ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ

মৌলভীবাজারে আবারও হবিগঞ্জ-সিলেট রুটের বিরতিহীন বাস চলাচলে বাধা ও শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন হবিগঞ্জ মটর মালিক গ্রুপ ও জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা।  শনিবার (১৬ মে) দুপুর ১২টার দিকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকায় কয়েকটি বাস আড়াআড়িভাবে রেখে মহাসড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করেন পরিবহন শ্রমিকরা। ফলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে নারী, শিশু, রোগী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ ও পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের আশ্বাসে দুপুর ২টার দিকে সাময়িকভাবে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছেন বলে জানা গেছে। বৈঠকের ফলাফলের ওপর পরবর্তী কর্মসূচি নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন বাস মালিক সমিতির নেতারা। হবিগঞ্জ জেলা মটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সুহেল চৌধুরী জ

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ

মৌলভীবাজারে আবারও হবিগঞ্জ-সিলেট রুটের বিরতিহীন বাস চলাচলে বাধা ও শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন হবিগঞ্জ মটর মালিক গ্রুপ ও জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। 

শনিবার (১৬ মে) দুপুর ১২টার দিকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকায় কয়েকটি বাস আড়াআড়িভাবে রেখে মহাসড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করেন পরিবহন শ্রমিকরা। ফলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে নারী, শিশু, রোগী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ ও পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের আশ্বাসে দুপুর ২টার দিকে সাময়িকভাবে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছেন বলে জানা গেছে। বৈঠকের ফলাফলের ওপর পরবর্তী কর্মসূচি নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন বাস মালিক সমিতির নেতারা।

হবিগঞ্জ জেলা মটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সুহেল চৌধুরী জানান, গত ১৪ মে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবিগঞ্জ থেকে মৌলভীবাজার হয়ে সিলেট রুটে পুনরায় বিরতিহীন বাস চলাচল শুরু হয়। কিন্তু শনিবার সকাল থেকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ‘মৌলভীবাজার এসএমএস বাস মালিক সমিতি’-র লোকজন হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন এক্সপ্রেস সার্ভিসের কয়েকটি বাস আটকে চালক ও স্টাফদের মারধর করে।

তিনি বলেন, ‘এর প্রতিবাদে আমরা মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছি। প্রশাসন যদি কার্যকর সমাধান দিতে পারে তাহলে গাড়ি চলবে, অন্যথায় আবারও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

হবিগঞ্জ মটর মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. ফজলুর রহমান চৌধুরী অভিযোগ করেন, বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্ত কার্যকর না করে পেশিশক্তির মাধ্যমে বারবার হবিগঞ্জের বাস চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে মৌলভীবাজারে। তিনি বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে বাস আটকানোর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি প্রশাসনের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞার শামিল।

পরিবহন শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট রুটে বিরতিহীন বাস চলাচলকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ বিরতিহীন পরিবহন ও মৌলভীবাজার এসএমএস বাস মালিক সমিতির মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। কয়েকদিন আগেও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মৌলভীবাজারের শেরপুর এলাকায় হবিগঞ্জের বাস আটক ও চালকদের মারধরের ঘটনায় টানা দুই দিন হবিগঞ্জ থেকে সিলেটে বাস চলাচল বন্ধ ছিল।

এদিকে অবরোধের কারণে সাধারণ যাত্রীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। জরুরি চিকিৎসা, চাকরি, পরীক্ষা কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াতকারী মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি কেউ বিবেচনায় নিচ্ছে না।

ভুক্তভোগী যাত্রীরা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘দুই জেলার বাস মালিক সমিতির বিরোধের দায় সাধারণ মানুষ কেন বহন করবে? ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষার জন্য গাড়ি আটক করে বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে কোনো দাবি আদায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত দুই পক্ষের বিরোধ নিষ্পত্তি করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে স্থায়ী শান্তি ও স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করবে।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ বলেন, ‘বর্তমানে মহাসড়কে কোনো অবরোধ নেই। স্থায়ী সমাধানের জন্য উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ বলেন, ‘অবরোধ এখন আর নেই। হবিগঞ্জের বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বৈঠকে বসেছি। সমাধানের জন্য আলোচনা চলছে।’
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow