ডিম পুষ্টিকর, তবে এই ৫ খাবারের সঙ্গে না খাওয়াই ভালো
ডিম আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার একটি পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই খাবারটি সঠিকভাবে খেলে শরীরের জন্য উপকারী হলেও ভুল খাবার সংমিশ্রণে তা হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং পুষ্টি গ্রহণে বাধা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু খাবার আছে যেগুলোর সঙ্গে ডিম একসঙ্গে খাওয়া ঠিক নয়। এতে পেটের অস্বস্তি, গ্যাস, বদহজমসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডিমে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন ডি, প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। নিয়মিত পরিমিত ডিম খেলে পেশি শক্তিশালী হয়, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে, চোখের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ডিমের কুসুমে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন চোখের জন্য বিশেষ উপকারী। তবে ডিমের এসব উপকার পেতে হলে এটি কীভাবে এবং কোন খাবারের সঙ্গে খাওয়া হচ্ছে, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। নিচে ডিমের সঙ্গে যে ৫টি খাবার একসঙ্গে খাওয়া এড়িয়ে চলা ভালো, তা তুলে ধরা হলো: সয়া দুধ ডিম নিজেই প্রোটিনে সমৃদ্ধ। এর সঙ্গে সয়া দুধ খেলে শরীরে একসঙ্গে অতিরিক্ত প্রোটিন প্রবেশ করে, যা হজমে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে প্রোটিন ঠিকমতো শোষিত না হয়ে উল্টো উপক
ডিম আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার একটি পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই খাবারটি সঠিকভাবে খেলে শরীরের জন্য উপকারী হলেও ভুল খাবার সংমিশ্রণে তা হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং পুষ্টি গ্রহণে বাধা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু খাবার আছে যেগুলোর সঙ্গে ডিম একসঙ্গে খাওয়া ঠিক নয়। এতে পেটের অস্বস্তি, গ্যাস, বদহজমসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডিমে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন ডি, প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। নিয়মিত পরিমিত ডিম খেলে পেশি শক্তিশালী হয়, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে, চোখের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
ডিমের কুসুমে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন চোখের জন্য বিশেষ উপকারী। তবে ডিমের এসব উপকার পেতে হলে এটি কীভাবে এবং কোন খাবারের সঙ্গে খাওয়া হচ্ছে, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। নিচে ডিমের সঙ্গে যে ৫টি খাবার একসঙ্গে খাওয়া এড়িয়ে চলা ভালো, তা তুলে ধরা হলো:
সয়া দুধ
ডিম নিজেই প্রোটিনে সমৃদ্ধ। এর সঙ্গে সয়া দুধ খেলে শরীরে একসঙ্গে অতিরিক্ত প্রোটিন প্রবেশ করে, যা হজমে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে প্রোটিন ঠিকমতো শোষিত না হয়ে উল্টো উপকার কমে যেতে পারে। তাই ডিম ও সয়া দুধ আলাদা সময়ে বা আলাদা খাবারে খাওয়াই ভালো।
চা
অনেকেই নাশতার সময় ডিমের সঙ্গে চা পান করেন। কিন্তু চায়ে থাকা পলিফেনল নামের উপাদান প্রোটিন শোষণে বাধা দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ডিমের সঙ্গে চা খেলে প্রোটিন শোষণ প্রায় ১৫–২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। পাশাপাশি গ্যাস, পেট ফাঁপা বা অম্বলও হতে পারে। ডিম খাওয়ার অন্তত ৩০–৬০ মিনিট পর চা পান করাই নিরাপদ।
চিনি
ডিমের সঙ্গে চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া হজমের জন্য ভালো নয়। চিনি রক্তে দ্রুত শর্করার মাত্রা বাড়ায় এবং ডিমের অ্যামিনো অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। ডায়াবেটিস বা মেটাবলিক সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ডিমের সঙ্গে মিষ্টি খাবার বা মিষ্টি পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত।
কলা
ডিম ও কলা দুটিই পুষ্টিকর হলেও একসঙ্গে খেলে পেট ভারী লাগতে পারে। দুটো খাবারই হজম হতে সময় নেয়, ফলে একসঙ্গে খেলে পেট ফাঁপা বা অলস ভাব দেখা দিতে পারে। ডিম সকালে নাশতায় এবং কলা আলাদা সময়ে, যেমন মাঝের নাশতা হিসেবে খাওয়া ভালো।
মাংস
ডিম ও মাংস - দুটিই প্রোটিন ও চর্বিতে ভরপুর। একসঙ্গে খেলে হজমে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং খাওয়ার পর ক্লান্তি বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। তাই ডিমের সঙ্গে হালকা খাবার যেমন শাকসবজি, শস্য বা ফল রাখা বেশি উপযোগী।
ডিম নিঃসন্দেহে একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ ও উপকারী খাবার। তবে এর পুরো উপকার পেতে হলে সঠিক খাবার সংমিশ্রণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সয়া দুধ, চা, চিনি, কলা ও মাংসের মতো কিছু খাবারের সঙ্গে ডিম একসঙ্গে খাওয়া হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং পুষ্টি গ্রহণে বাধা দেয়।
সচেতনভাবে খাবার বেছে নিয়ে এবং সঠিক সময়ে ডিম খেলে শরীর সুস্থ থাকবে, হজম ভালো হবে এবং ডিমের পুষ্টিগুণ পুরোপুরি পাওয়া যাবে। সুস্থ থাকতে চাইলে খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে এই ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি।
সূত্র : Times of India
What's Your Reaction?