেদ বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। তবে ডিবির একজন এসআইসহ ছয় পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের পেছনে বিভিন্ন প্রশাসনিক কারণ থাকতে পারে।’ এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে মাধবপুরসহ পুরো হবিগঞ্জ জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, অভিযানের সময় পুলিশের পরিচয় স্পষ্ট না হওয়া এবং সমন্বয়হীনতার কারণেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে কি না ?

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow