ড্রইং রুমেই বিয়ে, রোনালদো-জর্জিনার ‘গোপন’ আয়োজনের ছবি প্রকাশ

বিয়েটা হয়েছে নীরবে, কোনো রাজকীয় ভেন্যুতে নয়- নিজেদের বসার ঘরে। ছিল না তারকায় ঠাসা বিশাল আয়োজন, ছিল না গণমাধ্যমের ভিড় কিংবা জাঁকজমকপূর্ণ মঞ্চ। সবচেয়ে কাছের মানুষ, পাঁচ সন্তান আর নিজেদের ঘিরে থাকা ভালোবাসাকেই বিয়ের দিনের কেন্দ্রবিন্দু করেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজ। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর গত ১১ আগস্ট পর্তুগালের কাসকাইসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেন রোনালদো ও জর্জিনা। প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর তাদের বিয়েটি যেমন ছিল প্রত্যাশার বাইরে, তেমনি ছিল অত্যন্ত ব্যক্তিগত। সম্প্রতি সেই বিশেষ দিনের প্রথম ছবিগুলো প্রকাশ করেছেন তারা। বিয়ের আয়োজনের ছবিগুলো প্রকাশিত হয়েছে ভোগের মাধ্যমে। সেখানেই সামনে এসেছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত এই দম্পতির ঘরোয়া বিয়ের নানা মুহূর্ত। সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে বিয়ের স্থান। কোনো বিলাসবহুল হোটেল, ঐতিহাসিক প্রাসাদ কিংবা সমুদ্রতীরের মনোরম ভেন্যু নয়- রোনালদো ও জর্জিনা বেছে নিয়েছিলেন নিজেদের বাড়ির বসার ঘর। জর্জিনার কাছে এই জায়গাটির গুরুত্বও আলাদা। পরিবারের সদস্যরা যেখানে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করেন, গল্প করেন এবং প্রতিদিনের সাধারণ মুহূর্তগুলো কাটান, সেই জায়গাকেই জী

ড্রইং রুমেই বিয়ে, রোনালদো-জর্জিনার ‘গোপন’ আয়োজনের ছবি প্রকাশ

বিয়েটা হয়েছে নীরবে, কোনো রাজকীয় ভেন্যুতে নয়- নিজেদের বসার ঘরে। ছিল না তারকায় ঠাসা বিশাল আয়োজন, ছিল না গণমাধ্যমের ভিড় কিংবা জাঁকজমকপূর্ণ মঞ্চ। সবচেয়ে কাছের মানুষ, পাঁচ সন্তান আর নিজেদের ঘিরে থাকা ভালোবাসাকেই বিয়ের দিনের কেন্দ্রবিন্দু করেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজ।

দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর গত ১১ আগস্ট পর্তুগালের কাসকাইসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেন রোনালদো ও জর্জিনা। প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর তাদের বিয়েটি যেমন ছিল প্রত্যাশার বাইরে, তেমনি ছিল অত্যন্ত ব্যক্তিগত। সম্প্রতি সেই বিশেষ দিনের প্রথম ছবিগুলো প্রকাশ করেছেন তারা।

বিয়ের আয়োজনের ছবিগুলো প্রকাশিত হয়েছে ভোগের মাধ্যমে। সেখানেই সামনে এসেছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত এই দম্পতির ঘরোয়া বিয়ের নানা মুহূর্ত।

সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে বিয়ের স্থান। কোনো বিলাসবহুল হোটেল, ঐতিহাসিক প্রাসাদ কিংবা সমুদ্রতীরের মনোরম ভেন্যু নয়- রোনালদো ও জর্জিনা বেছে নিয়েছিলেন নিজেদের বাড়ির বসার ঘর।

জর্জিনার কাছে এই জায়গাটির গুরুত্বও আলাদা। পরিবারের সদস্যরা যেখানে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করেন, গল্প করেন এবং প্রতিদিনের সাধারণ মুহূর্তগুলো কাটান, সেই জায়গাকেই জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনের জন্য বেছে নিতে চেয়েছিলেন তিনি।

তার ভাবনাটা ছিল আরও আবেগঘন। সন্তানরা যেন ভবিষ্যতে ফিরে তাকিয়ে মনে করতে পারে- তাদের বাবা-মা সেই একই টেবিলের পাশে বিয়ের অঙ্গীকার করেছিলেন, যে টেবিলকে ঘিরেই পরিবারের অসংখ্য সাধারণ দিনের গল্প জমা হয়েছে। অর্থাৎ বিয়েটি তাদের কাছে কোনো প্রদর্শনীর আয়োজন ছিল না; বরং পরিবারের প্রতিদিনের জীবনের সঙ্গে মিশে থাকা একটি স্মৃতি।

