ডেডলাইন: শতবর্ষে চা-শ্রমিক আন্দোলন
স্বরলিপি ‘মুল্লুকে চলো’ আন্দোলন তখনকার রাজনীতি, ভারত এবং লন্ডনের সম্পর্ক কতটুকু বদলে দিয়েছিল—তার আঁচ পাওয়া যায় মুহাম্মদ ফরিদ হাসান লিখিত ‘শতবর্ষে চা-শ্রমিক আন্দোলন ডেডলাইন: ২০ মে ১৯২১’ শীর্ষক প্রবন্ধগ্রন্থে। ১৮৩৯ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আসামে চা চাষের গোড়াপত্তন করে। বাংলাদেশ অঞ্চলে ইংরেজ হার্ডসনের উদ্যোগে পনেরোশ’ একর জায়গাজুড়ে ‘মালনীছড়া চা-বাগান’র পত্তন করা হয় ১৮৪০ সালে। বাণিজ্যিকভাবে চা-বাগান করা শুরু হয় ১৮৫৪ সালে। বাগানের কাজ করার জন্য প্রথমে চীন থেকে শ্রমিক আমদানি করা হলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। শুরু হয় ভারতীয় শ্রমিক নিয়োগ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪–১৯১৮) চা ব্যবসায় আমূল পরিবর্তন এনে দেয়। বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে চা-বাগান মালিকেরা অভাবনীয় মুনাফা অর্জন করে। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ে। শ্রমিকদের পারিশ্রমিক কমিয়ে দেওয়া হয়, বন্ধ করে দেওয়া হয় অন্যান্য সুবিধাও। এর জের ধরে ১৯২১ সালের মে মাসে আসামের চা-বাগানের শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দেয়। চা-বাগান ছেড়ে তারা স্বদেশযাত্রা শুরু করে। সে সময় অসহযোগ আন্দোলন চলছিল। একটি আন্দোলন অন্যটিকে প্রভাবিত করে। হাজার হাজার শ্রমিক পায়ে হেঁটে
স্বরলিপি
‘মুল্লুকে চলো’ আন্দোলন তখনকার রাজনীতি, ভারত এবং লন্ডনের সম্পর্ক কতটুকু বদলে দিয়েছিল—তার আঁচ পাওয়া যায় মুহাম্মদ ফরিদ হাসান লিখিত ‘শতবর্ষে চা-শ্রমিক আন্দোলন ডেডলাইন: ২০ মে ১৯২১’ শীর্ষক প্রবন্ধগ্রন্থে।
১৮৩৯ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আসামে চা চাষের গোড়াপত্তন করে। বাংলাদেশ অঞ্চলে ইংরেজ হার্ডসনের উদ্যোগে পনেরোশ’ একর জায়গাজুড়ে ‘মালনীছড়া চা-বাগান’র পত্তন করা হয় ১৮৪০ সালে। বাণিজ্যিকভাবে চা-বাগান করা শুরু হয় ১৮৫৪ সালে। বাগানের কাজ করার জন্য প্রথমে চীন থেকে শ্রমিক আমদানি করা হলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। শুরু হয় ভারতীয় শ্রমিক নিয়োগ।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪–১৯১৮) চা ব্যবসায় আমূল পরিবর্তন এনে দেয়। বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে চা-বাগান মালিকেরা অভাবনীয় মুনাফা অর্জন করে। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ে। শ্রমিকদের পারিশ্রমিক কমিয়ে দেওয়া হয়, বন্ধ করে দেওয়া হয় অন্যান্য সুবিধাও। এর জের ধরে ১৯২১ সালের মে মাসে আসামের চা-বাগানের শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দেয়। চা-বাগান ছেড়ে তারা স্বদেশযাত্রা শুরু করে। সে সময় অসহযোগ আন্দোলন চলছিল। একটি আন্দোলন অন্যটিকে প্রভাবিত করে।
হাজার হাজার শ্রমিক পায়ে হেঁটে চাঁদপুর রেলস্টেশনে পৌঁছানোর পর স্টেশনের কর্মচারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে স্টেশনের লাইট বন্ধ করে ১৫ মিনিট ধরে নির্যাতন চালানো হয়।
এরপর কীভাবে তা কোথায় ছড়িয়ে পড়েছিল, কোন পর্যায়ে চা-বাগানের শ্রমিকদের একাংশ দেশে পৌঁছাতে পেরেছিল—এই আন্দোলনকে বিদেশি গণমাধ্যমগুলো কীভাবে উপস্থাপন করেছিল, তার অনেক কিছুই উঠে এসেছে মুহাম্মদ ফরিদ হাসানের গবেষণায়।
১৯৩০ সালে ভারতে মন্দা দেখা দেয়। দীর্ঘকাল ধরে চা উৎপাদন চলতে থাকলেও এই অঞ্চলের মানুষের কাছে চা জনপ্রিয়তা পায়নি। এদিকে আর্থিক খরচ বাঁচাতে দেশীয় বাজারে চা বিক্রি করতে অভিনব পদ্ধতিতে প্রচারণা চালানো হয়। বিনা মূল্যে চা, দুধ ও চিনি বিতরণ শুরু হয়। চা বানানোর কৌশলও শিখিয়ে দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে চা জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে।
দেশে বর্তমানে ১৬৭টি চা-বাগান আছে। ১ লাখ ৪০ হাজার শ্রমিক এসব বাগানে কাজ করেন। আজও ‘এ’ ক্যাটাগরির একজন চা-বাগান শ্রমিক ১২০ টাকা মজুরি পেয়ে থাকে।
বইয়ের নাম: শতবর্ষে চা-শ্রমিক আন্দোলন ডেডলাইন: ২০ মে ১৯২১
লেখকের নাম: মুহাম্মদ ফরিদ হাসান
প্রকাশক: পরিবার পাবলিকেশন্স
প্রচ্ছদ: আফসিন রেজা
মূল্য: ৫০০ টাকা।
এসইউ
What's Your Reaction?