বিয়ের পোশাকেও ছিল সেই ব্যক্তিগত গল্পের ছাপ। প্রচলিত ভারী সাদা গাউনের বদলে জর্জিনা বেছে নেন গুচির তৈরি সাদা শার্ট ও সাদা সিল্কের মিডি স্কার্ট। পোশাকের কাট ছিল সাদামাটা, তবে তাতে ছিল আভিজাত্যের স্পষ্ট ছাপ। সঙ্গে ছিল গুচির পাম্পস।

রোনালদোও পরেছিলেন কাস্টম গুচি স্যুট। ফলে দুজনের পোশাকেই ছিল একই ব্র্যান্ডের ছোঁয়া। আর গুচিকে বেছে নেওয়ার পেছনেও রয়েছে তাদের সম্পর্কের একটি বিশেষ গল্প।

রোনালদো ও জর্জিনার প্রথম পরিচয় হয়েছিল মাদ্রিদের একটি গুচি স্টোরে। তখন জর্জিনা সেখানে কাজ করতেন। সেই প্রথম পরিচয়ের প্রায় এক দশক পর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনের পোশাক তৈরি করল সেই একই ফ্যাশন হাউস। ফলে পোশাকের পছন্দটাও হয়ে উঠেছে তাদের সম্পর্কের শুরুতে ফিরে যাওয়ার এক প্রতীকী মুহূর্ত।

সাদামাটা পোশাক হলেও বিয়ের দিনে জর্জিনার অলংকারে ছিল যথেষ্ট আভিজাত্য। তার আঙুলে ছিল নজরকাড়া এনগেজমেন্ট রিং। গলায় ছিল শোপার্ডের তৈরি একটি নেকলেস, যাতে ছিল ৫০ ক্যারেটের হীরা।

সাজেও ছিল জাঁকজমক কম, রুচিশীলতা বেশি। খোলা চুল এক পাশে সরিয়ে রেখেছিলেন জর্জিনা। স্বাভাবিক রঙের মেকআপ, নিউড লিপস ও মিল্কি নখের সাজ তার পুরো লুককে আরও পরিপাটি করে তুলেছিল।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও উদ্‌যাপন সেখানেই থামেনি। পরে তারা ব্যক্তিগতভাবে ফাতিমার আওয়ার লেডি অব দ্য স্যাংচুয়ারিতে গিয়ে ধর্মীয় আশীর্বাদ নেন। এতে বিয়ের সঙ্গে পরিবার ও বিশ্বাসের বিষয়টিও আরও গভীরভাবে যুক্ত হয়।

সবচেয়ে বড় বিষয়, এই পুরো আয়োজন ছিল তাদের পাঁচ সন্তানকে ঘিরে। রোনালদো ও জর্জিনার জীবনে সন্তানরা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিয়ের দিনটিকেও তারা বড় কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান না বানিয়ে পরিবারের একটি বিশেষ দিনে পরিণত করেছেন।

অবশ্য ভবিষ্যতে বড় পরিসরে আরেকটি উদ্‌যাপন হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন জর্জিনা। তবে রোনালদোর ব্যস্ত ফুটবল সূচির কারণে আপাতত সেটি নিয়ে কোনো তাড়াহুড়া নেই।

৪১ বছর বয়সী রোনালদোর জন্য সময়টাও বিশেষ। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০২৬-২৭ মৌসুমই হতে পারে পেশাদার ফুটবলে তার শেষ মৌসুম। অর্থাৎ একই সময়ে ব্যক্তিজীবনেও এসেছে বড় পরিবর্তন, পেশাগত জীবনেও দাঁড়িয়ে আছেন সম্ভাব্য বিদায়ের সামনে।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রোনালদোর জীবন ছিল কোটি মানুষের চোখের সামনে। মাঠের প্রতিটি মুহূর্ত, সম্পর্ক, সন্তান, বিলাসবহুল জীবন- সবকিছুই বরাবর ছিল আলোচনায়। সেই রোনালদোই জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি বেছে নিলেন ক্যামেরার ঝলকানি থেকে দূরে।

বিয়ের প্রথম ছবিগুলো প্রকাশের পর তাই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে আয়োজনের আড়ম্বর নয়, বরং তার সরলতা। বসার ঘরের পরিচিত পরিবেশ, একই টেবিল, সন্তানদের উপস্থিতি এবং কাছের মানুষদের ঘিরে বিয়ের এই আয়োজন যেন রোনালদো-জর্জিনার সম্পর্কের অন্য এক গল্পই বলছে।

বছরের পর বছর জনসম্মুখে জীবন কাটানোর পর শেষ পর্যন্ত তারা ‘হ্যাঁ’ বলার জন্য বেছে নিলেন নিজেদের ঘরকেই। আর সেই কারণেই হয়তো তাদের এই বিয়ের ছবিগুলো এতটা ব্যক্তিগত, আবেগঘন ও বিশেষ হয়ে উঠেছে।

আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow